বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্রমাগত তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। কার্বন নির্গমন বৃদ্ধি, বন উজাড়, এবং শিল্পায়নের প্রভাবের কারণে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে, যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দেশের গড় তাপমাত্রা প্রতি বছর ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহের তীব্রতা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। গবেষণা বলছে, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, বিশেষ করে রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুরে গ্রীষ্মের সময় দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ সাধারণ মানুষের জন্য জীবন-মরণ সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা বর্তমানের তুলনায় অন্তত ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে, যা কৃষি, জনস্বাস্থ্য এবং অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করবে।
উচ্চ তাপমাত্রার কারণে দেশের কৃষি খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ধান, গম ও ভুট্টার উৎপাদন ব্যাপক হ্রাস পাচ্ছে। কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত গরমের কারণে ধানের ফলন কমছে ১৫-২০% পর্যন্ত। এর ফলে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তাপপ্রবাহের কারণে শুধুমাত্র কৃষিই নয়, শ্রমজীবী মানুষের কর্মক্ষমতাও ব্যাপকভাবে কমে যাচ্ছে। নির্মাণ শ্রমিক, রিকশাচালক ও খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষের জন্য জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ছে।
অতিরিক্ত গরমের কারণে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং ত্বকের নানা সমস্যার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। হাসপাতালে গরমজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষের ঝুঁকি অনেক বেশি। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী পরিবেশগত সংকটের মুখোমুখি হবে।
এই সমস্যার সমাধানে ব্যাপক বনায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং শিল্প কারখানার কার্বন নির্গমন নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিচ্ছেন। পাশাপাশি সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা করা সম্ভব বলে মনে করছেন গবেষকরা।
একুশে সংবাদ// এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

