ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২০, ৮ কার্তিক ১৪২৭
Ekushey Sangbad
Janata Bank
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ৩১ নির্দেশনা

অবৈধ গ্যাস সংযোগ রোধ করুন


Ekushey Sangbad
মাসুমা সিদ্দিকা, রন্ধন শিল্পী
অক্টোবর ৪, ২০২০, ০১:১৮ পিএম
অবৈধ গ্যাস সংযোগ রোধ করুন

প্রতিদিন সকালে যখন গ্যাসের চুলা জ্বালাতে যাই তখন এক অজানা শঙ্কায় বুক দুরুদুরু করে। চুলার লাইন পরীক্ষা করি, জানালা খুলে দিই। ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে গ্যাসের আগুনে প্রাণ গেছে বহু মানুষের। অথচ গ্যাস ব্যবহার আমাদের নাগরিক জীবনে একটা অতি সাধারণ বিষয় হওয়ার কথা। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের একটি মসজিদে গ্যাস দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে বেশ কয়েকজন মুসল্লির, যারা নামাজ আদায় করতে এসেছিলেন। আর এই প্রাণসংহারী ঘটনাগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় এ দেশে সাধারণ মানুষের জীবন কত সস্তা।

ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের তথ্যমতে ২০১৭ সালে দেশে চুলা থেকে সৃষ্ট অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটেছে ২৩৮টি আর গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটেছে প্রায় ৫,৬৫০টি, যেগুলো থেকে আরও অনেক দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। আবার ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের দেয়া তথ্যে জানা যায়, ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে গ্যাস দুর্ঘটনায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে ১০৩টি, যার মধ্যে গ্যাস লাইনের ছিদ্র থেকে ৫৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রতি বছর এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে বহু মানুষ।

ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতে গ্যাস দুর্ঘটনার একটা বড় কারণ অবৈধ গ্যাস সংযোগ। যখন বৈধ উপায়ে গ্যাস সংযোগ দেয়া হয় না কোনো বাড়িতে বা কারখানায়, তখনই মানুষ অবৈধ সংযোগের জন্য দালালদের কাছে ধরনা দেয়। দালালরাও তাদের নিজেদের কায়েমি স্বার্থে জনগণের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করেই তিতাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তায় অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দেয়। এসব অবৈধ সংযোগে যে গ্যাস ব্যবহৃত হয় তা সিস্টেম লসে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয় না। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কর্তৃপক্ষ তখন কিছুটা নড়েচড়ে বসে, কিছু অভিযান পরিচালনা করে। আর তার ফলে অনেক সংযোগ লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়, কিছু ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্তও করা হয়।

দেখা গেছে, অধিকাংশ অবৈধ সংযোগের স্থানেই গ্যাস লিকেজ হয়, যা থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটতে পারে এবং ঘটছেও। তিতাসের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করত, তাহলে দেশে আজ এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। গ্যাস দুর্ঘটনা রোধে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দায়িত্বশীল হতে হবে। তারা যদি লোভ-লালসা ত্যাগ করে নিজেদের দায়িত্বে অটুট থাকেন, যথাযথ পদক্ষেপ নেন এবং সুচারুরূপে সব কাজ করেন, তাহলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব। আর ফায়ার সার্ভিসের লোকেরাও যদি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো বারবার পর্যবেক্ষণ করেন এবং সতর্ক করেন জনগণকে, তাহলেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমে যাবে। তবে এর পাশাপাশি জনগণকেও অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেয়া বন্ধ করতে হবে। তাদের ব্যবহার্য গ্যাসের চুলা ও লাইন নিয়মিত পরীক্ষা করাতে হবে। কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তাড়াতাড়ি সেটা সারিয়ে নিতে হবে।

একুশে সংবাদ/যু/এআরএম

Side banner