ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০, ৯ কার্তিক ১৪২৭
Ekushey Sangbad
Janata Bank
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৩১ নির্দেশনা

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কেন জরুরি


Ekushey Sangbad

অক্টোবর ৬, ২০২০, ১০:২৭ এএম
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কেন জরুরি

আমরা যারা আশির দশকে বড় হয়েছি, আমাদের জীবনের প্রথম আনুষ্ঠানিক নিবন্ধনের অভিজ্ঞতা হয়েছে এসএসসি পরীক্ষার সময়, তাও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সঠিক জন্ম তারিখের ভিত্তিতে নয়। এমনিতে জন্মের পর যার যার ধর্মীয় পরিচয় ও সামর্থ্য অনুযায়ী জন্মোৎসব হয়তো পালন করা হতো; যেমন- আকিকা, মুখে ভাত ইত্যাদি; কিন্তু কাগজে-কলমে নাম-পরিচয় লিপিবদ্ধ করা হতো এসএসসি পরীক্ষার আগে।

জন্মের সঙ্গে সঙ্গে জন্মনিবন্ধন না হওয়ায় যারা এসএসসি পর্যন্ত আসতে পারে না, তাদের কোনো সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। এতে করে একজন মানুষ যেসব জন্মগত অধিকার নিয়ে জন্মায়, পরবর্তী জীবনে তার পক্ষে কোনো আইনি সহায়তা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। যার আইনি পরিচয় নেই সে আসলে আইনের চোখে অদৃশ্য, সে পদে পদে ঝামেলা আর হেনস্তার শিকার হয়।

মৃত্যু নিবন্ধনের অবস্থা আরও করুণ। শুধু মৃতের রেখে যাওয়া সম্পত্তি বা ব্যাংকে রেখে যাওয়া টাকা উত্তোলন করার প্রয়োজনীয়তা ছাড়া উত্তরসূরিদের মৃত্যু নিবন্ধন করার কথা ভাবা হয় না। কিন্তু মৃত্যু নিবন্ধন এবং মৃত্যুর কারণ নিবন্ধন ছাড়া একটা দেশের সামগ্রিক জনসংখ্যা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত গবেষণা করা প্রায় অসম্ভব। জন্ম ও বিশেষ করে মৃত্যু নিবন্ধনের এ নিুহার শুধু আমাদের দেশেই নয়, সব উন্নয়নশীল দেশেরই একই চিত্র।

নাগরিকের জীবনের জন্ম, মৃত্যু, মৃত্যুর কারণ, বিয়ে, তালাক, দত্তক- এসব গুরুত্বপূর্ণ জনতাত্ত্বিক ঘটনা নিবন্ধন করা এবং এ তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পরিসংখ্যান প্রস্তুত করার সমন্বিত প্রক্রিয়াকে সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিক্স (সিআরভিএস) বলা হয়, যার বৈশ্বিক লক্ষ্য ‘make every life count’। এ তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমেই একটি দেশের সরকার সেদেশের প্রত্যেক মানুষকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সর্বোপরি সামাজিক নিরাপত্তাবিষয়ক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে।

বাংলাদেশ সরকার ২০১০ সালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নেতৃত্বে সিআরভিএসের কার্যক্রম শুরু করে এবং দেশে বিদ্যমান বিভিন্ন আইডি ব্যবস্থা সমন্বিত করে ইউনিক আইডি প্রবর্তন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, যা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে বড় অবদান রাখবে।

রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, বাংলাদেশ স্থানীয় সরকারের উদ্যোগে অনলাইনে ২০১০ সাল থেকে খুব সহজেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করা হয়। সুনাগরিক হিসেবে আমাদের কর্তব্য হচ্ছে শিশুর জন্মের সঙ্গে সঙ্গে জন্মনিবন্ধন করা।

এ আইনি পরিচয় শিশুকে দেয়া বাবা-মায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপহার, যা তাকে ভবিষ্যতে সব রকমের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। শুধু সম্পত্তি ভাগাভাগির জন্যই নয়, মৃত্যুর পরও মৃত ব্যক্তিকে নিবন্ধিত করা আমাদের উত্তরসূরিদের দায়িত্ব, জন্মনিবন্ধনের মতোই তা গুরত্বপূর্ণ। তা না হলে মৃত ব্যক্তির আইডি নিয়ে জাল ভোট দেয়া বা প্রতারণা করে বিভিন্ন ভাতা তোলার মতো অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব নয়।

প্রতি বছরের মতো এ বছরেও সরকার আজকের দিনটি (৬ অক্টোবর) জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস হিসেবে পালন করছে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়- ‘সকল নাগরিক অধিকার করতে সুরক্ষণ, ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন’। এখানে গুরুত্বপূর্ণ যে মেসেজটা আছে তা হল জন্ম বা মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যেই তা নিবন্ধন করতে হবে।

তা না হলে যত দেরি হবে ততই এ নিবন্ধন কাজ জটিল, সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ হয়ে যাবে। এতে করে নিবন্ধিত তথ্য-উপাত্ত যেমন সঠিক হবে না, তেমনি জনগণেরও ভোগান্তি বাড়বে। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন তথা সিআরভিএসের কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়নের অন্যতম মৌলিক নীতি Leave no one behind-এর যথাযথ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। এর জন্য দরকার আমাদের সবার সচেতনতা।

নীলিমা ইয়াসমীন : প্রজেক্ট ম্যানেজার, ওপেনসিআরভিএস, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ

Side banner