ঢাকা মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩, ১৮ মাঘ ১৪২৯

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. পডকাস্ট

বয়সের বেড়াজালে ছাত্রলীগের পদ-প্রত্যাশীরা, এগিয়ে মানবিক হিরোরা


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৬:২৭ পিএম, ২০ নভেম্বর, ২০২২
বয়সের বেড়াজালে ছাত্রলীগের পদ-প্রত্যাশীরা, এগিয়ে মানবিক হিরোরা

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৮ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম সম্মেলন। এরইমধ্যে সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছাস আর প্রাণচাঞ্চল্য বিরাজ করছে। শেষ সময়ে নতুন নেতৃত্বে আসার জন্য দলের নীতি নির্ধারক পর্যায়ে লবিং-তদবিরে তৎপর ছাত্র নেতারা। আগামীর নেতৃত্বে কারা আসছেন তারই প্রতীক্ষায় প্রহর গুণছেন কর্মীরা।

 

সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পরপরই মধুর ক্যান্টিনের বাইরে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়েও পদপ্রত্যাশীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে। সাংগঠনিক দক্ষতা ও যোগ্যতা থাকা স্বর্তেও বয়সের কারণে আটকে যেতে পারে অনেকের নেতৃত্বের চাকা।

 

ছাত্রলীগের বিগত কমিটিগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিভাগ ভিক্তিক রাজনৈতিক মেরুকরণের জন্য এক এক সময় এক এক বিভাগ থেকে নেতৃত্ব নিয়ে আসা হয়। তবে এবার সব বিভাগের পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে সাংগঠনিক দক্ষতা, চারিত্রিক মাধুর্যতা, শিক্ষার্থীবান্ধব আওয়ামী পরিবারের নেতাদেরকেই নেতৃত্বে আনার কথা জানান দলের নীতি নির্ধারক ফোরাম।

 

এছাড়াও করোনা মহামারির সময় মানবিক কাজে যারা সংগঠনের ভাবমূর্তি উজ্বল করেছেন তাদেরকেও বিবেচনা করা হবে। এছাড়াও ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বয়স ২৭ এর মধ্যে থাকলেই কেবল নেতৃত্বে আসার সুযোগ রয়েছে। সেই হিসেবে বিভিন্ন অঞ্চলের অনেকেই ছিটকে পড়বে কেন্দ্রীয় শীর্ষ পদ থেকে। তবে বিগত কয়েকটি কমিটিতে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২ বছর বাড়িয়ে অনুর্ধ ২৯ করেছেন। নীতি নির্ধারকরা মনে করছে গঠনতন্ত্রে ২৭ বছর বয়স, এর বাইরে নেত্রী (প্রধানমন্ত্রী বড়জোর অনুর্ধ ২৯ এর মধ্যে যেতে পারেন। কোন ভাবেই ২৯ এর বেশি কেউ নেতা হতে পারবেন না। সেই হিসেবে বয়স ২৯ এর বেশি হলেও শীর্ষ পদের জন্য প্রার্থী রয়েছেন অনেকে।

 

উত্তরবঙ্গ থেকে আলোচনায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক হায়দার মোহাম্মদ জিতু, সহ-সভাপতি রাকিব হোসেন, শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, তথ্য ও গভেষণা সম্পাদক পল্লব কুমার বর্মন।

 

বরিশাল বিভাগ থেকে আলোচনায় আছেন সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি তিলোত্তমা শিকদার, সহ-সভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ, সহ-সভাপতি সৈয়দ আরিফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ (ইনান), উপ-বিজ্ঞান সম্পাদক সবুর খান কলিন্স, কর্মসংস্থান বিষয়ক উপ-সম্পাদক খাদিমুল বাশার জয়।

 

খুলনা বিভাগ থেকে রয়েছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বরিকুল ইসলাম বাঁধন, মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক নাহিদ হাসান শাহিন, উপ-বিজ্ঞান সম্পাদক খন্দকার হাবিব আহসান, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি ফরিদা পারভীন।

 

ময়মনসিংহ থেকে আলোচনায় আছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সোহান খান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস, সহ-সম্পাদক এসএম রাকিব সিরাজী, সহ-সম্পাদক মো.রিপন মিয়া, তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপ সম্পাদক রশিদ শাহরিয়ার উদয়।

 

ঢাকার পার্শ্ববর্তী ছাত্রলীগের সাংগঠনিক বিভাগ ফরিদপুর থেকে আলোচনায় আছেন কর্মসংস্থান সম্পাদক রনি মোহাম্মদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক ফুয়াদ হোসেন শাহাদাত, ঢাবির মুহসীন হল ছাত্রলীগের সভাপতি শহীদুল হক শিশির।

 

ঢাকা অঞ্চলের প্রার্থীদের মধ্যে সার্জেন্ট জহরুল হক হলের সাবেক ভিপি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল্লা আব্বাছী অনন্ত, এফ রহমান হলের সাবেক জিএস ও কেন্দ্রীয় উপ-দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাহিম, শহীদুল্লাহ হল ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ও কেন্দ্রীয় উপ বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক মো. ইরফানুল হাই সৌরভ,  উপ-শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক মো. নিয়ামত উল্লাহ তপন, গণযোগাযোগ ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক শামীম শেখ তূর্য।

 

জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে কারা-কারা নেতৃত্বে আসার মত তাদের বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে এবার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্য থেকে কেন্দ্রীয় সভাপতি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করার কারণে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় দীর্ঘ দিন ধরেই অকেজো পড়ে আছে। শীর্ষ নেতৃত্বসহ কোন ধরণের নেতাকর্মীদের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ কার্যালয়ে সচরাচর প্রবেশ করতে দেখা যায় না। দিবস ভিক্তিক কর্মসূচি পালন করতেই কেবল কেন্দ্রীয় নেতারা ছাত্ররীগের কার্যালয়ে যায়।

 

২০০৬ সাল থেকে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হয়ে আসছে। এখন পযর্ন্ত এ ধারা অব্যাহত আছে। প্রতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের ক্যম্পাস থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ পদের জন্য প্রার্থী হলেও আলোর মুখ দেখছে না।

 

এবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের আহমেদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি ও কেন্দ্রয়ি কমিটির সদস্য আল আমিন শেখ এবার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।

 

এছাড়াও ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হৃদয় সাইদুর রহমান হৃদয়, চুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলগের পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ ইমাম বাকের এর মধ্যে যে কেউ শীর্ষ পদে আসতে পারেন বলে গুঞ্জন উঠেছে।

 

এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সম্পাদক তারেক আজীজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরুল আফসার।

 

একুশে সংবাদ/সফি.প্রতি/পলাশ