সংযম, আত্মশুদ্ধি ও ক্ষমার বার্তা নিয়ে শুরু হয়েছে পবিত্র মাহে রমজান।আজ বৃহস্পতিবার দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা প্রথম রোজা পালন করছেন। আগামী ১৬ মার্চ (২৬ রমজান) দিবাগত রাতে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে। বরকত ও ফজিলতের এই মাসকে কেন্দ্র করে সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন মুসলিমরা।
রমজান মাসকে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস হিসেবে গণ্য করা হয়। এ মাসেই মানবজাতির হেদায়েতের গ্রন্থ পবিত্র কোরআন নাজিল হয়। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও সব ধরনের অসংযম থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিমের জন্য ফরজ। এই আত্মসংযমের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন রোজাদাররা।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন— ‘রমজান মাস, এ মাসেই কোরআন নাজিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হেদায়েত, সৎপথের সুস্পষ্ট নিদর্শন এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী। অতএব, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পায়, সে যেন রোজা পালন করে’ (সুরা বাকারা: ১৮৫)। হাদিস অনুযায়ী, এ মাসে একটি নেক আমলের প্রতিদান বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয় এবং নফল ইবাদতের সওয়াব ফরজের সমান হয়ে থাকে।
বুধবার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নবনির্বাচিত ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন। বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনার পর বাংলাদেশে রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
রমজানকে স্বাগত জানিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মসচিব মো. কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় তিনি মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রাখার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে দেশের সব মসজিদে খতমে তারাবির নামাজ একই পদ্ধতিতে আদায়ের আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতকারী মুসল্লিদের সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে রমজানের প্রথম ছয় দিন দেড় পারা করে মোট ৯ পারা এবং বাকি ২১ দিনে এক পারা করে তিলাওয়াত করলে ২৭ রমজান রাতে কোরআন খতম করা সম্ভব হবে।
পবিত্র রমজান উপলক্ষে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। এক বাণীতে তিনি বলেন, রমজান আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ক্ষমা লাভের অনন্য সুযোগ এনে দেয়। তিনি রমজানের পবিত্রতা রক্ষা, ধনী-গরিব নির্বিশেষে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এছাড়া বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রমজানের শিক্ষায় অনুপ্রাণিত হয়ে ভোগবিলাস, হিংসা-বিদ্বেষ ও সংঘাত পরিহার করে জীবনের সর্বক্ষেত্রে ধৈর্য, সংযম ও পরিমিতিবোধ চর্চা করা উচিত।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

