AB Bank
  • ঢাকা
  • শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

সেন্টমার্টিনে রাত্রিযাপনের সুযোগ—মানতে হবে ১২ শর্ত


Ekushey Sangbad
পর্যটন ডেস্ক
০৫:৩২ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

সেন্টমার্টিনে রাত্রিযাপনের সুযোগ—মানতে হবে ১২ শর্ত

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে। থাকছে রাত্রিযাপনের সুবিধাও। তবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন, আর সকলকেই মানতে হবে সরকার ঘোষিত ১২ নির্দেশনা।

কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টায় পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। পরদিন বিকেল ৩টায় সেই জাহাজ ফিরতি যাত্রায় কক্সবাজারে পৌঁছাবে। এ সেবাটি আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে।

জেলা প্রশাসনের অনুমতি পাওয়া চারটি জাহাজ হলো— এমভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া, কেয়ারি সিন্দাবাদ ও কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলম জানান, সেন্টমার্টিনের নাজুক পরিবেশ রক্ষায় সরকারের নির্দেশনা এবার কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। নিরাপত্তাজনিত কারণে টেকনাফ নয়, বরং এবার থেকে জাহাজ চলবে কক্সবাজার শহর থেকেই।

সি ক্রুজ অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, নভেম্বরে রাত্রিযাপনের অনুমতি না থাকায় পর্যটকরা আগ্রহ দেখাননি। তাই জাহাজ চলাচল বন্ধ ছিল। তবে ডিসেম্বর–জানুয়ারিতে রাত কাটানোর সুযোগ থাকায় পর্যটকের আগ্রহ বাড়ছে। ফলে ১ ডিসেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন জানান, প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন না। এজন্য নুনিয়ারছড়া ও সেন্টমার্টিন জেটিঘাটে কড়া তল্লাশি থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে যেসব নির্দেশনা

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় গত ২২ অক্টোবর সেন্টমার্টিন ভ্রমণে ১২টি নির্দেশনা জারি করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

১. বিআইডব্লিউটিএ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া কোনো নৌযান চলাচল করতে পারবে না।

২.টিকিট কিনতে হবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত অনলাইন পোর্টাল থেকে। প্রতিটি টিকিটে থাকবে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড—কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।

৩. নভেম্বরে শুধু দিনের বেলায় ভ্রমণ, রাতযাপন নিষিদ্ধ।

৪. ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাত্রিযাপন করা যাবে।

৫. ফেব্রুয়ারি মাসে সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে পর্যটক যাতায়াত।

৬. প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে যেতে পারবেন না।

৭. রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ করা বা বারবিকিউ পার্টি নিষিদ্ধ।

৮. কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ–বিক্রয় এবং সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক–ঝিনুকসহ জীববৈচিত্র্যের কোনো ক্ষতি করা যাবে না।

৯. সৈকতে মোটরসাইকেল, সি–বাইকসহ সব মোটরচালিত যান নিষিদ্ধ।

১০.পলিথিন বহন নিষিদ্ধ; একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক সামগ্রী বহন নিরুৎসাহিত।

১১. পর্যটকদের নিজের পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ।

সরকার মনে করছে, এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন দ্বীপের অনন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য আরও সুরক্ষিত হবে এবং দ্বীপটি দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনের উদাহরণ হয়ে উঠবে।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!