AB Bank
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী
পশুর চামড়া সংগ্রহ

ব্যস্ত সময় পার করছেন ট্যানারি মালিক-শ্রমিকরা


Ekushey Sangbad
মুহাম্মদ আসাদ
০৮:০১ পিএম, ৩ জুলাই, ২০২৩
ব্যস্ত সময় পার করছেন ট্যানারি মালিক-শ্রমিকরা

ঈদুল আজহার দিন থেকে বহস্পতিবার (২৯ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে চামড়া এসেছে লালবাগের পোস্তা এলাকায়। চামড়া সংগ্রহ ও মজুদে ব্যস্ত সময় পার করছেন ট্যানারি মালিক-শ্রমিকরা। ঈদের সময় বৃষ্টি  হওয়ায়  দ্রুতই চামড়ায় লবণ লাগানো হচ্ছে।

 

সোমবার (৩ জুলাই) রাজধানীর লালবাগের শায়েস্তা খান, রাজ নারায়ণ ধর সড়ক, ট্যানারি মোড় ঘুরে দেখা গেছে, এসব চামড়ায় লবণ মাখাতে ব্যস্ত সময় পার করেন ট্যানারি শিল্পের শ্রমিকরা।

 

এবার ঈদের দিন থেকে সোমবার পর্যন্ত সাভারের চামড়া শিল্প নগরীর ট্যানারিতে সাড়ে ৪ লাখ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। অন্যদিকে ট্যানারির বাইরে অবস্থিত আড়তগুলোতে সংগ্রহ করা হয়েছে ১০ লাখের কাছাকাছি চামড়া। এসব পশুর চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন ট্যানারিগুলো। গতকাল রোববার সাভার ট্যানারি পল্লিতে গেলে ট্যানারি মালিক ও শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা চোখে পড়ে। সারা বছর যে পরিমাণ কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা হয়, তার অর্ধেকই সংগ্রহ করা হয় কোরবানির ঈদে। সব ট্যানারি কারখানায় লবণ স্তূপ করে রাখা হয়েছে। কোথাও কাঁচা চামড়ায় লবণ মাখিয়ে রাখা হয়েছে, কোথাও ড্রামভর্তি রাসায়নিক দ্রব্য। ট্রাক ও ঠেলাগাড়ি থেকে কাঁচা চামড়া নামাচ্ছেন শ্রমিকরা।

 

সবুজ লেদার লিমিটেডের মালিক সবুজ হোসেন বলেন, ঈদুল আজহায় বছরের সবচেয়ে বেশি চামড়া সংগ্রহ করা হয়। এ কারণে সময়টা ব্যস্ত কাটে। অল্প সময়ের মধ্যে কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করতে হয়। তা না হলে চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

 

তিনি বলেন, এবার কমবেশি ৪০ হাজার কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছি। এগুলো প্রক্রিয়াজাত করার কাজ চলছে।

 

ট্যানারি শ্রমিক মনির হোসেন তিনি বলেন, কাঁচা চামড়ায় লবণ দিয়ে রাখছি। ভালো করে লবণ দিয়ে রাখলে এক থেকে দুই মাস পর্যন্ত চামড়া এ অবস্থায় রাখা যায়। এরপর ধোলাই, সোডিয়াম, বেড সালফার লাগানো হবে। এছাড়া লবণে একটু হেরফের হলে চামড়া নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এখন বৃষ্টির সময়, তাই লবণ দিয়ে চামড়া ঢেকে রাখতে হচ্ছে।


ট্যানারি মালিক কবির মিয়া বলেন, কাঁচা চামড়ায় ৭-৮ ঘণ্টা লবণ না দিলে নষ্ট হয়ে যায়। এবার লবণের অনেক বেশি দাম। আমাদের মতো ছোট কারখানার মালিকরা লবণ কিনতে গিয়ে বিপদে পড়েছি। ৬০ কেজি লবণের বস্তা দেড় হাজার টাকার কাছাকাছি।

 

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ বলেন, ঈদের প্রথম দুই দিনে চার থেকে সাড়ে চার লাখ পিস চামড়া ট্যানারিতে সংগ্রহ করা হয়েছে। আর সারা দেশ থেকে চলতি বছর ৯০ থেকে ৯৫ লাখ চামড়া সংগ্রহ হবে।

 

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, এ বছর ঈদুল আজহায় সারা দেশে মোট ১ কোটি ৪১ হাজার ৮১২টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে। গত বছর সারা দেশে কোরবানিকৃত গবাদিপশুর সংখ্যা ছিল ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ৭৬৩টি। ২০২১ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি। গত বছরের তুলনায় এবার ৯১ হাজার ৪৯টি গবাদিপশু বেশি কোরবানি হয়েছে। আর দেশের সর্বোচ্চ পশু কোরবানি হয়েছে ঢাকা বিভাগে, সর্বনিম্ন ময়মনসিংহ বিভাগে।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চামড়া শিল্পকে বাঁচাতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোক্তাদের নজর দিতে হবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী বাড়াতে হবে। বিনিয়োগকারীদের অব্যবস্থাপনা দূর করে প্রায় ৪০টি বিদেশি বিনিয়োগকারীর মাধ্যমে ৪০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ব্যবস্থা করা গেলে চামড়া খাতে আমূল পরিবর্তন আসবে।

 

বাংলাদেশ ট্যানারস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক চামড়ার বাজার ৪২০ বিলিয়ন ডলারের। ২০৩২ সালের মধ্যে বাজার হবে ৭৩৫ বিলিয়ন ডলারের। প্রায় ৬ শতাংশ হারে বৈশ্বিক এই বাজার বাড়ছে। বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করতে চায়, যা বর্তমানে ১০০ কোটি ডলার।

 

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ) সভাপতি আফতাব খান বলেন, অধিক গরম ও অধিক বৃষ্টি দুটোই কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে বাধা সৃষ্টি করে। গরম ও বৃষ্টি কাঁচা চামড়ার শত্রু। এবার কোরবানির ঈদে অধিক বৃষ্টি এবং বৃষ্টি কমলে ভ্যাপসা গরম দেখা যাচ্ছে। এর ফলে ১০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হতে পারে। তবে, এর বেশি হলে ব্যবসায়ীদের জন্য বিপদ হবে। অধিক রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হয় কাঁচা চামড়া। তারপরও মানুষকে সচেতন হতে হবে। ১০ শতাংশ নষ্ট হলেও কোনোরকম টিকে থাকবে। এর বেশি হলে সবাইকে পথে বসতে হবে।

 

তিনি বলেন, ২০১৪-১৫ সালে পোস্তায় মোট ২০৭টা আড়ত ছিল। এখন এটা কমতে কমতে ৬০টায় দাঁড়িয়েছে। মানুষ করোনায় ও বৈশ্বিক মন্দায় ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছে। কেউ কেউ আবার সাভার ট্যানারির পাশে চলে গেছে। আমরা ১ লাখ চামড়া কিনব। ইতোমধ্যেই টার্গেটের ৭০ শতাংশ পূরণ হয়েছে। আমরা সমস্যায় আছি। সরকার যদি সাভার ট্যানারির পাশে একটি চামড়া কেনাকাটার পল্লী করে দিতো, তাহলে ভালো হতো।

 

এ বছর সরকার প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম গত বছরের চেয়ে ৩ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। ঢাকার বাইরের চামড়ার দাম ৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ছাগলের চামড়ার দাম গত বছরের মতোই রাখা হয়েছে।  


বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, এ বছর ট্যানারি ব্যবসায়ীরা যদি ইচ্ছা করে দাম কমানোর জন্য গেম খেলে, তাহলে আমরা চামড়া বিদেশে রপ্তানির অনুমতি দেবো। আমরা চাই না সেটা হোক। এ বছরও আমাদের ঘোষণাটি হলো, কারসাজির মাধ্যমে দাম কম দেওয়া বা চামড়া না নেওয়ার চেষ্টা করলে আমরা ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানির অনুমোদন দেবো।

 

একুশে সংবাদ/এসএপি

Link copied!