AB Bank
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ, ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

হুঁশিয়ারির মধ্যেও বাড়ছে নিত্য পণ্যের দাম, চাপে মত্যবিত্তরা


Ekushey Sangbad
মুহাম্মদ আসাদ
০১:৫৩ পিএম, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৪
হুঁশিয়ারির মধ্যেও বাড়ছে নিত্য পণ্যের দাম, চাপে মত্যবিত্তরা

১৪ বছরের সংসার জীবন রুবিনা-রাসেল দম্পতির। ভাড়া থাকেন রাজধানীর রায়েরবাগ এলাকায়। বেসরকারি চাকরিজীবী স্বামীর একক উপার্জনেই এতদিন মোটামুটি সচ্ছলভাবেই সংসার চলেছে তাদের। তবে সব ধরনের নিত্যপণ্য ও বাসা ভাড়াসহ জীবনযাত্রার আনুষঙ্গিক খরচাদি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত অন্যান্য পরিবারের মতো তারাও পড়েছে মহাবিপাকে। তাই স্বল্প শিক্ষিতা রুবিনা সড়কে থ্রিপিজ ফেরি করে কিছু টাকা উপার্জনের চেষ্টা করছেন।

ধোলাইপাড় এলাকায় লায়লুন নেসা তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে মৃত স্বামীর পেনশনের টাকায় সন্তানদের নিয়ে অনেকটা সচ্ছলভাবেই সংসার চালাচ্ছিলেন। কিন্তু গত এক বছর ধরে আর্থিক টানাপোড়েন রূপ নিয়েছে তাদের সংসার। সংসার সামাল দিতে তাই পঞ্চাশোর্ধ্ব এই বিধবা নারী এখন ছোটখাটো কোনো কাজ খুঁজছেন।

শুধু রুবিনা-রাসেল দম্পতি ও লায়লুন নেসা নয়, তাদের মতো হাজার হাজার মধ্যবিত্ত মানুষ এখন বিকল্প আয়ের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরছে। কেউ কেউ সঞ্চয় ভেঙে ছোটখাটো দোকান খুলে বসেছে। অনেকে বাসায় রান্না করা খাবার অনলাইনে বিক্রির চেষ্টা করছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মাঝারি মানের চাকরি করা অনেক মানুষ এখন কর্মস্থল থেকে ছুটির পর বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পার্টটাইম কাজ খুঁজে নিয়েছে। তবে কাজ যোগাড় করতে না পারা মানুষের মিছিল এখনো অনেক দীর্ঘ রয়ে গেছে।

এদিকে, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দামের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে সীমিত আয়ের মানুষ। কেবল নিম্নবিত্তরাই নয়, কুলিয়ে উঠতে পারছে না মধ্যবিত্তরাও।

শনিবার ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা যায়, কোনো ভাবেই পণ্যের দামে লাগাম টানা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো সভা করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও বাজারে কোনো প্রতিফলন নেই। পাশাপাশি একাধিক মন্ত্রীর অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরও প্রতি সপ্তাহেই কিছু না কিছু পণ্যের দাম বাড়াছে। এ ছাড়া ডিসেম্বর থেকেই রোজার ৬ পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে। বাড়তি চালের দামও। প্রতি কেজি সবজি কিনতে ক্রেতার সর্বনিম্ন ৬০ টাকা গুনতে হচ্ছে। সঙ্গে ফের নাগালের বাইরে মাংসের দাম। আমিষের চাহিদা মেটাতে অনেকেই মুরগির পা, পাখনা ও গিলা-কলিজা কিনছেন। আর এমন পরিস্থিতিতে আসছে রমজান মাস। ফলে ভোক্তাদের শঙ্কা-এ বছর রমজানেও বাড়তি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য করবে অসাধু সেই সিন্ডিকেট।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ একাধিক মন্ত্রণালয় পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে এক হয়ে কাজ করছে। মন্ত্রণালয়ের সভা শেষে সংশ্লিষ্ট একাধিক মন্ত্রী পণ্যমূল্য কমাতে বাজারে অসাধুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিচ্ছেন। তারপরও দাম কোনোভাবে কমছে না। বরং প্রতি সপ্তাহেই কিছু না কিছু পণ্যের দাম বাড়ছে।

রাজধানীর একাধিক খুচরা বাজার ঘুরে ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিসেম্বরে প্রতি কেজি চিনি ১৩৫ টাকা বিক্রি হলেও জানুয়ারিতে  বিক্রি হয়েছে ১৪৫-১৫০ টাকা। চলতি বছর ও একই দামে চিনি বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি মসুর ডাল ডিসেম্বরে বিক্রি হয়েছে ১৩৫ টাকা, আর জানুয়ারিতে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা। প্রতি কেজি ছোলা ডিসেম্বরে বিক্রি হয়েছে ৯০-৯৫ টাকা। জানুয়ারিতে বিক্রি হচ্ছে ৯৫-১০০ টাকা।

ভোজ্যতেলের মধ্যে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ডিসেম্বরে বিক্রি হয়েছে ১৫৫ টাকা, আর জানুয়ারিতে দাম বেড়ে ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বোতলজাত সয়াবিন তেল ডিসেম্বরে ১৭০ টাকা ও জানুয়ারিতে বিক্রি হচ্ছে ১৭২-১৭৩ টাকা। এছাড়া পাম সুপার প্রতি লিটার  ডিসেম্বরে   ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়। আর জানুয়ারিতে আরেক ধাপ বেড়ে ১৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজি তিউনিসিয়া খেজুর ডিসেম্বরে বিক্রি হয় ৪০০ টাকা। আর সেই একই খেজুর জানুয়ারিতে বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা কেজি।   ডিসেম্বরে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ১৩০ টাকা বিক্রি হলেও ১৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও  ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ বেশি কষ্টে রয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হলে কম মূল্যে মানুষের হাতে নিত্যপণ্য দিতে হবে। বর্তমানে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে মানুষ যে খুব কষ্টে আছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষ করে তাই বাজার ব্যবস্থাপনা ঠেলে সাজিয়ে পণ্যমূল্য সহনীয় করতে হবে।

এদিকে গত বছর নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ৫৯৫ টাকা কেজিতে গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে। ফলে ভোক্তা অধিদপ্তর থেকেও মাংসের দাম সহনীয় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে কম দামে পাওয়ায় অনেক নিু আয়ের মানুষ মাংস কিনতে পারে। কিন্তু ফের কেজিপ্রতি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা বেড়ে ৭৪০ টাকা ৭৫০ যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে গরুর মাংস। শনিবার  রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতিকেজি গরুর মাংস   ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০-২০০ টাকা। প্রতিকেজি লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা।

এছাড়া সবজির ভরা মৌসুমেও মাঝারি আকারের প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা। করলা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকা। প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিকেজি ধুন্দলের দাম ১০ টাকা বেড়ে ৮০-৯০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আলুর কেজি ৬০-৭০ টাকা, প্রতি কেজি বেগুন ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর বড় আকারের প্রতিপিস লাউ ১০০ টাকার বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে টমেটোর কেজি রাখা হচ্ছে ৬০-৯০ টাকা। শিম কিনতে ক্রেতার কেজিপ্রতি খরচ হচ্ছে ৭০-৯০ টাকা। আর শিমের বিচি বিক্রি হচ্ছে কেজি ২০০ টাকা।

সম্প্রতি রোজানির্ভর পণ্যের এলসি খুলতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ঋণ যেমন সরবরাহ ঋণ বা সায়াপ্লায়ার্স ক্রেডিট, ট্রেড ক্রেডিট বা বায়ার্স ক্রেডিটের আওতায় রোজানির্ভর পণ্য আমদানির এলসি খোলার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী মার্চ পর্যন্ত সময় দিয়েছে

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, আসন্ন রমজান মাসের আগে সব নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। রমযান উপলক্ষ্যে যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্য মজুত আছে। ভারত দীর্ঘদিন রপ্তানি বন্ধ করে রেখেছিল। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। রমজান মাসের আগেই ভারত বাংলাদেশে চিনি ও পেঁয়াজ রপ্তানি করবে। আগে শুল্ক বেশি ছিল এখন সেটা কমিয়ে আনা হবে। এছাড়াও ব্রাজিল ও বিভিন্ন দেশ থেকে চিনিসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্য সামগ্রী আমদানি করা হবে। টিসিবির মাধ্যমেও রোজায় সারা দেশে খাদ্যপণ্য বিতরণ করা হবে।

 

একুশে সংবাদ/ম.আ.প্র/জাহ
 

Link copied!