ঢাকা শনিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২১, ১ কার্তিক ১৪২৮

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

একমুঠো ছাই- চঞ্চলা মজুমদার


Ekushey Sangbad
একুশে সংবাদ ডেস্ক
১২:০৪ পিএম, ১ আগস্ট, ২০২১
একমুঠো ছাই- চঞ্চলা মজুমদার

      প্রকৃতি শশুর বাড়ি যাওয়ার পর ঘরটা একেবারে ফাঁকা হয়ে গেলে কোন কাজে মন বসাতে পারলেন না তার বাবা বিমল মিত্র। কেবলই মেয়ের কথা মনে পড়তে লাগলো। মনে পড়লো তার অতীতের কথা। এইতো সেই দিনের কথা, প্রকৃতি তাদের ঘর আলো করে এলে তারা দুজনেই মেয়ে হওয়ার জন্য খুব খুশি হয়েছিল। ওর মা আদর করে নাম রেখেছিল প্রকৃতি। মেয়ের পাঁচ বছর বয়সে তার মা মারা গেলে বিমল খুব অসহায় বোধ করলেন। মেয়েকে কি করে মানুষ করবেন, কোথায় কার কাছে রেখেই বা কাজে যাবেন? তিনি রিক্সা চালান। অনেক ভেবে তিনি মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করে দিলেন। সকালে মেয়েকে খাইয়ে রিক্সায় স্কুলে পৌঁছে দিয়ে নিশ্চিন্ত মনে তিনি রিকশা চালাতেন। আবার স্কুল ছুটি হলে মেয়েকে নিয়ে একসঙ্গে বাড়ি ফিরতেন। তারপর পুরো সময়টা বাপ মেয়ে কাটাতেন। মেয়ের সঙ্গে তার একটা আলাদা জগত গড়ে উঠেছিল। তার সঙ্গে খেলাধুলা করা, ঘুরতে যাওয়া, খাওয়া, ঘুমানো, মান অভিমান, গল্প করা, খুনসুটি করা এইভাবে হাসি -কান্নায়, সুখে-দুঃখে কেটে যেতে লাগলো তাদের দিন।

      প্রকৃতি একটু বড় হয়ে উঠলে বিমল বাবু মেয়েকে পড়তে বসিয়ে প্রতিদিন সন্ধ্যার সময় কাজে বের হতেন। পড়াশোনা শেষ করে সে তার বাবার জন্য দরজার কাছে এসে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতো। বাবা ঘরে ঢুকলেই মেয়ে জিজ্ঞাসা করত..

-বাবা তোমার খুব কষ্ট হয়েছে না?
-না তো মা,বলে মেয়েকে জড়িয়ে ধরে ঘরে এনে আদর করে তার জন্য আনা উপহার যেমন পুতুল , কখনো এক ছড়া পুতির মালা, কখনো কানের দুল বা কয়েক গাছা কাচের চুড়ি দিত। প্রকৃতি উপহার গুলি পেয়ে ভীষন খুশি হত। বিমল বাবু ও তার মেয়ের এই আনন্দ উজ্জ্বল মুখখানি দেখে নিজেও আনন্দে আত্মহারা হয়ে যেত আর মনে মনে স্বর্গসুখ উপলব্ধি করত। তখন বিমল বাবু র স্ত্রীর কথা খুব মনে পড়ত।

      এইভাবে দেখতে দেখতে প্রকৃতি উচ্চমাধ্যমিক পাস করল। সে দেখতে বেশ সুন্দরী, তাতে আবার অষ্টাদশী। তারপর আবার বাড়িতে প্রায়ই একা থাকে। কাজেই পাড়ার বেপাড়ার কিছু উশৃংখল ছেলে প্রায়ই তাকে বিরক্ত করত। বিমল বাবু ভয় পেয়ে মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। ইতিমধ্যে একটি ভালো ছেলের খোঁজ পেয়ে গেলেন। পয়সাওয়ালা লোক, ব্যবসা আছে। সংসারে লোক বলতে ছেলে ও তার মা-বাবা। ছোট সংসার। ছেলের বাড়ি থেকে প্রকৃতিকে দেখে ওদের খুব পছন্দ হলো। তবে ছেলের বাবা রথীন বাবু বললেন,"আমরা বিশেষ কিছু চাইনা তবে বুঝতেই তো পারছেন মেয়ের বিয়েতে যা-যা প্রয়োজন সেগুলো তো দেবেনই , সঙ্গে পঁচিশ হাজার টাকা। আরে মশাই, আপনি যা দিবেন তা তো আপনার মেয়েরাই  থেকে যাবে। ও আর একটা কথা আমার আত্মীয়স্বজনদের আপ্যায়ন টা যেন ভালো হয়।"তখন বিমল বাবু বললেন,"রথীন বাবু আমি গরিব মানুষ এত টাকা কোথায় পাবো? অন্তত পনের টাকাটা যদি....
রথীন বাবু সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন,"তাহলে আমরা উঠি.."

       তখন বিমল বাবু রথীন বাবু কাছে হাতজোড় করে বললেন,"না,না উঠবেন কেন? যত কষ্ট হোক আমি ঠিক টাকাটা দিয়ে দেব।"ওরা চলে যাওয়ার পর প্রকৃতি বাবাকে অনেক বোঝাল এ বিয়ে ভেঙে দেয়ার জন্য। কিন্তু বিমল বাবু মেয়ের কোন কথাই শুনলেন না। প্রকৃতির মা মেয়ের নামে ফিক্সড ডিপোজিট করেছিল সেটা ভাঙ্গিয়ে, মেয়ের বিয়ের জন্য নিজে যা জমিয়েছিল তারপর ধারদেনা করেও পনের সব টাকা জোগাড় করতে পারলেন না।

      বিয়ের দিন যথাসময়ে বর আসলে বিয়ে শুরু হয়ে গেল। কিন্তু সিঁদুর দানের আগে ছেলের মা বললেন,"পণের টাকা না দিলে এ বিয়ে হবে না"। রথীন বাবু বললেন,"বিমল বাবু টাকা না দিলে আমরা ছেলেকে তুলে নিয়ে যাব"। বিমল বাবু তখন হাতজোড় করে বললেন,"পনের সব টাকা আমি জোগাড় করতে পারিনি, দুই তিন মাসের মধ্যে দিয়ে দেব", বলে রথীন বাবুর হাতে দশ হাজার টাকা তুলে দিলেন। রথীন বাবু রেগে গিয়ে বললেন,"মাত্র ১0000 টাকা! না-না এ বিয়ে হবে না। গিন্নি ছেলেকে তুলে নিয়ে এসো।" তখন বিমল বাবু বললেন,"রথীন বাবু, বাবাজিকে তুলে নিয়ে আমার মেয়েকে লগ্নভ্রষ্টা করবেন না। এত বড় শাস্তি আমাদের দেবেন না। তাহলে আমরা সমাজে মুখ দেখাতে পারবো না। তখন ছেলের মা ছেলেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য জোড়ের গিট খুলতে গেলে প্রকৃতির বন্ধু অরুনা এসে এক ঝটকায় হাতটা সরিয়ে দিয়ে বলল,"এ বিয়ে হবে এবং এখনই হবে। নাহলে আমি আপনাদের সকলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানাবো। দাঁড়ান,ফোন করছি", বলে অরুনা মোবাইলটা বের করতে গেল......
ছেলের মা ও বাবা পুলিশের কথা শুনে একসঙ্গে বলে উঠলো "পুলিশ!!" এবং ছেলের মা জোড় ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। অরুনা তুই চুপ কর বলে রথীন বাবুর দিকে হাতজোড় করে বিমল বাবু বললেন,"ওর কথায় কিছু মনে করবেন না। শুধু আমাকে কিছুদিন......"

      "কাকাবাবু আপনি জানেন না পন দেওয়া এবং নেওয়া দুটোই আইনত অপরাধ"। তারপর অরুনা পুরোহিতের দিকে তাকিয়ে বলল,"আপনি তাকিয়ে না থেকে বিয়ের বাকি কাজটা সেরে ফেলুন।"
কিন্তু বিয়ের শেষে বাড়ি যাওয়ার আগে ছেলের মা বলে গেলেন পুলিশের ভয় দেখিয়ে বিয়ে দিয়ে কাজটি আপনি ভালো করলেন না বিমল বাবু। নানান কাজের মধ্যে তখন বিমল বাবু কথাটির গুরুত্ব বুঝতে পারলেন না।

      পরের দিন মেয়ে শশুর বাড়ি যাওয়ার সময় বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলল,"বাবা আমাকে তুমি এত তাড়াতাড়ি পর করে দিলে? আমি কি তোমার কাছে এতটা বোঝা হয়ে গিয়েছিলাম ?"বোঝা!!" চোখের জল মুছতে মুছতে বিমল বাবু বললেন,"আমার মা লক্ষ্মী আমার কাছে কখনো বোঝা হতে পারে? তবে কি জানিস মা বাবা হওয়া যে কি যন্ত্রনা সে তুই বুঝবি না!
আর কয়েকদিন পরেই তো অষ্টমঙ্গলায় আমার কাছে চলে আসবি। আর যখনই তোর মন চাইবে তখনই জামাইকে নিয়ে চলে আসিস।

      হঠাৎ ফোনটা বেজে ওঠায় বিমলের সম্বিত ফিরে এলো। ফোন ধরার সঙ্গে সঙ্গে অপরপ্রান্ত থেকে রুক্ষ গলায় মেয়ের শাশুড়ি বলে উঠলো,"পনের টাকা না দিলে আমার ছেলে অষ্টমঙ্গলায় যাবে না!!", বলে লাইনটা কেটে দিল। বিমল বারবার ওই নম্বরে ও মেয়েকে ফোন করলেন কিন্তু ওখান থেকে কেউ ফোন রিসিভ করলো না। তখন তার খুব চিন্তা হলো, তবে কি এখানে মেয়েকে বিয়ে দিয়ে ভুল করেছে সে। বিয়ের শেষে মেয়ের শাশুড়ির কথাটি মনে করে ভয়ে তার বুক কেঁপে উঠলো। যাহোক আগামীকাল থেকে কাজে বেরোতে হবে। যে করেই হোক পনের টাকা জোগাড় করতে হবে।
বিমল রাতদিন খেটে টাকা উপার্জন করতে লাগলেন। কখনো সিদ্ধ ভাত, কখনো হাফপেটা খেয়েও তিন মাসে সব টাকা জোগাড় করতে পারলেন না। এদিকে মাঝেমধ্যেই মেয়ের শাশুড়ি টাকার জন্য ফোন করতে লাগলেন। 

হঠাৎ একদিন প্রকৃতি তার বাবাকে ফোন করল,
-হ্যালো বাবা ভালো আছো?
-তুই কেমন আছিস মা?
-রাতে শোয়ার আগে দুধ টা খাচ্ছ তো?
-হ্যাঁ রে মা। তোর গলাটা ধরা ধরা লাগছে কেন? ঠান্ডা লেগেছে বুঝি? সাবধানে থাকবি তো!!
-তুমি ঠিকমতো খেয়ে নিও। আর এই বয়সে বেশি পরিশ্রম কোরো না।
-কি যে বলিস? তোর বিয়ের.........
লাইনটা কেটে গেল।
অনেকদিন পর মেয়ের গলাটা শুনে বিমলের খুব ভালো লাগলো। আবার ওর ধরা ধরা গলা, লাইনটা ওইভাবে কেটে যাওয়ার জন্য খুব চিন্তা হল। সে নিজেকে খুব অসহায় মনে করলো। তার যদি নিজের একটা বাড়ি থাকতো তবে বাড়ি বিক্রি করে ও পনের টাকাটা দিয়ে মেয়েকে নিজের কাছে নিয়ে আসতে পারতো। যাকে এক বেলা না দেখে থাকতে পারতো না, আজ তাকে কতদিন হল দেখতে পায়না। কি নিষ্ঠুর এই মানুষগুলো!!

      আজ বিমলের খুব আনন্দ। পনের টাকা সব জোগাড় হয়ে গেছে। আগামী দিন মেয়ের শ্বশুর বাড়ি গিয়ে টাকাটা দিয়ে তিনি মেয়েটাকে কয়েকদিনের জন্য নিজের কাছে নিয়ে আসবেন। কতদিন যে দেখেনা সে তার মাকে। তার যেন আর তর সইছে না।
হঠাৎ প্রকৃতি ডাক দিল,"বাবা! বাবা আমি এসেছি।"
-কে ? প্রকৃতি ? মা তুই এসেছিস? কিন্তু তোর গলাটা ঐরকম লাগছে কেন? আর আমি তোকে দেখতে...
হঠাৎ কিছু একটা পড়ে যাওয়ার শব্দে বিমলের ঘুম ভেঙে গেল। ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর প্রকৃতির ছবিটার দিকে তাকিয়ে ও স্বপ্নের কথা মনে করে তার খুব মন খারাপ হয়ে গেল। ছবিটা টেবিল থেকে পরে গিয়ে ভেঙে গিয়েছে। তারপর ভাবল হয়তো বিড়ালে ফেলে ভেঙে ফেলেছে। আর স্বপ্ন তো স্বপ্নই হয়।

      পরে তিনি স্নান খাওয়া দাওয়া করে মেয়ে যে যে খাবার পছন্দ করে সেগুলো কিনে নিয়ে বাসে উঠে মেয়ের শশুর বাড়ি পৌঁছে গেটের সামনে গিয়ে ভিড় দেখে মনে মনে ভয় পেয়ে গেলেন। বিমল ভিড় ঠেলে আরো একটু এগিয়ে যেতেই দেখলেন বাড়িতে অনেক পুলিশ এবং বাড়ির কাজের মেয়েটি চিৎকার করে বলছে,"এ বাড়ির বউকে সবাই মিলে গায় কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়েছে গো! কি ভালো ছিল গো বৌদিমনি! বজ্জাত শাশুড়িটা মারধোর করে খেতে না দিয়ে সারাদিন ঘরে বন্ধ করে রাখত। সারা গায়ে বৌদির কালশিটে দাগ ছিল"। ভিড়ের মধ্য থেকে আরেকজন বলে উঠলো,"শশুর ছেলেইবা কম যায় কিসে! উ: সামান্য কয়েকটা টাকার জন্য একটা মেয়েকে যে এত অত্যাচার মানুষ করতে পারে না দেখলে বিশ্বাস করা যায়না"।"আর উনি বোধহয় মেয়ের বাপ",বলে ভিড়ের মধ্য থেকে একজন বিমল কে দেখিয়ে বলল,"আপনি পাড়ার কাউকে জিজ্ঞাসা না করে এদের ছেলের....."

      ইতিমধ্যে বিমল এর হাত থেকে সবকিছু মাটিতে পড়ে গেল এবং দুই হাতে তিনি তার কান বন্ধ করে চিৎকার করে বলে উঠলেন,"না এ হতে পারে না।" তারপর তার চারিদিক থেকে আলোক বৃত্ত দূরে মিলিয়ে যেতে লাগলো,একটি গাঢ় নিকষ কাল অন্ধকার ধীরে ধীরে তাকে গ্রাস করলে সে সংজ্ঞা হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে গেলেন। জ্ঞান ফিরলে তিনি দেখতে পেলেন একটি বীভৎস আধপোড়া দেহ পুলিশ ভ্যানে করে হসপিটালে নিয়ে যাচ্ছে। দিশেহারা হয়ে বিমল সেই গাড়ির পিছনে ছুটলেন। হসপিটাল থেকে মৃত বলে ঘোষণা করলে সেখান থেকে মর্গে। মর্গ থেকে পোস্টমর্টেম হয়ে গেলে শ্মশানে গেলেন। সব কাজ তিনি করলেন কেমন যেন একটা যন্ত্রচালিত মেশিনের ন্যায়। বাহ্যিক জগতের সঙ্গে তার যেন কোন সম্পর্ক নেই। তিনি কি করছেন? সেটা তিনি বুঝতে পারলেন না।

      শ্মশানের সব কাজ শেষ হয়ে গেলে পুলিশ অফিসার তাকে থানায় নিয়ে এলেন। থানায় ধরে আনা হলো রথীন বাবু,তার স্ত্রী ও ছেলেকে। এইবার থানার বড়বাবু অনেকবার বিমল বাবুকে ডাকলেন কিন্তু কোন সাড়া পেলেন না। তিনি কেমন যেন উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন। তখন বড়বাবুর ইঙ্গিতে থানার অন্য একজন পুলিশকর্মী তার কাঁধে হাত রেখে ডাক দিলে বিমলের সম্বিৎ ফিরে এলে অফিসার বললেন,"বিমল বাবু আপনি এদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করুন।"

      অভিযোগ!! কাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করব স্যার, এইরকম হাজার হাজার নর পিশাচ রয়েছে সমাজে যারা আমার মেয়ের মত হাজার হাজার মেয়ের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে প্রতিদিন। সরকার পণপ্রথা আইন করে তুলে দিয়েছে। কিন্তু আমাদের সমাজে কিছু অর্থ পিপাসু , স্বার্থান্বেষী, লালসা গ্রস্ত মানুষ রয়েছে যাদের অর্থের লোভে ফুলের মত নিষ্পাপ মেয়েদের পুড়িয়ে মারতে এতোটুকুন হাত কাঁপে না। বিয়ে না হলে সর্বদা ধর্ষিতা হওয়ার ভয় আর বিয়ে হলে প্রায়ই পণপ্রথার জন্য বলি হতে হয়। বলতে পারেন স্যার, এই সমাজে মেয়েদের স্থান কোথায়?

      জানেন স্যার, সেই ছোট্টবেলায় আমার মেয়ে তার মাকে হারিয়েছে। সেই থেকে কোলে পিঠে করে তিল তিল করে ওকে আমি মানুষ করেছি। আমার আর আমার মেয়ের পৃথিবীতে আমি ওর বন্ধু, বাবা, মা সব ছিলাম। শত অভাব এর মধ্যেও আমি ওকে কোন কষ্টের আচ্ লাগতে দেইনি। কাজের থেকে এলে তার ছোট ছোট দুটি হাত দিয়ে গামছা নিয়ে আমার ঘাম মুছে দিত। বলতে বলতে বিমলের দুচোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়তে লাগলো। কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন। পুলিশ অফিসার জলের গ্লাস তার দিকে এগিয়ে দিলেন। তারপর তিনি নিজেকে আস্তে আস্তে সামলে নিয়ে আবার বলতে শুরু করলেন জানেন স্যার, আমার মেয়ের পন দেওয়ায় এ বিয়েতে রাজি ছিল না। পন দিতে রাজি হওয়ার জন্য স্যার আমিও সমান অপরাধী। জানেন স্যার, বিয়ে দেওয়ার পাঁচ মাসের মধ্যে একটি বারের জন্য আমি আমার মেয়েকে দেখতে পারিনি। একদিন মাত্র ফোন করেছিল। সেদিন আমার মা নিজের কষ্টের কথা আমাকে জানায়নি। বড্ড অভিমান করেছিল আমার উপর। বড্ড অভিমানী ছিল।

      বিমল পকেট থেকে পণের টাকাটা বের করে টেবিলের উপর রেখে বললেন,"স্যার, আমি আমার কথার খেলাপ করিনি। কিন্তু ওরা কি পারবে আমার মেয়েকে ফেরত দিতে? মাত্র কয়েকটা টাকার জন্য আমার মেয়েটাকে পুরিয়ে শেষ করে দিল? আমি আমার মেয়েকে বিয়ে দিয়ে কি পেলাম বলুন স্যার!? কি পেলাম ?

পেলাম শুধু "একমুঠো ছাই ।

 

 

একুশে সংবাদ/নাইম/প