AB Bank
  • ঢাকা
  • সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

ঘুমের ঘাটতিতে শরীরে যে নেতিবাচক প্রভাব অনুভব করেন


Ekushey Sangbad
লাইফস্টাইল ডেস্ক
১০:৫৫ পিএম, ২৫ মার্চ, ২০২৬

ঘুমের ঘাটতিতে   শরীরে যে নেতিবাচক প্রভাব অনুভব করেন

ঘুমের ঘাটতির প্রথম ও সবচেয়ে সাধারণ প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হতে শুরু করে। কাজ শেখা, সিদ্ধান্ত নেওয়া বা সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা কমে যায়।

শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে পেশাজীবী- সবাই এর নেতিবাচক প্রভাব অনুভব করেন। দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি চলতে থাকলে বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও খিটখিটে মেজাজ দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে হতাশা ও মানসিক অস্থিরতা বাড়তে থাকে, যা সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলে।

ঘুম শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঘুমের সময় শরীর বিভিন্ন প্রতিরোধক কোষ ও প্রোটিন তৈরি করে, যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে। নিয়মিত কম ঘুমালে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে সর্দি-কাশি, জ্বরসহ বিভিন্ন সংক্রমণে সহজেই আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগের মতো জটিল অসুখের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর ঘুমের ঘাটতির প্রভাব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা রক্তচাপ ও হৃদ্‌স্পন্দন বাড়ায়। এতে হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দীর্ঘদিন কম ঘুমান, তাদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে মধ্যবয়সী ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুতর।

ঘুমের অভাব বিপাকক্রিয়াকেও ব্যাহত করে। শরীরের ইনসুলিন ব্যবস্থাপনায় সমস্যা দেখা দেয়, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।

পাশাপাশি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়, বিশেষ করে উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে। এর পরিণতিতে ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতার সমস্যা দেখা দেয়।

শিশু ও কিশোরদের জন্য ঘুমের গুরুত্ব আরও বেশি। এই বয়সে শরীর ও মস্তিষ্ক দ্রুত বিকশিত হয়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে তাদের শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে, পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যায় এবং আচরণগত সমস্যা দেখা দেয়। অতিরিক্ত মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহারের কারণে অনেক শিশু-কিশোর রাত জেগে থাকে, যা ভবিষ্যতে তাদের স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ঘুমের ঘাটতি শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও প্রভাব ফেলে। কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা কমে, অসুস্থতার কারণে কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। দুর্ঘটনা ও ভুল সিদ্ধান্তের ফলে আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনাও বাড়ে। একটি সুস্থ ও কার্যকর সমাজ গড়ে তুলতে নাগরিকদের পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি।

 

একুশে  সংবাদ/ওজি

Link copied!