আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এর সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার-এর বিরুদ্ধে সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী-র স্ত্রীর কাছে কোটি টাকার ঘুষ চাওয়ার প্রমাণ পেয়েছে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নিজ কার্যালয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, তাদের একজন প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার এক আসামি ফজলে করিম চৌধুরীকে খালাস করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার স্ত্রীর কাছে এক কোটি টাকা ঘুষ চান। এ সংক্রান্ত অডিওটি গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়ার পর একটি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে তদন্ত শুরু করা হয়। ইতোমধ্যে সেই অডিও রেকর্ডের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং এতে উভয়ের কথোপকথন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘কথোপকথনের সত্যতা পেলেও এর বাইরে তাদের কোনও লেনদেন হয়েছে কিনা, সে বিষয়টি এখনও খতিয়ে দেখছি। এর আগে এই বিষয়টা যখন আমাদের সামনে আসে, তাকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করি এবং এরপরই তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। পদত্যাগ করলেও এ বিষয়টি আমরা তদন্ত করে যাচ্ছি। খুব দ্রুতই আমরা তদন্ত রিপোর্টটি প্রকাশ করবো এবং আসল সত্যটা তুলে ধরবো। পরে প্রতিবেদনটি আইন মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করবো।’
এর আগে গত ৯ মার্চ রাতে বেসরকারি একটি টেলিভিশন ফজলে করিমের স্ত্রী ও প্রসিকিউটর সাইমুমের এ অডিও প্রকাশ করে। অডিও’র কথোপকথনে কিস্তিতে টাকা পরিশোধের আলোচনার পাশাপাশি, মামলা থেকে অব্যাহতির নিশ্চয়তা হিসেবে বিএনপির এক সংসদ সদস্য এবং এক প্রতিমন্ত্রীকে দিয়ে তদবির করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনালের নতুন চিফ প্রসিকিউটরকে ‘রিজনেবল’ হিসেবে তুলে ধরে অডিওতে তার সমর্থন আদায়ে ওই রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশ কাজে লাগবে বলেও অডিওতে শোনা যায়।
সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীকে ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে গ্রেফতারের তথ্য দেয় পুলিশ।
প্রসিকিউশনের তথ্যমতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ৯ জন নিহত এবং ৪৫৯ জন আহত হওয়ার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে সংঘটিত গণহত্যার মামলায় গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
এদিকে ওই মামলাকে কেন্দ্র করে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের ফেসবুকে সাইমুম রেজা তালুকদার পোস্ট দেন। তার দাবি, এটি একটি মহলের অপপ্রচার এবং অডিওগুলো মিথ্যা।
যদিও সেই অভিযোগ তদন্তে চিফ প্রসিকিউটরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

