AB Bank
  • ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

নেতাকে বরণে করতে ঢাকামুখী মানুষের ঢল


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০:৫৭ এএম, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫

নেতাকে বরণে করতে ঢাকামুখী মানুষের ঢল

দীর্ঘ সতেরো বছরেরও বেশি সময় পর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজধানী ঢাকায় মানুষের ঢল নামতে শুরু করেছে। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন শুধু এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে— এক ঝলক দেখতে, কণ্ঠস্বর শুনতে কিংবা উপস্থিত থাকতে।

দেশের উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম— যেভাবে সম্ভব, যে পরিবহনে পাওয়া যাচ্ছে, মানুষ ঢাকার পথ ধরছে। বাস, ট্রেন, লঞ্চে উপচে পড়া ভিড়। ইতোমধ্যে কয়েক লাখ মানুষ রাজধানীতে পৌঁছেছেন। আজ বুধবারও সারাদেশ থেকে ঢাকামুখী স্রোত অব্যাহত রয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারেক রহমানের সংবর্ধনায় প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে— এমন প্রত্যাশা থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। এর আগে আজ বুধবার লন্ডনের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে তিনি হিথরো বিমানবন্দর থেকে রওনা দেবেন। ফ্লাইটটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির পর ঢাকায় পৌঁছাবে।

তারেক রহমানের সঙ্গে একই বিমানে আসছেন তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, মিডিয়া টিমের প্রধান আবু আবদুল্লাহ সালেহ, ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রহমান সানি এবং তাবাসসুম ফারহানা।

বিমানবন্দরে বিএনপির শীর্ষ নেতারা তাকে স্বাগত জানাবেন। এরপর তিনি সরাসরি ৩০০ ফিট এলাকায় নির্ধারিত গণসংবর্ধনাস্থলে যাবেন। সংবর্ধনা শেষে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে তাঁর মা, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখবেন।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করে রাখতে বিএনপি সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলীয় নেতারা বলছেন, এটি শুধু দলীয় কর্মসূচি নয়— সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে রাজধানী পরিণত হবে জনসমুদ্রে।

সারাদেশের জেলা, উপজেলা ও অঙ্গসংগঠনগুলোকে আলাদা প্রস্তুতি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর পার্শ্ববর্তী জেলা ছাড়াও দেশের সব প্রান্ত থেকে নেতাকর্মীদের ঢাকায় আসতে বলা হয়েছে।

৩০০ ফিট এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। পুরো এলাকা সাজানো হচ্ছে মাইকিং, ব্যারিকেড ও ডিজিটাল ডিসপ্লে দিয়ে। জনসমাগম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দলীয় স্বেচ্ছাসেবক ও শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের সংবর্ধনায় মানুষের মহামিলন ঘটবে। তিনি জানান, অর্ধকোটি মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বলেন, রাজধানীর প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডকে সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে বৃহস্পতিবার একটি নতুন ইতিহাস লেখা হবে।”

তারেক রহমানের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট ও গুলশান পর্যন্ত কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। তাঁর নেতৃত্বে চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্সসহ একাধিক টিম মাঠে থাকবে।

সরকারি সূত্র জানায়, বিশেষ কোনো হুমকির তথ্য না থাকলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় সোয়াট, বোম ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন থাকবে।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, দীর্ঘ নির্বাসনের পর প্রিয় অভিভাবকের ফেরা ছাত্রসমাজের জন্য আবেগঘন মুহূর্ত। লাখো ছাত্রদল নেতা-কর্মী বিমানবন্দর এলাকায় উপস্থিত থাকবেন।

যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন জানান, যুবদলের পক্ষ থেকে লক্ষাধিক নেতাকর্মী সংবর্ধনায় অংশ নেবেন।

বিএনপির আবেদনের পর ২৫ ডিসেম্বর দেশের ১০টি রুটে স্পেশাল ট্রেন চলবে। রেলওয়ে জানিয়েছে, অতিরিক্ত কোচ ও বিশেষ ট্রেন পরিচালনার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য যাত্রী পরিবহন হবে, তবে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মানতে বলা হয়েছে।

২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময়। দিনের হিসাবে ছয় হাজার ৩০৯ দিন। প্রিয় জন্মভূমি থেকে আট হাজার কিলোমিটার দূরে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ এই সময়ে নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে নিজে ছিলেন চিকিৎসাধীন, ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের কারণে হারিয়েছেন প্রিয় ছোট ভাইকে, মাকে দেখেছেন কারাবন্দি হতে। 

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!