AB Bank
ঢাকা শুক্রবার, ০১ মার্চ, ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী
দোহাজারি-কক্সবাজার রেলপথ

বাস্তবায়িত হল আরও একটি নির্বাচনী অঙ্গিকার


Ekushey Sangbad
আমিনুল হক ভূইয়া
১০:৩৭ পিএম, ৫ নভেম্বর, ২০২৩
বাস্তবায়িত হল আরও একটি নির্বাচনী অঙ্গিকার

বাস্তবায়িত হল আরও একটি নির্বাচনী অঙ্গিকার। বিদ্যুতের সফলতার পর একে একে  পদ্মা সেতু, পদ্মা সেতু রেলসংযোগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক্সপ্রেসওয়ে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম চট্টগ্রাম কর্ণফুলী নদীরে তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল, পতেঙ্গা বে-টার্মিনাল, সাবমেরিন, স্যাটেলাইট, মেরিন ড্রাইভ সড়ক, নতুন নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল, পাবর্ত অঞ্চলে সড়ক নির্মাণ ইত্যাদি মেগা প্রকল্প বাস্তাবায়ন হাসিনা সরকারের নির্বাচনী অঙ্গিকারের ফসল।

 

এসব ধারাবাহিক উন্নয়নের সড়কে এবারে যুক্ত হল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ। এটি চালু হওয়ায় ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারে যেতে পারবেন পর্যটকেরা। এই রেলপথটি চালুর মধ্য দিয়ে শাসক দলের নির্বাচনী ইশতেহারের আরও একটি অঙ্গিকার বাস্তবায়ন হলো। বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্র সৈকতের গর্বিত মালিক বাংলাদেশ। ঢাকা থেকে পর্যটকেরা কক্সবাজার যেতে সড়ক পথ ছাড়াও ব্যয় বহুল যাত্রা পথ ছিল বিমান। এবারে সেই ব্যয়বহুল যাত্রা থেকে অনেকেই নিরাপদ জনবান্ধব রেল যাত্রার অংশ হবেন, এমনটিই ভাবছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। 

 

প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা খরচ করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এ রেলপথ। এ পথের ভাড়া প্রস্তাব করা হয়েছে, ঢাকা থেকে নন এসি শোভন চেয়ার ৫১৫ টাকা, এসি সিট ৯৪৮ টাকা, এসি কেবিন ১ হাজার ৩৬৩ টাকা এবং এসি বার্থ ২ হাজার ৩৬ টাকা। বুয়েটের বিশেষজ্ঞ পরামর্শক দল ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা-কক্সবাজার সরাসরি রেলযাত্রায় ব্যয় কমার পাশাপাশি ট্রেনের সব রকমের সুবিধা থাকছে। বাংলার সুস্বাদু খাবার-দাবারের সঙ্গে পরিচিত হবেন বিদেশি পর্যটকেরা। ভাপা ইলিশের পাশাপাশি কাচ্চি বিরিয়ানির স্বাদ নেবার মতো সুযোগ থাকছে এই রেল পরিষেবায়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ১১ নভেম্বর নবনির্মিত এই রেলপথের উদ্বোধন করবেন।

 

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে স্বাধীনতার ৫২ বছরের মধ্যে স্মরণকালের উন্নয়ন হয়েছে গত ১৫ বছরে। দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নের সারথী শেখ হাসিনা। যার স্লোগান ‘ক্ষমতা বলতে বুঝি মানুষের সেবা’। বটামলেস কেস থেকে মহাকাশ জয়ের বাস্তবতাকে ছুঁয়ে নদীর তলদেশে সাবরেমিন ও টানেলই নয়, উন্মত্ত পদ্মায় নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণ করে যে দুঃসাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন শেখ হাসিনা, তা ৭১’র মুক্তিযুদ্ধকে স্মরণ করিয়ে দেয়। শেখ হাসিনা বিগত ১৫ বছর বাংলাদেশের উন্নয়নে রীতিমত যুদ্ধ চালিয়েছেন। বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা দক্ষিণ এশিয়া নয়, বিশে^র রোল মডেল। অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ সেই স্বাক্ষর রেখে চলেছে। 

 

রোববার যখন বিএনপি-জামায়াত ও সমমনা রাজনৈতিক দলের দ্বিতীয় দফা অবরোধ কর্মসূচি চলছে, সেই সময় চট্টগ্রাম থেকে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে শুরু হয়েছে পরীক্ষামূলক রেলযাত্রা। উন্নয়ন সড়কে আরও এক ধাপ এগিয়ে সারাদেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগে যুক্ত হলো কক্সবাজার।  এদিন চট্টগ্রামের দোহাজারি থেকে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে প্রথম ট্রেনের যাত্রা। যদিও পূর্বাঞ্চ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এটিকে ট্রায়াল রান বলছে না, তাদের ভাষায় এটি মূলত  রেলপথের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন এবং কোনো ত্রুটি রয়েছে কি-না তা যাচাই করতেই তাদের এই পর্যবেক্ষণ যাত্রা।  রোববার (৫ নভেম্বর) সকাল ৮টার দিকে আটটি বগি নিয়ে চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়ে যাওয়া ট্রেনটিতে পরিদর্শন অধিদফতরের কর্মকর্তারা ছিলেন। যাত্রাকালীন নির্মাণাধীন দোহাজারি-কক্সবাজার রেললাইন ও বিভিন্ন স্টেশন পরিদর্শন করতে করেন তারা।

 

দোহাজারি-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের পরিচালক মো. সুবক্তগীন বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের ইন্সপেকশন টিম এ রেলপথ পরিদর্শন করবেন। টিমটি এ রেলপথের বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়াবে এবং ধীরে ধীরে কক্সবাজারের দিকে যাবে। একই সঙ্গে নবনির্মিত রেলপথের ব্রিজগুলোতেও দাঁড়াবে। মূলত উদ্বোধনের আগে খুঁটিনাটি সব বিষয় পর্যবেক্ষণ করবেন রেলওয়ের ইন্সপেকশন টিম। বিকেল নাগাদ এ টিম কক্সবাজার পৌঁছাবে। তিনি বলেন, দোহাজারি-কক্সবাজার রেলপথ প্রকল্পের কর্মকর্তা থাকবে ৮ থেকে ১০ জন। আর বাকি সব বাংলাদেশ রেলওয়ের ইন্সপেকশন টিমের কর্মকর্তা।

 

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) মো. মফিজুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে রোববার কোনো ট্রায়াল রান হচ্ছে না। গভার্মেন্ট ইন্সপেক্টর অব বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এ রেলপথ ইন্সপেকশন করবে। এটা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন একটা বিভাগ। যেটা বাংলাদেশ রেলওয়ের বাইরে, কিন্তু রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গভার্মেন্ট ইন্সপেক্টর। এটি ইঞ্জিনের ট্রায়াল বা গাড়ির ট্রায়াল নয়, এটা হলো রেল লাইন ঠিক আছে কি-না কিংবা রেল চলতে পারবে কি-না, সেটাই তারা যাচাই করবেন। আর কত স্পিডে ট্রেন চলতে পারবে সেটাও পর্যবেক্ষণ করবে এ টিম। প্রধানমন্ত্রী যখন এ রেলপথ উদ্বোধন করবেন, তার আগে সামগ্রিক বিষয় জানান দেয়ার জন্য এটা করা হয়।’

 

পৃথক দুই ভাগে কাজটি করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিআরইসি) ও বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি এবং চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) ও বাংলাদেশের ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড। দোহাজারি-কক্সবাজার রেললাইনে এছি ৩৯টি বড় সেতু, ২২৩টি ছোট সেতু ও কালভার্ট, বিভিন্ন শ্রেণির ৯৬টি লেভেল ক্রসিং। হাতি চলাচলের জন্য রয়েছে দুটি আন্ডারপাস। নির্মাণ করা হয়েছে ৯টি স্টেশন। স্টেশনগুলো হলো: দোহাজারি, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, হারবাং, চকরিয়া, ডুলাহাজরা, ইসলামাবাদ, রামু ও কক্সবাজার।

 

চট্টগ্রামে কর্ণফুলি নদীর ওপর কালুরঘাট সেতুতে ট্রেন ইঞ্জিনের ট্রায়াল রান সফলভাবে শেষ হয়েছে। শনিবার (৪ নভেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনটি রেল ইঞ্জিন চালিয়ে এটি যাচাই করা হয়। শুরুতে সাড়ে ১০ টনের ২২০০ সিরিজের ইঞ্জিন, তারপর ১১.১৬ টনের ২৯০০ সিরিজের ইঞ্জিন এবং সবশেষ ১৫ টনের তিন হাজার সিরিজের ইঞ্জিন সেতুতে চলাচল করে। আর এ সিরিজের ইঞ্জিন দিয়েই কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলবে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু জাফর মিঞা বলেন, শনিবার আমরা নতুন মডেলের ইঞ্জিন দিয়ে একাধিকবার ট্রায়াল রান করেছি। কালুরঘাট সেতুর ওপর দিয়ে এখন ট্রেন চলাচলে আর কোনো বাধা নেই। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে নতুন জেলা হিসেবে যুক্ত হবে কক্সবাজার।

 

চট্টগ্রাম নগরীর সঙ্গে বোয়ালখালী ও পটিয়া উপজেলার একাংশের যোগাযোগের মাধ্যম এ কালুরঘাট সেতু। সড়কপথে সব ধরনের যানবাহনের পাশাপাশি এ সেতু দিয়েও ট্রেন চলে। ১৯৩০ সালে নির্মিত হয় ৭০০ গজ দীর্ঘ রেল সেতুটি।  ১৯৫৮ সালে সেতুটি সব ধরনের যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয় পাকিস্তান সরকার।  ২০১০ সালে তৃতীয় শাহ আমানত সেতু উদ্বোধনের আগ পর্যন্ত কালুরঘাট সেতু দিয়ে ভারী যান চলাচলের কারণে, সেটি নাজুক হয়ে পড়ে। ২০০১ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করার পর ২০০৪ ও ২০১২ সালে সেতুটি দুদফা সংস্কার করেছিল রেল কর্তৃপক্ষ।

 

একুশে সংবাদ/এএইচবি/জাহা

Link copied!