ঘন কুয়াশার মধ্যে সংঘর্ষে পড়ে এমভি জাকির সম্রাট–৩ ও এমভি অ্যাডভেঞ্চার–৯ নামের দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চ। এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিয়ে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, নিহত ও আহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
ভোলার ঘোষেরহাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রার সময় এমভি জাকির সম্রাট–৩ লঞ্চটি ঘন কুয়াশার কবলে পড়ে। আনুমানিক রাত আড়াইটার দিকে চাঁদপুরের হরিনা এলাকায় বরিশালগামী এমভি অ্যাডভেঞ্চার–৯ লঞ্চটি জাকির সম্রাট–৩–কে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে মুহূর্তের মধ্যেই লঞ্চটির একটি অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। আহতদের ঢাকায় নেওয়ার পথে আরও তিনজন মারা যান। পরে নিহতদের মরদেহ সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে আনা হলে স্বজনদের আহাজারিতে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নিহত চারজনই ভোলা জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
নৌ পরিবহন উপদেষ্টা জানান, এ ঘটনায় আট সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার জন্য চালকের কোনো দায় রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
নৌ উপদেষ্টা আরও জানান, নিহতদের পরিবারকে দেড় লাখ টাকা এবং আহতদের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। পাশাপাশি সকাল ৮টার আগে বাল্কহেড চলাচলের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এদিকে সংঘর্ষে জড়িত এমভি অ্যাডভেঞ্চার–৯ লঞ্চটি ঝালকাঠি এলাকায় জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

