AB Bank
  • ঢাকা
  • শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

পদ্মার দুর্গম চরে চীনা বাদামের ‘বাম্পার’ ফলন, চরাঞ্চলে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা



পদ্মার দুর্গম চরে চীনা বাদামের ‘বাম্পার’ ফলন, চরাঞ্চলে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

যেখানে একসময় ছিল ধু-ধু বালুচর আর অনাবাদি জমি, সেখানে এখন সবুজের সমারোহ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলাতুলি ইউনিয়নের রাণিনগর এলাকার পদ্মার জেগে ওঠা দুর্গম চরে এবার চীনা বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) ও স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় অনাবাদি চরাঞ্চল এখন কৃষকদের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে এই চরাঞ্চলের প্রায় ১১০০ থেকে ১৫০০ বিঘা জমিতে চীনা বাদামের আবাদ হয়েছে। আগে যেখানে কোনো ফসল চাষ সম্ভব হতো না, সেই পতিত জমিগুলো এখন কৃষকদের আয়-রোজগারের গুরুত্বপূর্ণ উৎসে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ বালুচরজুড়ে সবুজ চীনা বাদামের ক্ষেত। কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ফসল ঘরে তোলার কাজে। তাদের ভাষ্য, কয়েক বছর আগেও এসব জমি পদ্মা নদীর তলদেশে ছিল। নদী থেকে চর জেগে ওঠার পর বিনা ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ, উন্নত জাতের বীজ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তায় তারা বাদাম চাষে সফলতা পেয়েছেন।

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক ও কৃষক মহব্বত আলী বলেন, “যে জমিতে আগে কোনো ফসল হতো না, সেখানে এখন বাদাম চাষ করে ভালো লাভ হচ্ছে। বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকার বাদাম বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। এতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা লাভ থাকে। আমাদের দেখে এখন অনেক কৃষক বাদাম চাষে আগ্রহী হয়েছেন।”

কৃষক মুখলেসুর রহমান বলেন, “বিঘাপ্রতি প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। ভালো ফলন হলে প্রায় ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ পাওয়া যায়। কৃষি বিভাগের সহায়তায় আমরা সার, বীজ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেয়েছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আরও বেশি জমিতে বাদাম চাষ করা সম্ভব হবে।”

আরেক কৃষক বেলাল আলী জানান, “বিনা-৪ ও বিনা-৮ জাতের বীজ ব্যবহার করে আমরা ভালো ফলন পেয়েছি। আগে এসব জমিতে শুধু বালু ছিল। এখন পুরো চরজুড়ে বাদামের চাষ হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় এক হাজার থেকে দেড় হাজার বিঘা জমিতে বাদাম আবাদ হয়েছে। বিঘাপ্রতি ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাচ্ছে।”

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চরাঞ্চলের বেলে মাটিতে চীনা বাদামের উৎপাদন ভালো হওয়ায় এ ফসল কৃষকদের কাছে লাভজনক বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেলে আগামী বছরগুলোতে এ আবাদ আরও সম্প্রসারিত হবে।

স্থানীয় কৃষকদের আশা, সরকারি সহায়তা ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে পদ্মার চরাঞ্চল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাদাম উৎপাদন অঞ্চলে পরিণত হতে পারে। এতে একদিকে অনাবাদি জমির ব্যবহার বাড়বে, অন্যদিকে চরবাসীর জীবনমান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!