AB Bank
ঢাকা শুক্রবার, ০১ মার্চ, ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

শ্রীমঙ্গলে ‘অবসর-আমার আনন্দ ভুবন’ নির্মাণ প্রকল্পটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি


শ্রীমঙ্গলে ‘অবসর-আমার আনন্দ ভুবন’ নির্মাণ প্রকল্পটি এখনো আলোর মুখ দেখেনি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ষাটোর্ধ্ব জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের জন্য দেশের প্রথম ও একমাত্র বিশেষায়িত মেডিকেল রিসোর্ট ‘অবসর-আমার আনন্দ ভুবন‍‍` এর নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। কিছুদিন কাজ করার পর প্রায় ১০-১২ ভাগ কাজ হবার পর প্রকল্পটি অনেকটাই মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রাইভেট পার্টনারের অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

 তথ্যানুন্ধানে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের কোথাও একটি আধুনিক বৃদ্ধাশ্রম করার কথা ভাবছিলেন। সে ভাবনার বাস্তবায়নে বিভিন্ন স্থানে জমি দেখা হয়। অবশেষে প্রবাসী অধ্যুষিত বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের প্রবাসী বাংলাদেশীদের রেখে যাওয়া নিঃসঙ্গ পিতা-মাতাদের দুর্ভোগ-দুর্দশার কথা চিন্তা করে তাদের সামান্য খরচে থাকা-খাওয়া, চিকিৎসা সুবিধা, চিত্তবিনোদন, খেলাধূলা, শরীর চর্চা, ধর্ম চর্চাসহ লেখাপড়ার সুযোগ করে দেবার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ‘অবসর প্রকল্প’ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

 এরই অংশ হিসেবে ২০০১ সালের প্রথমদিকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালিঘাট রোডস্থ শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে নিরিবিলি মনোরম পরিবেশে ফিনলে টি কোম্পানির ৫.৬০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। অধিগ্রহণকৃত জমিতে বৃদ্ধাশ্রম অবসর প্রকল্প বাস্তবায়নে তৎকালীন সময়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ কোটি টাকা। গণপূর্ত বিভাগের অধীনে এই প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাউন্ডারি দেওয়াল ও প্রকল্পেরস্থানে মাটি ভরাট করে ভবন নির্মাণের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ প্রকল্পটি থমকে দাঁড়ায়। পুরোপুরি অবসরে চলে যায় বৃদ্ধাশ্রম ‘অবসর প্রকল্প’ নির্মাণ কাজ। ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শেখ হাসিনা পুনরায় এটি নিয়ে কাজ শুরু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করেন। এরই মাঝে সরকার এক নীতিমালায় ষাট বছর বা তদুর্ধ্বদের জ্যেষ্ঠ নাগরিকের স্বীকৃতি প্রদান করে। নীতিমালাতে প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্য, আবাসন, যানবাহনে আসন সংরক্ষণসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। 

যার ফলে ‘অবসর’ প্রকল্পটি আধুনিকায়ন করে মেডিকেল রিসোর্ট করার লক্ষ্যে সরকার নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণ করে। যার নামকরণ করা হয় ‘অবসর-আমার আনন্দ ভুবন’। ২০১৭ সালে ওই প্রকল্পের দরপত্র আহবান করা হয়। প্রকল্পের কার্যাদেশ লাভ করে রাজধানীর ‘চারুতা প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ওই বছরের ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তর ও ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মধ্যে এ বিষয়ে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশীপ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী মরহুম আবুল মাল আব্দুল মুহিত। 

বিশেষ অতিথি ছিলেন তৎকালীন ও বর্তমান রাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তৎকালীন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, তৎকালীন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। অনুষ্ঠানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ নুরুল কবির ও ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্ত্তী গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছিলেন, শ্রীমঙ্গলের নির্মিতব্য মেডিকেল রিসোর্টটি গতানুগতিক কোনো বৃদ্ধাশ্রম বা প্রবীন নিবাস নয়। বৃদ্ধাশ্রম বা প্রবীন নিবাসে সারাজীবনের জন্য বাবা-মাকে রেখে যাওয়া সম্ভব। কিন্তু এ মেডিকেল রিসোর্টে এটি সম্ভব নয়। এখানে যেসব ষাটোর্ধ্ব জ্যেষ্ঠ নাগরিক আসবেন তারা চাইলে চুক্তিকৃত মেয়াদের মধ্যে বা মধ্যবর্তী সময়ে তাঁদের বা পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী কোথাও যেতে পারবেন। এখানে পুরুষ এবং নারীদের জন্য পৃথক ব্লক থাকবে। এছাড়া প্রবীণ স্বামী-স্ত্রীর জন্য থাকবে বিশেষ কটেজ। পাঠাগারে বই পড়া, ওয়াকওয়েতে হাঁটা কিংবা বাগান করার শখও পূরণ করতে পারবেন ‘অবসর-আমার আনন্দ ভুবণ’ মেডিকেল রিসোর্টের বাসিন্দারা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত ইচ্ছায়

নতুন এ প্রকল্পে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে এ মেডিকেল রিসোর্টের যে প্ল্যান ও ডিজাইন করা হয়েছিল তাতে উল্লেখ ছিল বিশ্বমানের এ মেডিকেল রিসোর্টে থাকবে ১৬টি ভবন। যার মধ্যে ১০টি ডুপ্লেক্স ভবনে থাকবে ১০০টি নিরাপদ আবাসন, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল, পুরুষ ও মহিলা নিবাসীদের জন্য ২টি হোস্টেল, ১টি মেইন ব্লক ভবনে থাকবে গেস্টরুম ও রেস্টুরেন্ট, কর্মরত চিকিৎসক ও সেবীকাদের জন্য আলাদা আবাসিক ভবন, পাঠাগার, ওয়াকওয়ে, বাগান, ফোয়ারা, আনন্দ বিনোদন সামগ্রী, খোলা মাঠ, জলরাশি আর অবারিত সবুজের সমারোহ। প্রয়োজন অনুসারে দেশের জ্যেষ্ঠ নাগরিকরা ‘অবসর-আমার আনন্দ ভুবন’ মেডিকেল রিসোর্ট থেকে তাঁদের সকল সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের অসুস্থতা, আহত, ডাইমেনশিয়া বা বয়সের সঙ্গে আসা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এ অবসর কেন্দ্রটি সহায়তা করবে। ষাটোর্ধ্ব প্রবীন নাগরিকরা এখানে থাকার সুযোগ পাবেন। ‘ফি’ নির্ধারিত হবে অবসর গ্রহণের ব্যাপ্তির উপর নির্ভর করে। কোন জ্যেষ্ঠ নাগরিক এখানে এক সপ্তাহ থাকলে এক ধরণের ‘ফি’ হবে আর দীর্ঘদিন থাকলে আরেক ধরণের ‘ফি’ হবে।

সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তর ও ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মধ্যে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশীপ চুক্তি স্বাক্ষর, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ ও অন্যান্য কার্যাদি সম্পন্নের পর ২০১৮ সালের মার্চ মাসে ‘অবসর’-আমার আনন্দ ভুবন’ মেডিকেল রিসোর্টটির নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছিল। কিছু রুটিন কাজ সম্পাদনও হয়। ২০২১ সালের ফেব্রæয়ারি মাসের মধ্যে প্রকল্পের ‘মেইন ব্লক’ ও ‘ক্লিনিক’ নির্মাণ কাজ শেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধনের কথাও নির্ধারিত ছিল। তবে ২০২০ সালের পুরো বছর বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এ প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর পুনরায় কাজ শুরু হলেও কিছুদিন কাজ করার পর নিমিতব্য অত্যাধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এ মেডিকেল রিসোর্টের কাজ পুনরায় বন্ধ হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সোয়েব হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘শ্রীমঙ্গলের মনোরম পরিবেশে ৫.৬ একর ভূমিতে নির্মিতব্য ‘অবসর-আমার আনন্দ ভুবন’ নামে মেডিকেল রিসোর্টের কাজ ২০১৮ সালে শুরু হয়েছিল। কি কারনে কাজ বন্ধ রয়েছে তা আমি জানি না। সমাজসেবা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে কাজ হচ্ছে। এ কাজের সাথে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কোন সম্পৃক্ততা নেই।

‘অবসর-আমার আনন্দ ভুবন’ প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর পৃথিবী পাল বলেন, ‘প্রকল্পটির কাজ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তবে কি কারনে বা কেন বন্ধ তা আমার জ্ঞাত নয়। প্রকল্পের প্রকৌশলী এ বিষয়ে বিষদ জানাতে পারবেন।

প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল বারেক মো. হানিফুজ্জামান গণমাধ্যমকর্মীকে

বলেন, ‘এই মুহুর্তে মেডিকেল রিসোর্ট প্রজেক্টের কাজ ও প্রজেক্ট বন্ধ রয়েছে। কবে কাজ শুরু হবে বা আদৌ প্রজেক্ট বাস্তবায়ন হবে কিনা তা অনিশ্চিত। কেন প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সরকারের সাথে আমাদের বনিবনা হচ্ছে না। ফান্ড পাওয়া যাচ্ছে না। ফান্ড না পেলে আমরা কাজ করবো কিভাবে?’ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্ব কর্তৃপক্ষ মিডিয়া কলসানডেন্ট মো. পলাশ মিয়া মুঠোফোনে বলেন, প্রতিটি প্রাইভেট পার্টনার প্রকল্পের ফাইনান্সিং একটা পার্ট। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ‘অবসর-আমার আনন্দ ভুবন’ নামের মেডিকেল রিসোর্টের কাজে আমাদের প্রাইভেট পার্টনার ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়তো ফাইনান্স এরেঞ্জ করতে পারছে না। এ কারনে কাজটি বন্ধ হয়ে আছে। আমাদের কোন প্রকল্পে সরকার টাকা দেয় না, সরকার দেয় জমি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। প্রাইভেট পার্টনার টাকার ব্যবস্থা করে। যখন সরকারের সাথে প্রাইভেট পার্টনারদের কাজের চুক্তি হয় তখন তারা সরকারের প্ল্যান ও ডিজাইন অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য। সরকারের প্ল্যান ও ডিজাইনের বাইরে এক ইঞ্চিও এদিক সেদিক করতে পারবে না। এছাড়া কাজের মালামালের মূল্য বেড়ে গেলেও বাজেট বাড়ানোর কোন সুযোগ নেই।’ প্রকল্পের ভবিষ্যত কি এ প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘ওরা (ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) ফান্ড পেলেই কাজ শুরু করতে পারবে। আমাদের আরো কিছু প্রকল্পের কাজ ধীরগতি বা বন্ধ আছে। এসব প্রজেক্টের মধ্যে কয়েকটির সমস্যাবলী নিয়ে গত রবিবারে প্রথম মিটিং হয়েছে আমাদের মুখ্য সচিব স্যারের সভাপতিত্বে। পরবর্তী মিটিংয়ে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নির্মিতব্য ‘অবসর-আমার আনন্দ ভুবন’ নিয়ে করণীয় সম্পর্কে আলোচনা হবে। আশা করি আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করতে পারবো।

একুশে সংবাদ/এস কে 

Link copied!