AB Bank
  • ঢাকা
  • রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী
মুকিম খান

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল অ্যামিউজমেন্ট পার্ক দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্র


Ekushey Sangbad
হাফিজ রহমান
০৮:২৮ পিএম, ২৪ জুন, ২০২৬

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল অ্যামিউজমেন্ট পার্ক দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্র

দেশের পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতের দূরদর্শী, মেধাবী এবং অধ্যবসায়ী সফল উদ্যোক্তার প্রতিকৃতি। ঐকান্তিক চিন্তা চেতনায় তিনি যুক্ত হয়েছেন কক্সবাজারের ব্যবসা-বাণিজ্যে। আর তারই প্রতিফলন ঘটেছে বিভিন্ন সফল এবং উজ্জ্বল উদ্যোগে। 

তিনি কক্সবাজারের কলাতলী রেইনভিউ রিসোর্ট এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর। কক্সবাজারের ইনানীতে-ইনানী রয়েল রিসোর্ট এর চেয়ারম্যান এবং কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল অ্যামিউজমেন্ট পার্ক এন্ড রিসোর্টের ভাইস চেয়ারম্যান। বাংলাদেশে হোটেল ও ট্যুরিজম সেক্টরে সর্বাধুনিক সংযোজন হিসেবে গণ্য হচ্ছে তাঁর এসব নান্দনিক উদ্যোগ।

মনোরম, সুন্দর এবং অত্যাধুনিক সেবা-সুবিধাসম্পন্ন এ রিসোর্টগুলো দেশি-বিদেশি পর্যটকদের মুগ্ধ করছে প্রতিনিয়ত। তিনি এ ব্যবসায় প্রতিনিয়ত অনুভব করেন কোথায় যেন রয়েছে শূন্যতা! নিবিড় পর্যবেক্ষণে বুঝতে পারেন দেশের পর্যটন সেক্টরের সমস্যা-সম্ভাবনার কথা। কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প বিকাশে সি-বিচের একদম কাছে কলাতলী মেইন রোড ও ডলফিন মোড় সংলগ্ন রেইনভিউ রিসোর্টটি ৭ তলা ভবনে প্রতিষ্ঠা করেন। এটি কক্সবাজারের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। পর্যটকদের নিরবচ্ছিন্ন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ও উন্নত সেবা সমৃদ্ধ এ রিসোর্টটিতে রয়েছে ৭৩টি রুম। যার মধ্যে কাপল, ফ্যামিলি ও বন্ধুদের গ্রুপ ট্রিপের জন্য উপযোগী ডিলাক্স রুম, প্রিমিয়াম কাপল রুম, প্রিমিয়াম ফোর বেড রুম, প্রিমিয়াম কানেকটিং বেড রুম, রয়েল স্যুইট রুম এবং ফ্যামিলি রয়েল স্যুইট রুম। রেইনভিউ রিসোর্টের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত চৌকস ও দক্ষ স্টাফ সার্ভিস। রেইনভিউ রিসোর্টের আতিথেয়তা গ্রহণ করেছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভিআইপিবৃন্দ এবং তাদের মন্তব্য হচ্ছে- চমৎকার।

পর্যটন ব্যক্তিত্ব মুকিম খানের আরেকটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে: ইনানী রয়েল রিসোর্ট। এটি কক্সবাজারের ইনানী বিচ পয়েন্টে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাশে অবস্থিত। দেশের পর্যটন শিল্পে আস্থার ও মানসম্পন্ন সেবার প্রতীক হিসেবে এ রিসোর্টটিতে ৮টি পৃথক ভবন রয়েছে। ভবনগুলোতে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডের ৪৮টি রুম রয়েছে। সুবিন্যস্ত অভ্যন্তরীণ ডেকোরেশন, আরামদায়ক লিভিং রুম এবং মনোলোভা একান্ত পরিবেশে সাজানো সুইমিং পুল। রিসোর্টের সামনের উদ্যানে নানা ধরনের ফুল ও শোভাবর্ধক গাছ রয়েছে। পর্যটক কেয়ারে অত্যন্ত যত্নশীল বলেই ইনানী রয়েল রিসোর্টের প্রতি আকর্ষণ ও চাহিদা লক্ষ্যণীয়। এ রিসোর্টটি পর্যটন খাতে বড় ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ মুকিম খান তাঁর নিরন্তর গবেষণা, উদ্যোগ, বিনিয়োগ এবং প্রকল্প পরিকল্পনা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়। তিনি কক্সবাজারের পর্যটনকে বিকশিত ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করার লক্ষ্যে ‘কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল অ্যামিউজমেন্ট পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর প্রসারের দায়িত্ব নিয়েছেন। স্বপ্নচারী এই উদ্যোক্তা বর্তমানে এই পার্কের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি এ পার্ক সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল অ্যামিউজমেন্ট পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট নির্মাণে বিশিষ্ট চলচ্চিত্র প্রযোজক হাসনাবাদ হাউজিং কোম্পানির স্বত্বাধিকারী মো. নাজিম উদ্দিন সাহেব বিনিয়োগ করেছেন। তাঁর থেকে আমরা ১০ জন উদ্যোক্তা লীজ নিয়েছি। দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারে এ ধরনের অ্যামিউজমেন্ট পার্কের গুরুত্ব অপরিসীম বলেই আমরা নতুন উদ্যমে শুরু করেছি। বর্তমানে এ পার্কটি স্থানীয় ও দেশি বিদেশি পর্যকটদের কাছে আকর্ষণীয় বিনোদনের ঠিকানা হয়ে উঠেছে। এটি কক্সবাজার শহরের কোলাহলমুক্ত শহরের পাশেই অবস্থিত। কক্সবাজার টেকনাফ সড়কের লাগোয়া রামুর চেইন্দায় ১০০ বিঘা জমির উপর নির্মিত। পার্কটিতে শিশু-কিশোর ও পরিবারের সদস্যদের জন্য রাখা হয়েছে নানা ধরনের আধুনিক ২০টি আকর্ষণীয় রাইড ও বিনোদনমূলক ব্যবস্থা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে প্যারাটুভা রাইড, সুইং চেয়ার, ওয়াটার বল, প্যাডেল বোট, মেরিগোল্ড, বেবী ট্রেন, বেবী কার, মিনি মেরী গোল্ড, কিডস জোন, জাম্পিংপ্যাড। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থীদের উপযোগী একাধিক ফান রাইড। পার্কের অভ্যন্তরে রয়েছে থ্রি স্টার মানের রিসোর্ট, যাতে পর্যটকরা নিশ্চিন্তে রাত্রি যাপনের সুবিধা নিতে পারেন।

পাশাপাশি বিয়ে, কর্পোরেট মিটিং ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের জন্য রয়েছে আধুনিক হল রুম, কনফারেন্স রুম ও মসজিদ। আগামী কয়েকমাসের মধ্যে পার্কে যুক্ত হতে যাচ্ছে সুইমিং পুল, ফুটবল, ক্রিকেট ও ব্যাটমিন্টন টার্ফ। এতে ক্রীড়াপ্রেমীরা আধুনিক খেলাধুলার সুযোগ পাবেন। ফলে পার্কটির আকর্ষণ আরও বাড়বে। পরিকল্পনা আছে পার্কে সু-উচ্চ টাওয়ারে অত্যাধুনিক মুভিং রেস্টুরেন্ট, অত্যাধুনিক জিম, কৃত্রিম পাহাড়, ক্যাবল কারসহ নানাবিধ রাইড বসানোর। শুটিং ও পিকনিক স্পটও করা হবে। নিরাপত্তার দিক থেকে আমাদের এ পার্কটি সুরক্ষিত। সমগ্র এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায়। নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে একদল চৌকস অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষিত নিরাপত্তা কর্মী। আর পাশেই রয়েছে কক্সবাজার র‌্যাব ক্যাম্প। হসপিটালিটি খাতের সফল উদ্যোক্তা মুকিম খান ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সংশ্লিষ্ট রেখেছেন।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক, কক্সবাজার হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, সন্দ্বীপ অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক, কক্সবাজার পর্যটন উন্নয়ন কমিটির নির্বাহী সদস্য, ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার এর উপদেষ্টা, লায়ন্স ক্লাব অব কক্সবাজার সিটির সভাপতি, এপেক্স ক্লাব অব কক্সবাজার এর সাবেক সভাপতি। এছাড়াও তিনি বর্ণমালা স্কুল অ্যান্ড দারুল কোরআন একাডেমি ও চাইনিজ উসু স্কুল, কক্সবাজার এর সিনিয়র সহ-সভাপতি, কক্সবাজার জেলা উসু খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির সভাপতি। লেখক ও সাংবাদিক হিসেবেও তিনি বহুল প্রশংসিত জাতীয় দৈনিক কালের সমাজ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক, কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত দৈনিক রূপালী সৈকত এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক। এছাড়া তিনি কক্সবাজার জেলা প্রেস ক্লাবের পর্যটন বিষয়ক সম্পাদক এবং চন্দ্রিমা আবাসিক কল্যাণ পরিষদের উপদেষ্টা।

বর্তমান সময়ের আলোচিত পর্যটন উদ্যোক্তা মুকিম খান মনে করেন, বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের গৌরবগাথা আর মনোরম পর্যটন সম্পদের কথা বিশ্বের অনেক দেশেই সুবিদিত। এ দেশের প্রাচীন জনপদে যে প্রত্নসম্পদ রয়েছে তার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার মধ্য দিয়ে পর্যটন শিল্প বিকাশের অবারিত সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং যথাযথ প্রচার। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ আবহমান বাংলার রূপ বিশ্বের অহংকার। সৃষ্টির অপার মহিমার কথা বলে শেষ করা যায় না। সবুজ শ্যামল বাংলার পর্যটন আকর্ষণ অনেক দেশের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!