বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হয় গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রনালী দিয়ে। সম্প্রতি এই প্রণালিকে ঘিরে নতুন বিধিনিষেধ জারির ঘোষণা দিয়েছে ইরান, যা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হলে সব ধরনের নৌযানকে আগে থেকেই ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত টোল ফিও পরিশোধ করতে হবে।
নৌচলাচল বিষয়ক জার্নাল লয়েড’স লিস্টের বরাতে জানা যায়, পারসিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি (পিজিএসএ) ইতোমধ্যে এই নিয়ম কার্যকর করেছে। এতে বলা হয়েছে, জাহাজগুলোকে মালিকানা, বীমা, ক্রু, মালামাল, প্রস্থান ও গন্তব্যসহ ৪০টিরও বেশি তথ্য সম্বলিত একটি ‘ভেসেল ইনফরমেশন ডিক্লারেশন’ ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হবে। অনুমোদন পাওয়ার পরই প্রণালি অতিক্রম করা যাবে।
তবে টোল নির্ধারণের পদ্ধতি ও পরিমাণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, তেহরান এই পদক্ষেপকে “হরমুজ প্রণালির ওপর সার্বভৌমত্ব চর্চার অংশ” হিসেবে উল্লেখ করেছে। পাশাপাশি জাহাজ কোম্পানিগুলোকে তথ্য পাঠাতে একটি ইমেইল ঠিকানাও ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে বলে জানানো হয়।
এদিকে পিজিএসএ সতর্ক করেছে, ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকেই বহন করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ হরমুজ প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হিসেবে বিবেচিত।
তবে কোনো দেশ বা জাহাজকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে ইরান এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
এর আগে গত শনিবার ইরানের এক সেনা কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাকে বলেন, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলিতভাবে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তাদের জন্য এই প্রণালি অতিক্রম করা আরও কঠিন হতে পারে।
তিনি আরও জানান, প্রণালিতে একটি নতুন আইনি ও নিরাপত্তা কাঠামো কার্যকর করা হয়েছে এবং এখন থেকে সব জাহাজকে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে চলাচল করতে হবে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

