AB Bank
  • ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ: নারীর নিরাপত্তাই বড় চ্যালেঞ্জ


Ekushey Sangbad
একুশে সংবাদ ডেস্ক
০৫:১২ এএম, ৮ মার্চ, ২০২৬

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ: নারীর নিরাপত্তাই বড় চ্যালেঞ্জ

আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। তবে দেশে নারী ও কন্যাশিশুর ওপর সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে থাকায় তাদের নিরাপত্তা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গলা কাটা অবস্থায় আট বছরের এক কন্যাশিশুর হাঁটার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ইরা নামের ওই শিশুটিকে স্থানীয় শ্রমিকরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। গত মঙ্গলবার ভোরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রতিবেশী বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি নয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ও কন্যাশিশুর ওপর সহিংসতার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। গত বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ঈদের কাপড় কিনতে গিয়ে চার সন্তানের এক জননী ধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের শিকার হন। এর আগের দিন কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ ওঠে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ২৫৩টি। এর মধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ৩৩টি এবং ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা পাঁচটি।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, গত পাঁচ বছরে নারী ও শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণসংক্রান্ত মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে এ ধরনের মামলা হয়েছে ২২ হাজার ৪৩১টি এবং ২০২৪ সালে ১৭ হাজার ৫৭১টি।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ১১ মাসে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন প্রায় দুই হাজার ৬৪৯ জন নারী ও কন্যাশিশু।

এমন পরিস্থিতিতে সদ্য নির্বাচিত সরকারের জন্য নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অপরাধীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে এ ধরনের অপরাধ কমানো কঠিন হবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, নির্বাচন-পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে দেশে প্রায়ই অস্থিরতা দেখা যায়। তবে এবার সামাজিক অস্থিরতা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যার প্রভাব নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় প্রতিফলিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, মাদকের বিস্তার এবং স্থানীয় ও রাজনৈতিক প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের উৎসাহিত করছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত বিচার এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ওপরও জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সাবেক নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভিন হক বলেন, নারীকে ভোগ্যবস্তু হিসেবে দেখার মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। এজন্য শুধু নারীর শিক্ষা নয়, পুরুষের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

এ বছর আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার।’

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!