ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১, ১০ আষাঢ় ১৪২৮

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

চুয়াডাঙ্গায় বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের উদ্দ্যোগে অসহায় পরিবারের মুখে হাঁসি 


Ekushey Sangbad
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি 
০৫:২৪ পিএম, ১৩ মে, ২০২১
চুয়াডাঙ্গায় বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের উদ্দ্যোগে অসহায় পরিবারের মুখে হাঁসি 

আমাকে ৩শ’ টাকা দিবেন, আমি আমার একমাত্র আদরের ছোট্র বোনকে একটা পরী ড্রেস কিনে দিবো। তাহলে আর আমার কিচ্ছু লাগবে না। আপনার যে কাজ করে দিয়েছি তার জন্য এই পারিশ্রমিক টুকু দিলেই আমি আমার বোনকে এই ঈদে একটা পরী ড্রেস কিনে দিতে পারতাম। খুব খুশি হবে আমার ছোট্র বোন। এমনই ছিলো ছোট্র কিশোর তৌফিকের চাওয়া। বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের নের্তৃবৃন্দদের উদ্দ্যোগে ছোট্র কিশোরের স্বপ্ন পূরনে এগিয়ে আসলো শরীফ ট্রেডিং এজেন্সীর চেয়ারম্যান বিপুল শরীফ।

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার হাজরাহাটি গ্রামের দিনমজুর রাজিব ও স্ত্রী সাগরিকা। ফুটফুটে দুটি সন্তান ১২ বছর বয়সী তৌফিক ও ৭ বছরের হালিমা খাতুনকে নিয়ে চারজনের সংসার। চাটায়ের বেড়া, টিনের চাল আর কাদা-মাটির মেঝেতে ছোট্র ঘরে অভাব-অনটন থাকলেও পারস্পরিক আন্তরিকতার কোন অভাব নেই ওই পরিবারের চার সদস্যের মাঝে। সাগরিকা গেল ১ বছর ধরে কিডনি রোগে আক্রান্ত। দিনমজুর রাজিবও সপ্তাহ খানেক ধরে অসুস্থ্য।

পরিবারের একমাত্র উপার্জন করা ব্যাক্তি রাজিব অসুস্থ হওয়ার কারনে গেল ৭ দিন তাদের উপার্জন বন্ধ। সপ্তাহ খানেক ধরে দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে না খেয়ে চলছে তাদের সংসার। কিডনি রোগে আক্রান্ত সাগরিকার চিকিৎসা আর রাজিবের ওষুধ কেনার টাকা জোগাড় করতে হীমশিম খেতে হচ্ছে সবাইকে। তারপর আবার সামনে ঈদ।

প্রতিবেশিসহ মহল্লার সকলে ঈদের দিন পড়বে নতুন জামা-কাপড়। প্রতিবেশিদের ঘরে রান্না হবে সেমাই-মাংশ-পোলাওসহ হরেক রকম খাবার। সবকিছু মিলিয়ে পরিবারের অসহায়ত্বকে কোমলমতি কিশোর তৌফিকের কোমল মনে নাড়া দিয়ে ওঠে। মনের অজান্তেই সে বেড়িয়ে পড়ে কাজের সন্ধানে।

কে দেবে তৌফিককে একটা কাজ ? কে বাড়িয়ে দেবে সহায়তার হাত ? করোনার সংক্রমণ রোধে সারাদেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গাতেও চলছে লকডাউন। কাজ না পাওয়া তৌফিক কোন উপায়ন্তর না পেয়ে একটি পাখিভ্যান ভাড়ায় নেই। সৃষ্টিকর্তার কি অপার মহিমা। সৃষ্টিকর্তা চাইলে ঠেকায় কে? সৃষ্টিকর্তার কুদরোতী নজরে তৌফিক পৌছে গেল যোগ্য ব্যাক্তির কা্ছে।

দিনটি ছিল ১১ মে বুধবার। চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের পৌরকলেজ পাড়ায় একটি বাড়িতে চলছে নির্মাণ কাজ। তৌফিক তার পাখিভ্যান দিয়ে ওই বাড়ির কিছু মালামাল বহন করে। দুপুরের দিকে নির্মানাধীন বাড়ির মালিক শরীফ ট্রেডিং এজেন্সীর চেয়ারম্যান বিপুল শরীফের নিকট যায় তৌফিক।

বিপুল শরীফের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে তৌফিক তাকে বলে, স্যার আমাকে আপনি ৩শ’ টাকা দিবেন? আমি আমার বোনের জন্য একটা পরী ড্রেস কিনে দিবো। ঈদের দিন পরী ড্রেসে আমার ছোট্র বোনটিকে বেশ মানাবে। আমার বোনের মুখে একটু হাসি ফুঁটবে। দিবেন স্যার আমাকে ৩শ’ টাকা? কোমলমতি ছোট্র কিশোরের কথাগুলো বিপুল শরীফের হৃদয়কে নাড়া দেয়।

তিনি তৌফিকের বাড়ির ঠিকানা নেয়। যেমন কথা তেমন কাজ। খবর দেয়া হয় বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান হিমেল, সাধারণ সম্পাদক ওয়াসী হাসান রাব্বি ও ছাত্রলীগ নেতা অয়ন হাসান জোয়ার্দ্দারকে। বিপুল শরীফের কাছ থেকে সবকিছু শুনে উদ্দ্যোগী হয়ে হিমেল, রাব্বি ও অয়ন যায় তৌফিকদের বাড়ি হাজরাহাটি গ্রামে। তারা খোঁজ-খবর নিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে সন্ধায় তৌফিককে সাথে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা শহরের রেলবাজারে অবস্থিত বিপুল শরীফের অফিসে যায়।

বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের নের্তৃবৃন্দ এবং বিপুল শরীফ সন্ধায় তৌফিককে নিয়ে যায় চুয়াডাঙ্গা শহরের প্রিন্স প্লাজায়। সেখানে তৌফিক ও হালিমার জন্য কিনে দেয়া হলো উন্নতমানের পোশাক। সেই সাথে কিনে দেয়া হলো তৌফিকের বাবা রাজিবের লুঙ্গী-গেঞ্জী-লুঙ্গী আর মা সাগরিকার জন্য শাড়ি। এটুকুতেই থেমে থাকেনি বিপুল শরীফ। পোলাওয়ের চাল আর সেমাই-মাংশসহ কিনে দিলেন ঈদের খাবার সামগ্রী। 

বুধবার রাতে বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের নের্তৃবৃন্দদের সাথে নিয়ে যাওয়া হয় হাজরাহাটি গ্রামে তৌফিকদের বাড়িতে। নতুন কাপড়সহ ঈদ সামগ্রীগুলো তৌফিকের বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেয়া হয়। নতুন পোশাক ও খাবার পেয়ে খুশিতে সবার চোখ দিয়ে গড়াতে থাকে আনন্দের অশ্রুধারা।