পাকা আমের মিষ্টি গন্ধে ভরে ওঠে চারপাশ, আর এ সময় বাজারে নানা জাতের আমে ভরে যায় দোকানপাট। অনেকেই একসঙ্গে বেশি আম কিনে ঘরে সংরক্ষণ করেন। কিন্তু সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ ভুল প্রায়ই দেখা যায়—অনেকে আম সরাসরি ফ্রিজে রেখে দেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাসে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হতে পারে। কেন এমনটা হয়, তা জেনে নেওয়া যাক।
১. ঠান্ডা তাপমাত্রা আম পাকার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়
আম গ্রীষ্মমন্ডলীয় ফল এবং স্বাভাবিকভাবেই ঘরের তাপমাত্রায় সবচেয়ে ভালোভাবে পাকে। খুব তাড়াতাড়ি ফ্রিজে রাখলে ঠান্ডা তাপমাত্রা আম পাকার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দিতে বা বাধাগ্রস্তও করতে পারে। যে কারণে ফলটি ভেতর থেকে শক্ত থেকে যেতে পারে বা এর গঠন অমসৃণ হয়ে যেতে পারে।
২. স্বাদে প্রভাব পড়তে পারে
আমের মিষ্টতা এবং সুগন্ধের একটি অংশ স্বাভাবিকভাবে পাকার সময় তৈরি হয়। কাঁচা আম খুব ঠান্ডা পরিবেশে রাখলে এর স্বাদ নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং পাকা আমের পরিচিত তীব্র সুগন্ধ কমে যেতে পারে।
৩. খসখসে হয়ে যেতে পারে
অনেকে লক্ষ্য করেন যে ফ্রিজে রাখা কাঁচা আম নরম ও রসালো না হয়ে খসখসে বা দানাদার হয়ে যায়। এমনটা হয় কারণ ঠান্ডা তাপমাত্রা ফলের স্বাভাবিক পাকার রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
কখন আম ফ্রিজে রাখা উচিত?
আম যখন স্পর্শে নরম হয়ে আসে এবং বোঁটার কাছে মিষ্টি সুগন্ধ ছড়াতে শুরু করে, তখন সেগুলোকে ফ্রিজে রাখা যেতে পারে। পাকা আম ঠান্ডা করলে তা আরও বেশি পেকে যাওয়াকে ধীর করে দেয় এবং কয়েকদিন বেশি সতেজ রাখতে পারে।
আম দ্রুত পাকানোর সহজ কৌশল
কাগজের ব্যাগ বা খবরের কাগজ ব্যবহার করুন: আম কাগজের ব্যাগে রাখুন অথবা খবরের কাগজে আলতোভাবে মুড়ে দিন, যাতে প্রাকৃতিক ইথিলিন গ্যাস আটকে যায়, যা আম পাকাতে সাহায্য করে।
ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখুন: আম সরাসরি সূর্যের আলো থেকে দূরে একটি উষ্ণ ও শুষ্ক জায়গায় রাখুন, যাতে সেগুলো স্বাভাবিকভাবে পাকতে পারে।
গাদাগাদি করে রাখবেন না: আম সামান্য ফাঁকা ফাঁকা করে রাখলে বায়ু চলাচল ভালো হয় এবং অসমভাবে পাকা প্রতিরোধ করা যায়।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

