AB Bank
ঢাকা বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মাইলফলক হবে


Ekushey Sangbad
হাসান কাজল
০৭:০৩ পিএম, ৭ জুলাই, ২০২৪
প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মাইলফলক হবে

চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আগামী ৮ জুলাই চীনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারত সফরের পরপরই দ্বিপাক্ষিক চীন সফর ভূরাজনৈতিক অবস্থান আর অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্যে বেশ ‍‍`তাৎপর্যপূর্ণ‍‍` হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে উভয় দেশ বেশ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে। কোন কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা ,চুক্তি-সমঝোতা হতে পারে?

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা কিংবা কতগুলি চুক্তি-সমঝোতা হবে সেটি জানায়নি। তবে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের জন্য এই সফর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এক কথায় জানান, চীন সফরে অগ্রাধিকার হবে ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন।’ভারত সফরের পর আসন্ন চীন সফরে তিস্তা প্রকল্প, রোহিঙ্গা সমস্যা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সংকট সমাধানের জন্য চীনের ঋণ নেবার বিষয়টি আলোচিত হবে বলেই ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে মহেশখালী থেকে একটি গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণসহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সাতটি প্রকল্পে অর্থায়নের প্রস্তাব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা পরিকল্পনা করেছি, মহেশখালী থেকে একটি এলএনজি পাইপ লাইন নির্মাণের প্রস্তাব থাকবে আমাদের। এখন দৈনিক ৩৫০০ এমএমসিএফ গ্যাসের চাহিদা থাকলেও আগামী ৫ বছরের মধ্যে তা ৬০০০ এমএমসিএফডি হয়ে যাবে। সে কারণে আমদানি ও দেশীয় যোগান থেকে এটা মেটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি।” ২০২৭ সালের মধ্যে দেশে কোনো গ্যাস সংকট থাকবে না– এমন আশার কথা শুনিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এই সময়ের মধ্যে আমরা ১৪৬টি কূপ খনন করব। সেজন্য অনশোর বিডিংয়ের একটি পিএসসি প্রস্তুত করা হচ্ছে। আমরা আরও কিছু পরিকল্পনা নিয়েছি। এর অংশ হিসেবে আমরা চীনকে গ্যাস পাইপ লাইনের প্রস্তাব দিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের সময় দেশটির রাজধানী বেইজিংয়ে একটি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে এই বাণিজ্য সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন এবং দেশটির পক্ষে থাকা বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা কমানোর উপায় খুঁজে বের করবেন। চীন ও বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক হাজারের বেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনার জন্য বিভিন্ন ব্যবসায়িক অধিবেশনে যোগ দেবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই সফরে বাণিজ্য খাতকে সহায়তার জন্য ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ চাইতে পারে বাংলাদেশ, যা চীন থেকে পণ্য আমদানির জন্য এলসি সহজতর করবে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০১৬ সালে ঢাকা সফরের সময় ২৭টি সমঝোতা স্বাক্ষর হয়। এতে সরকারের সঙ্গে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের মতো অনুদান, ঋণ এবং প্রাইভেট সেক্টরে আরো কিছু সমঝোতার আওতায় সবমিলিয়ে ৪০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি এসেছিল। যদিও এই পরিমাণ ঋণ বা অর্থ বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে নিতে পারেনি। তবে সেই সমঝোতার আলোকে বাংলাদেশে চীনের টাকায় বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। জানা গেছে , এবার চীন সফরে সড়ক, সেতু ও রেলের আরো বেশকটি প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনকে পাশে চাইবে বাংলাদেশ। এছাড়া অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় চীনের কাছে ৫-৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ চাইতে পারে বাংলাদেশ। চীনের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বাজেট ঘাটতি পূরণের জণ্য ঋণ সুবিধা নিয়ে আলোচনার কথা শোনা যাচ্ছে। এরই মধ্যে সড়ক ও রেল মন্ত্রণালয়ের ৯টি প্রকল্প অর্থায়ন প্রস্তাব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে যেখানে পদ্মাসেতুর রেল সংযোগের সঙ্গে বরিশাল হয়ে পায়রা বন্দর এবং কুয়াকাটা পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণের প্রকল্প রয়েছে। এছাড়া মেট্রোরেলের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের অর্থায়ন চাওয়া হতে পারে বলেও জানা যাচ্ছে।

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, চীনের কাছে টাকা আছে যেটি বাংলাদেশের দরকার। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি বিশেষ করে রাজনৈতিক দিক থেকে চীনকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলে বাংলাদের অবস্থান কী সেটি তুলে ধরা হতে পারে। এছাড়া মিয়ানমারের সঙ্গে যেহেতু চীনের সম্পর্ক ভালো তাই রোহিঙ্গা  প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা চাইবে বাংলাদেশ।কারণ চায়নিজদের সঙ্গে মায়ানমারের যথেষ্ট ভালো সম্পর্ক, তাদের বলতে পারি তোমরা আমাদেরকে এ ব্যাপারে সাহায্য করো। যাতে এইটা আমরা থ্রু ডায়ালগ এন্ড ডিসকাশনে এই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে পারি"। "আরেকটা হলো আমাদের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্যাপাসিটি বাড়াতে হবে। সেইটার জন্য এইখানে প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশিপে কীভাবে আসতে পারে। বাংলাদেশ চীনের কাছে কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে আশ্বস্ত করবে বলেও মনে করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পর চীন সফরে তিস্তা প্রকল্পে বিনিয়োগ এবং বাস্তবায়নে কোন দেশের সহযোগিতা নেয়া হবে সেই প্রসঙ্গে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। তিস্তা প্রকল্পে ভারতের প্রস্তাব সামনে আসার পর এ প্রকল্পে চীনের প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ কী হবে সেটির বাংলাদেশ জানাতে পারে এবারের শীর্ষ বৈঠকে। সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এ ব্যাপারে বলেন, বাংলাদেশ ঋণ নেয়ার ব্যাপারে সতর্ক। অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে চীনকে পাশে দরকার বাংলাদেশের।“চায়নার সুবিধা হচ্ছে দে হ্যাভ দ্য মানি, সারপ্লাস মানি। আর দেখেন ভারতও কিন্তু চায়নার থেকে কর্জ নেয়। অন্যরা কর্জ নিলে তাদের গায় জ্বালা করে, কিন্তু তারা নিজেরা নেয়"।"মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভারতে গিয়েছিলেন আমার মনে হয় একটা সমঝোতা হয়েছে। তার ফলে এবারের চায়না ভিজিটটা খুব ব্যঞ্জনাময় খুব ইমপর্টেন্ট হবে। আমরা হয়তো অনেক সহায়তা পাবো চায়না থেকে।

বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেইজিং সফর চীন-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসে আরেকটি মাইলফলক হবে। তিনি বলেন, ‘এই সফর নিশ্চিতভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতায় প্রাণবন্ত প্রেরণা জোগাবে এবং চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতার কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন অর্জনে এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে একটি নতুন উচ্চতায় উন্নীত করবে।’জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ফ্ল্যাগশিপ ইভেন্ট ডিক্যাব টক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন। চীনা রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, এই সফরের মাধ্যমে উভয় পক্ষ একে অপরকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন এবং সর্বস্তরে যোগাযোগ আরও জোরদার করবে।

বাংলাদেশকে ঋণ দেয়ার তালিকায় চীনের অবস্থান এখন শীর্ষ পাঁচে এ উঠে এসেছে। এছাড়া দ্বীপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতে ঋণ নেয়ার তালিকায় জাপান ও রাশিয়ার পরেই চীনের অবস্থান। ২০১৬ সালে বাংলাদেশে চীনের প্রেসিডেন্টের সফরের পর থেকে ঋণ দেয়ার পরিমাণ দ্রুত বেড়েছে। গত চার অর্থবছরে বাংলাদেশে ৩ বিলিয়ন ডলার এসেছে চীন থেকে।

 

একুশে সংবাদ/ন.প্র/জাহা

Link copied!