ব্রণ ত্বকের একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা, যা মূলত লোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট ছোট ও প্রদাহযুক্ত দানার আকারে দেখা দেয়। শারীরিক অস্বস্তির পাশাপাশি মুখে ব্রণের উপস্থিতি অনেকের আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব ফেলে।
তাই দ্রুত ব্রণ দূর করার উপায় খুঁজতে লোশন, ঘরোয়া প্রতিকার কিংবা পিম্পল প্যাচসহ নানা পদ্ধতির আশ্রয় নেন অনেকে। একসময় ব্রণ কমাতে টুথপেস্ট ব্যবহারও বেশ জনপ্রিয় ছিল।
এখনও অনেকেই এ পদ্ধতিকে কার্যকর বলে মনে করেন। তবে দীর্ঘদিনের এই প্রচলিত ধারণা বাস্তবে কতটা নিরাপদ বা কার্যকর, তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। টুথপেস্ট দিয়ে ব্রণের চিকিৎসা সত্যিই উপকারী নাকি ক্ষতিকর
টুথপেস্ট কি সত্যিই ব্রণ দূর করে?
ব্রণ সারাতে টুথপেস্ট ব্যবহার করা একটি অতি পুরোনো কৌশল। কিন্তু এটি কতটা কার্যকর, না কি এটি শুধুই একটি ভ্রান্ত ধারণা? এই পরামর্শটি কয়েক দশক ধরে টিকে আছে, মূলত কারণ এটি কাজ করে বলে মনে হয়, অন্তত প্রথম নজরে। কিন্তু চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন যে টুথপেস্টের জন্য বাস্তবতা ততটা সুখকর নয়, বরং ত্বকের জন্য এটি আরও বেশি জটিল।
পুরোনো টুথপেস্টের ফর্মুলেশনে প্রায়শই ট্রাইক্লোসান নামক একটি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদানের সঙ্গে বেকিং সোডা এবং হাইড্রোজেন পারক্সাইডের মতো ত্বক সাদা করার উপাদান থাকত।
এই উপাদানগুলো দ্রুত ব্রণকে শুকিয়ে ফেলতে পারে, যার ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উপরিভাগের লালচে ভাব এবং ফোলাভাব কমে যায়। এই শুকিয়ে যাওয়ার প্রভাবকে প্রায়শই নিরাময় বলে ভুল করা হয়।
টুথপেস্ট ব্যবহারের এই কৌশলটি প্রচলিত আছে কারণ সামান্য দৃশ্যমান পরিবর্তনকেই সাফল্যের প্রমাণ বলে মনে করা হয়, এমনকি যদি তা ত্বকের স্বাস্থ্যের বিনিময়েও হয়।
এই ভ্রান্ত ধারণাটি ভাঙা জরুরি, শুধু সৌন্দর্যগত কারণেই নয়, বরং বারবার এর অপব্যবহার স্থায়ী জ্বালা বা ক্ষতের কারণ হতে পারে। ত্বকের যত্নের বেশিরভাগ সহজ পদ্ধতির মতোই, এর আকর্ষণ সুবিধার মধ্যেই নিহিত; কিন্তু বিজ্ঞান ভিন্ন কথা বলে।
ব্রণের জন্য টুথপেস্ট ব্যবহার সম্পর্কে গবেষণা কী বলে
২০১৪ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যানালাইসিস-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় বিশ্লেষণ করা হয়েছিল যে, দৈনন্দিন টুথপেস্ট কার্যকরভাবে ব্রণের চিকিৎসা করতে পারে কি না।
এই গবেষণায় পাঁচটি জনপ্রিয় টুথপেস্ট ব্র্যান্ড পরীক্ষা করে দুটি সাধারণ ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া, প্রোপিওনিব্যাকটেরিয়াম অ্যাকনেস এবং স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াসকে ধ্বংস করার ক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়।
গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে যে, টুথপেস্টের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান কিছু হোয়াইটহেড ব্রণ শুকাতে ও কমাতে সাহায্য করলেও, এটি সব ধরনের ব্রণের জন্য কোনো সার্বজনীন প্রতিকার নয়। তবে হোয়াইটেনিং টুথপেস্টের মতো কিছু নির্দিষ্ট ফর্মুলা ত্বকে প্রয়োগ করলে, এতে থাকা কঠোর ব্লিচিং উপাদানের কারণে জ্বালাপোড়া, চুলকানি এবং অস্বস্তি হতে পারে।
গবেষণাটি এই বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেছে যে, মুখের ত্বকে টুথপেস্ট অবশ্যই সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে। এটি অস্বস্তিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং ত্বকের জ্বালাপোড়া এড়াতে সাহায্য করতে পারে।
গবেষণাটি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, সাদা টুথপেস্ট ব্রণ সৃষ্টিকারী জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রকৃত অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল কার্যকারিতা দেখায়, কিন্তু এটিকে ব্রণ নিরাময়ের জন্য একটি নিরাপদ এবং কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

