টানা বর্ষনণ আর ভারত থেকে নেমে আসা পাহিাড়ি ঢলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের লোকালয়ে র ঢুকছে বানের জল। এরই মধ্যে হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। হঠাৎ বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হয়েছে হাজারো মানুষকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া বাঁধই পাহাড়ি ঢলের তীব্র চাপে ভেঙ্গে এমন পর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে।
সিলেটে কুশিয়ারা নদীর পানি মারকুলি (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার, ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মনু নদীর পানি মনু রেলব্রিজ (মৌলভীবাজার) পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার, মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৮০ সেন্টিমিটারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর খোয়াই নদীর পানি বল্লা (হবিগঞ্জ) পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পরিস্থিতি বিষয়ক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে কমপক্ষে ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, বাঁধ ভেঙে নোয়াবাদ, চরহামুয়া, সুঘর, বনগাঁও, নতুনবাজার, বালিহাটা, কালীগঞ্জ, যাদবপুর, বিষ্ণুরামপুর, দক্ষিণচর, রামনগর, বনদক্ষিণসহ কমপক্ষে ২০টি গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করে। পানির প্রবল স্রোতে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। আকস্মিক পরিস্থিতিতে অনেক পরিবার গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি, বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন।

বন্যার পানিতে হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে খোয়াই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। যথাসময়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পাহাড়ি ঢলের চাপে বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মঈনুল হক জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ৮৩টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৫ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল এবং ১৮২০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুত রয়েছে। এ ছাড়া বন্যাদুর্গতদের জন্য আরও ১৬২০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত বন্যার্তদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানায়, শুক্রবার সকাল ৯টার তথ্যানুযায়ী দেশের ৫ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরমধ্যে সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান পয়েন্টে ৯৫ সেন্টিমিটার, দোহাজারি (চট্টগ্রাম) পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মাতামুহুরী নদীর পানি লামা (বান্দরবান) পয়েন্টে ৪৭ সেন্টিমিটার, চিরিঙ্গা (কক্সবাজার) পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অন্যদিকে সকাল ৯টা পর্যন্ত আরও ৫ নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থায় প্রবাহিত হচ্ছে। এরমধ্যে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া (নীলফামারী), কাউনিয়া (লালমনিরহাট) ও তারাপুর (গাইবান্ধা) স্টেশনে বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
আর সিলেটে কুশিয়ারা নদী শেরপুর (মৌলভীবাজার) স্টেশনে, সুরমা নদী কানাইঘাট (সিলেট), ছাতক (সুনামগঞ্জ) ও সুনামগঞ্জ স্টেশনে, সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) স্টেশনে এবং ছোট ফেনী নদী কোম্পানিগঞ্জ (নোয়াখালী) স্টেশনে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।
সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘন্টায় দেশের উজানে চেরাপুঞ্জিতে (মেঘালয়) ১০৯ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। আর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে চট্টগ্রামে (২০৩ মিমি)।
একুশে সংবাদ/এএইচবি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

