AB Bank
  • ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯:৪১ এএম, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫

খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও দেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে উঠে আসা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল উদাহরণ। খালেদা খানম পুতুল নামের এক নারীর রাজনীতিতে প্রবেশ এবং পরিণত হয়ে ওঠা ‘খালেদা জিয়া’—এই রূপান্তর ছিল সময়ের অন্যতম বিস্ময়। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান। একই সঙ্গে তিনি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির দীর্ঘদিনের নেতৃত্বদানকারী।

জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়

খালেদা জিয়ার জন্ম ১৯৪৫ সালে ভারতের জলপাইগুড়িতে, যা তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। তার পৈতৃক নিবাস ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলায়। বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ছিলেন একজন ব্যবসায়ী এবং মা তৈয়বা মজুমদার। শৈশব ও কৈশোরের বড় সময় কেটেছে দিনাজপুর জেলার মুদিপাড়া গ্রামে।

শিক্ষা জীবন

দিনাজপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন খালেদা জিয়া। পরবর্তী সময়ে তিনি সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভর্তি হন। কলেজে অধ্যয়নকালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার বিবাহ হয়। সংসার জীবনে প্রবেশের পর আর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। সরকারি নথিতে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে ‘স্বশিক্ষিত’ উল্লেখ করা হয়।

দাম্পত্য জীবন

১৯৬০ সালে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার মধ্য দিয়েই খালেদা জিয়ার জীবন ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে পড়ে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে। পরবর্তীকালে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হলে তিনি দেশের ফার্স্ট লেডির দায়িত্ব পালন করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময়

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে খালেদা জিয়া আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তিনি ঢাকায় এসে বড় বোনের বাসায় আশ্রয় নেন। জুলাই মাসে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাকে দুই সন্তানসহ আটক করে এবং দীর্ঘ সময় ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি রাখে। ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের আগ পর্যন্ত তিনি বন্দিদশায় ছিলেন।

রাজনীতিতে প্রবেশ

জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালে খালেদা জিয়া সরাসরি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। তবে ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপির সংকটময় সময়ে নেতাকর্মীদের আহ্বানে তিনি নেতৃত্বে আসেন। দৃঢ় অবস্থান ও আপসহীন মানসিকতার কারণে তিনি দ্রুতই ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

প্রধানমন্ত্রিত্ব

খালেদা জিয়া তিন দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে প্রথমবার গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারপ্রধান হন তিনি। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বল্প সময়ের জন্য দ্বিতীয়বার এবং ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের নেতৃত্ব দিয়ে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীত্ব গ্রহণ করেন।

বিএনপির নেতৃত্ব

১৯৮২ সালের জানুয়ারিতে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে দলে যোগ দেন খালেদা জিয়া। পরবর্তী দুই বছরের মধ্যেই তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বে পৌঁছান। ১৯৮৪ সালে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন এবং দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে দলটির নেতৃত্ব দেন। একাধিক কাউন্সিলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

আন্দোলন ও সংগ্রাম

এরশাদ সরকারের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া ছিলেন অন্যতম প্রধান আন্দোলনকারী নেতা। তার নেতৃত্বে সাতদলীয় জোট গঠিত হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন চলে। কোনো আপস ছাড়াই ধারাবাহিক আন্দোলনের ফলেই এরশাদ সরকারের পতন ত্বরান্বিত হয়।

নির্বাচনী রেকর্ড

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য দিক হলো—তিনি যে সব সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচন করেছেন, সবগুলোতেই জয়ী হয়েছেন। পাঁচটি জাতীয় নির্বাচনে মোট ২৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রতিটিতেই বিজয় লাভ করেন।

কারাবাস ও মামলা

২০০৭ সালের জরুরি অবস্থার সময় তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে একাধিক মামলার মুখোমুখি হন তিনি। ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাবন্দি হন খালেদা জিয়া। পরবর্তীতে তিনি নির্বাহী আদেশে মুক্তি পান এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!