ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২০, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
Ekushey Sangbad
Janata Bank
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৩১ নির্দেশনা

করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি নিয়ে বিপাকে অভিভাবকরা


Ekushey Sangbad
টি.আই সানি, শ্রীপুর (গাজীপুর)
নভেম্বর ১৪, ২০২০, ০৫:৪৫ পিএম
করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফি নিয়ে বিপাকে অভিভাবকরা

করোনাকালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শিক্ষা ফি (টিউশন ফি) আদায়ে চাপ না দিতে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও অনেক প্রতিষ্ঠান এই সময়েও শিক্ষা ফি আদায় করছে, তাগাদাও দিচ্ছে। কেউ আদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আবার শিক্ষা ফি আদায় করতে না পারায় অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-দিতে পারছে না। শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থী ফি আদায়ে চাপ না দিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হলেও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলছেন তাদের এই বিষয়টি জানা নেই।

এ রকম উভয়সংকটে পড়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের সহযোগিতা চাচ্ছে। অভিভাবকদের কেউ কেউ বলছেন, যেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস নেই-পরীক্ষা নেই। তাই কয়েক মাসের শিক্ষা ফি মওকুফ করে দেওয়া ও প্রয়োজনে সরকার ভুর্তকি দিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের সমস্যা মেটাতে পারে।

শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান এর দেয়া তথ্য ও পরিসংখ্যান বলছে, উপজেলায় কিন্ডারগার্টেন,স্কুল রয়েছে ৩৫০টি, প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে ১৬৬টি। এগুলোতে মোট শিক্ষার্থী প্রায় পৌনে ২ লক্ষ। মাধ্যমিকে প্রতিষ্ঠান এর বিষয় মাধ্যমিক শিক্ষ অফিসারকে একাধিক ফোন দিলেও তিনি ফোন কলটি রিসিপ করেননি। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাদের বিষয়েও কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৮ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সবাই কমবেশি সমস্যায় পড়েছে। একদিকে পড়াশোনার ক্ষতি, অন্যদিকে আর্থিক সংকট। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সমস্যাটি বেশি। অভিভাবকেরাও আর্থিক সমস্যায় আছেন। এ জন্য বিদ্যমান পরিস্থিতিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর ও শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থী ফি আদায়ে চাপ না দিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

কিন্তু উপজেলার কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষা ফি আদায় করছে। কেউ কেউ তাগাদাও দিচ্ছে। প্রাই সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এপ্রিল, মে ও জুন মাসের বেতন আদায় শুরু করেছে অতি গোপনে। মুঠোফোনভিত্তিক আর্থিক সেবার (রকেট, ন্যাকসাস পে) মাধ্যমে তারা কয়েক দিন ধরে এই টাকা আদায় শুরু করেছে।

কোনো কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান শিক্ষা ফি আদায় করায় অভিভাবকেরা ক্ষুব্ধ। আবার ফির অভাবে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের সংকট।

শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার কারণসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে আব্দুল আউয়াল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম জানালেন, তাঁরা চাপ দিচ্ছেন না। যাদের ৭/৮মাস বেতন বাকী তাদেরথেকে ২/৩মাসের বেতন নেওয়া হচ্ছে। তবে বিভিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সম্পন্ন বেতনই নিচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক জবাবদিহিকে বলেন, নানা কৌশলে ফি আদায়ে চাপ দেওয়া হচ্ছে। যেমন কলেজ শাখার পক্ষ থেকে একাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের খুদে বার্তা পাঠিয়ে বলা হয়েছে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এখনো দ্বাদশ শ্রেণি ‘প্রমোশন’ দেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘অটো প্রমোশন’ ছাড়া বিকল্প নেই। তাই বর্তমান মাস পর্যন্ত বেতন পরিশোধ করলে ‘অটো প্রমোশনের’ জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হবে। ২০ডিসেম্বরের মধ্যে বেতন পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।

ওই অভিভাবক বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বেশির ভাগ অভিভাবক অর্থসংকটে আছেন। এ অবস্থায় অন্তত ছয় মাস বেতন মওকুফ করে প্রয়োজনে সরকার থেকে প্রণোদনা দিয়ে সমস্যা মেটাতে পারে।

অনেক শিক্ষর্থীরা বিকাশের মাধ্যমেও ফি আদায় করেছে। এখন ব্যাংক ও বিকাশের পাশাপাশি স্কুলে গিয়েও বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। আর ফির জন্য অভিভাবকদের তাগাদা দিয়ে অভিভাবকদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া উপজেলার উচ্চবিদ্যালয়সহ কিন্ডারগার্ডেন প্রতিষ্ঠান গুলো ফি আদায় করছে। 

বর্তমান পরিস্থিতিকে উভয়সংকট বলে উল্লেখ করে শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষ অফিসার মোঃ কামরুল বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সময়ে বেশি মানবিক হতে বলছেন। শিক্ষার্থী ফি আদায়ে চাপ দেওয়া যাবে না। তবে শিক্ষর্থীদের চাপের মুখে ফেলে কোন প্রতিষ্ঠান ফি আদায় করার লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একুশে সংবাদ/এআরএম