জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এআইএস) বিভাগের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের (২১তম ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠান বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৩ মে ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩১৫ নম্বর কক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রইস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. সাবরিনা শারমিন এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আলী নূর।
অনুষ্ঠানে দেশের স্বনামধন্য কর্পোরেট ও পেশাজীবী ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আইসিএবি’র সভাপতি এন কে এম মুবিন এফসিএ, আইসিএমএবি’র সভাপতি মো. কাউসার আলম এফসিএমএ, আইসিএসবি’র সভাপতি হোসাইন সাদাত এফসিএস, আইসিএবি’র সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ফরকান উদ্দিন এফসিএ, বারাকা গ্রুপের চেয়ারম্যান ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী, ডিএসই’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর নুজহাত আনোয়ার, আইসিএবি’র সহ-সভাপতি মো. রোকনুজ্জামান এফসিএ, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. সাঈদ আহমেদ এবং ওয়ালটন হাই-টেকের ডিএমডি মোহাম্মদ রাফিকুল ইসলাম এফসিএস।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এআইএস বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামসুর নাহার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রইস উদ্দিন বলেন, “নতুন ২৮৭২ শিক্ষার্থীর আগমনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে।” তিনি সবাইকে ‘টিম জগন্নাথ’ হিসেবে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আলী নূর তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এআইএস বিভাগ সময়োপযোগী ও আধুনিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে তথ্যপ্রযুক্তি ও হিসাববিজ্ঞানের সমন্বয় শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। নবীনদের উচিত শুরু থেকেই লক্ষ্য নির্ধারণ করে অধ্যবসায় ও সততার সাথে এগিয়ে যাওয়া।”
এআইএস বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামসুর নাহার বলেন, “এই বিভাগ শুধু জ্ঞান অর্জনের জায়গা নয়, বরং নিজেকে দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তোলার একটি প্ল্যাটফর্ম। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি নৈতিকতা ও নেতৃত্বগুণে সমৃদ্ধ হয়ে দেশ ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখুক।”
শিক্ষকদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “এই বিভাগ আমাদের স্বপ্ন ও গর্বের প্রতীক। একদিন এ বিভাগ এমন উচ্চতায় পৌঁছাবে, যেখানে এটি দেশের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল হয়ে উঠবে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নবীন শিক্ষার্থী অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “এআইএস বিভাগে ভর্তি হতে পেরে আমি গর্বিত। এই আয়োজন আমাকে ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রাণিত করেছে। সিনিয়রদের আন্তরিকতা সত্যিই মুগ্ধ করেছে।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, নতুন শিক্ষার্থীদের ক্লাস কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং একটি ইতিবাচক একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি প্রাণবন্ত ও স্মরণীয় হয়ে ওঠে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

