জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের ১০১৬ নং কক্ষে বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষ (৫৩ ব্যাচ) সিনিয়র কর্তৃক প্রথম বর্ষ (৫৪ ব্যাচ) অসদাচরণ ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টার সময় হলের উক্ত কক্ষে এ ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে হল সংসদ ও জাকসুর প্রতিনিধিরা এসে রুমটিতে অভিযান চালালে সেখানে ৫৩ ব্যাচের ৯জন ও ৫৪ ব্যাচের ১২জনকে উপস্থিত পাওয়া যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, রুমটির ভিতরে ১০ থেকে বারোজনের জুতা একপাশে রেখে দেয়া ছিল ও ৫৪ ব্যাচের প্রত্যেকে একপাশে দন্ডায়মান এবং তাদের মোবাইল ফোনগুলো টেবিলের উপরে বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যে, রাত বারোটার দিকে উক্ত কক্ষের রুমটি ভিতর থেকে আটকিয়ে ভিতরে অকথ্য ভাষায় ভীষণভাবে গালিগালাজ ও চিল্লাচিল্লি করতে শুনা যায়।
ঘটনাটি অস্বাভাবিক লাগলে তাদেরকে(৫৩ ব্যাচ) জিজ্ঞেস করা হলে তারা বলে, "আমরা আমাদের জুনিয়রদের নিয়ে রুমে মুড়ি পার্টি দিচ্ছিলাম। তাদের সাথে সৌজন্যমূলক কথাবার্তার জন্যই তাদের ডাকা হয়েছিল।"
এদিকে ৫৪ ব্যাচকে তখন ভীত অবস্থায় পাওয়া যায়। রুমে উপস্থিতির বিষয়ে তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হলে তারা বলে, "আমরা বড় ভাইদের সাথে মুড়ি খাওয়ার জন্য এসেছিলাম।"
রুমটিতে ৫৪ ব্যাচের শুধু কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীরাই ছিল না। পার্শ্ববর্তী শহীদ রফিক জব্বার হলের ৬জনও উপস্থিত ছিল।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও জাকসুর তথ্য ও গ্রন্থাগার বিষয়ক সম্পাদক লিখন বলেন,
গত রাতে প্রায় ১২টার দিকে আমি একটি ফোন কল পাই। ফোনে আমাকে জানানো হয় যে কাজী ইসলাম হলের টপ ফ্লোরের ১০১৬ নম্বর রুমে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমি হলে উপস্থিত হই।
হলে এসে দেখি, আমাদের কয়েকজন সাংবাদিক ভাই এবং হল সংসদের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা (ভিপি ও জিএস) সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তারা ইতোমধ্যে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট স্যারকেও অবগত করেছিলেন। পরে আমরা সবাই মিলে ১০১৬ নম্বর রুমে যাই এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করি।
আমি সেখানে গিয়ে লক্ষ্য করি, ৫৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনগুলো টেবিলের একপাশে বন্ধ অবস্থায় রাখা ছিল। এছাড়া তাদের জুতাগুলোও রুমের বাইরে না রেখে ভেতরে রাখা ছিল। সামগ্রিক পরিস্থিতি দেখে আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে, সেখানে আইনের পরিপন্থী বা নিয়মবহির্ভূত কোনো সমাবেশ বা কার্যক্রমের মতো একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
তবে ৫৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যে এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে যে তারা মূলত মুড়ি পার্টির উদ্দেশ্যে সেখানে একত্রিত হয়েছিল।
এ সময় জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক ও বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আহসান লাবিব বলেন, গত রাতে প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে আমি জানতে পারি যে কাজী নজরুল ইসলাম হল-এর একটি কক্ষে ৫৩ ও ৫৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের একটি সমাবেশ হয়েছে। বিষয়টি জানার পর আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই এবং সেখানে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে, তা জানার চেষ্টা করি।
এ সময় ৫৩ ও ৫৪ ব্যাচের উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ জানায় যে সেখানে র্যাগিংয়ের মতো একটি ঘটনা ঘটেছে।
এই অভিযোগ শোনার পর আমি বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখি এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলি। তবে অন্য পক্ষের শিক্ষার্থীরা এমন কোনো ঘটনার কথা অস্বীকার করে এবং জানায় যে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।
তিনি আরো বলেন, এই পরিস্থিতিতে আমরা বিষয়টি হল কর্তৃপক্ষকে অবগত করি। হল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য বা স্টেটমেন্ট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে তারা তাদের বক্তব্য দিচ্ছে এবং হল সংসদ ও হল কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এসময় হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রোভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক ঘটনাটি জানতে পেরে হল ছাত্রসংসদকে তাদের তথ্য ও উভয় ব্যাচের মুচলেকা নেয়ার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘৫৩ ও ৫৪ ব্যাচ থেকে দুটি লিখিত বক্তব্য পেয়েছি। সেগুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

