ঢাকা শুক্রবার, ০৬ আগস্ট, ২০২১, ২২ শ্রাবণ ১৪২৮

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

সঙ্কটে দেশের চামড়া শিল্প


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
০১:৫২ পিএম, ২০ জুলাই, ২০২১
সঙ্কটে দেশের চামড়া শিল্প

সঙ্কটের মধ্যে পড়েছে দেশের চামড়া শিল্প। সিনথেটিক ও ফেব্রিক দিয়ে উৎপাদিত জুতা, ব্যাগ, মানিব্যাগ, বেল্ট, জ্যাকেটের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় চামড়ার বাজার কিছুটা মন্দা। এছাড়া হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারের ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে স্থানান্তরের ফলে কারখানাগুলো পুনরায় পুরোদমে উৎপাদনে যেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায় পাশাপাশি দেশীয় চামড়া রফতানিযোগ্য মান অর্জন করতে না পারাও চামড়া শিল্পের জন্য হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী গুরুত্বপূর্ণ খাত হওয়া সত্ত্বেও চামড়া শিল্প পোশাক শিল্পের তুলনায় কম সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ায় এই খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া ঈদুল আজহায় এক শ্রেণির ব্যবসায়ী চামড়া যথাযথ সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করে নিজেদের কাছে অতিরিক্ত সময় রেখে দেন। ফলে চামড়ার গুণগত মান নষ্ট হয় এবং আন্তর্জাতিক রফতানি মান হ্রাস পায়। এগুলোও চামড়া খাতের সঙ্কট বাড়িয়েছে।

 আমরা যে চামড়া সংগ্রহ করি তার বড় অংশই আসে কোরবানির পশু থেকে। করোনা মহামারির মধ্যে এবারের কোরবানি হবে। কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। সরকার থেকে চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। আমরা এই দামকে যুক্তিসংগত মনে করছি। 

সম্প্রতি সরকারি একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে চামড়া শিল্পের সঙ্কটের বিভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। এছাড়া চামড়া শিল্প সঙ্কটের মধ্যে থাকার তথ্য দিয়েছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা।

আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চাহিদা, উৎপাদন, সরবরাহ ও চামড়া শিল্পের ক্রমাবনতির ওপর সরকারি একটি গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের রফতানিমুখী খাতের দ্বিতীয় বৃহত্তম হলো চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। চামড়া শিল্পের প্রধান উপকরণ কাঁচা চামড়ার বাৎসরিক যোগানের প্রায় ৫০ ভাগেরও বেশি আসে পবিত্র ঈদুল আজহার কোরবানির পশু থেকে। গত বছরের কোরবানির সময় ৯৪ লাখ ৫০ হাজার পশুর চামড়ার যোগান ছিল। এ বছর দেশে কোরবানির চাহিদা পূরণের জন্য ইতোমধ্যেই প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ বিভিন্ন প্রকারের হৃষ্টপুষ্ট পশু প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু দেশের এই সম্ভাবনাময় খাতটি গত তিন বছর যাবত অব্যাহতভাবে লোকসান গুনছে।

এতে বলা হয়েছে, এই খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৯ লাখ মানুষ জড়িত রয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে এই শিল্পের উন্নয়নের জন্য হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও গতবারের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে গরু-ছাগলের চাহিদা ও যোগানের একটি তুলনামূলক চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, এবার কোরবানির পশু (গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া) প্রস্তুত আছে ১ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার। ২০২০ সালে ছিল ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার। তার আগে ২০১৯ সালে ১ কোটি ১৭ লাখ ৮৮ হাজার এবং ২০১৮ সালে ১ কোটি ১৫ লাখ ৮৯ হাজার পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত ছিল।

বাংলাদেশের প্রক্রিয়াজাত করা চামড়ার অন্যতম আমদানিকারক দেশ চীন। লেদার পণ্যের পাশাপাশি সিনথেটিক এবং ফেব্রিক পণ্য উৎপাদনে বিশ্বের একক বৃহত্তম দেশ চীন বর্তমানে আগের মতো বাংলাদেশ থেকে চামড়া আমদানি করছে না। পাশাপাশি তুলনামূলক কম দাম ও সুরুচিসম্মত হওয়ায় সিনথেটিক এবং ফেব্রিক দ্বারা উৎপাদিত জুতা, ব্যাগ, মানিব্যাগ, বেল্ট, জ্যাকেট ইত্যাদি পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। 

চলতি বছর আনুমানিক ৯৯ লাখ ২২ হাজার পশু কোরবানি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২০ সালে পশু কোরবানি হয় ৯৪ লাখ ৫০ হাজার। তার আগে ২০১৯ সালে ১ কোটি ৬ লাখ ১৪ হাজার এবং ২০১৮ সালে ১ কোটি ৫ লাখ ৬৯ হাজার পশু কোরবানি হয়।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনে অতিমারি করোনার বিস্তৃতি ঘটলে চীন বাংলাদেশের প্রায় একশ কন্টেইনার রেডি/প্রক্রিয়াজাত করা চামড়ার চুক্তি বাতিল করে। ফলে বাংলাদেশের চামড়া শিল্পকে একটি বড় অঙ্কের লোকসান শুনতে হয়। দেশে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের যে চাহিদা রয়েছে তার একটি বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। দেশীয় চামড়া শিল্পের বিকাশে রফতানির পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে মানসম্মত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে দেশীয় চাহিদা পূরণ করা ও বাজার দখল করা সম্ভব- বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, চামড়া ব্যবসায়ীরা ব্যাংক থেকে ঋণ সুবিধা পেলেও ব্যাংক বকেয়া ঋণ কেটে রেখে দেয়ায় তারা ঋণ করা সম্পূর্ণ অর্থ হাতে পান না। আবার অনেক চামড়া ব্যবসায়ী ব্যাংক ঋণ নিয়ে চামড়া খাতে বিনিয়োগ না করে অন্য আর্থিক খাতে বিনিয়োগ করায় চামড়া শিল্প ব্যাংক ঋণের প্রকৃত সুফল পাচ্ছে না।

এতে আরও বলা হয়েছে, ট্যানারি শিল্পে প্রতিদিন ১৭০ মেট্রিক টন কঠিন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। সাভারে ট্যানারি বর্জ্য শোধনের জন্য স্থাপিত কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। ফলে নতুন স্থাপিত কারখানাগুলো পরিবেশগত আন্তর্জাতিক মান অর্জন করতে পারছে না।

আবার হাজারীবাগ কারখানার মেশিনারিজ স্থানান্তর করা হলে তা ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ার আশঙ্কায় অনেক ট্যানারি মালিক মেশিনারিজ স্থানান্তর না করে কারখানা বন্ধ রেখেছেন- বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

চামড়া শিল্পের ক্রমাবনতি

২০১৩ থেকেই দেশের চামড়ার বাজার ক্রমাবনতির দিকে যাচ্ছে এবং ২০১৭ সাল থেকে দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের ওপর নিয়মিত বড় অঙ্কের আর্থিক লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৩ সাল থেকে গরুর কাঁচা চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ছিল ৮৫-৯০ টাকা। ২০২০ সালে সরকার একই মাপ ও মানের চামড়ার বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করে ৩৫-৪০ টাকা। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতা না পাওয়ায় এর থেকেও কম দামে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে। গত তিন বছর ক্রেতা না পেয়ে অনেক চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার মতো ঘটনাও ঘটেছে। দেশের এই সম্ভাবনাময় বৃহত্তম রফতানিজাত পণ্যের এমন দৃশ্য অর্থনীতির জন্য হুমকি স্বরূপ।

চামড়া শিল্পের ক্রমাবনতির কারণ

দেশের চামড়া শিল্পের ক্রমাবনতির ছয়টি কারণ তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। এর মধ্যে রয়েছে-

>> ২০১৭ সালের ৮ এপ্রিল হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প অবকাঠামোগতভাবে অপ্রস্তুত সাভারের ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে স্থানান্তর শুরু হলে স্থানান্তরিত শিল্প কারখানাগুলো পুনরায় পুরোদমে উৎপাদনে যেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এই উৎপাদন দীর্ঘসূত্রতায় অনেক বিদেশি ক্রেতা হারানোর পাশাপাশি দেশীয় চাহিদা পূরণে আমদানি নির্ভরতাও বেড়ে যায়।

>> চামড়ার মান রক্ষা না করা, সঠিক পদ্ধতিতে চামড়া না ছাড়ানো, অনুপযুক্ত উপায়ে পরিবহন ও সংরক্ষণ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের বিভিন্ন ধাপে সমস্যা থাকায় দেশীয় চামড়া রফতানিযোগ্য মান অর্জন করতে পারছে না।

>> ঈদুল আজহায় এক শ্রেণির ব্যবসায়ী চামড়া যথাযথ সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করে নিজেদের কাছে অতিরিক্ত সময় রাখার ফলে চামড়ার গুণগত মান নষ্ট হয় এবং আন্তর্জাতিক রফতানি মান হ্রাস পায়।

>> চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত কেমিক্যালের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় চামড়ার প্রক্রিয়াজাতকরণ খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার মূল্য হ্রাস এবং দেশীয় চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের খরচ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বিশ্ববাজারে চামড়া শিল্পের রফতানি আয় হ্রাস পাচ্ছে।

>> বাংলাদেশের প্রক্রিয়াজাত করা চামড়ার অন্যতম আমদানিকারক দেশ চীন। লেদার পণ্যের পাশাপাশি সিনথেটিক এবং ফেব্রিক পণ্য উৎপাদনে বিশ্বের একক বৃহত্তম দেশ চীন বর্তমানে আগের মতো বাংলাদেশ থেকে চামড়া আমদানি করছে না। পাশাপাশি তুলনামূলক কম দাম ও সুরুচিসম্মত হওয়ায় সিনথেটিক এবং ফেব্রিক দ্বারা উৎপাদিত জুতা, ব্যাগ, মানিব্যাগ, বেল্ট, জ্যাকেট ইত্যাদি পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে চামড়াজাত ওই সব পণ্যের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

>> দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী গুরুত্বপূর্ণ খাত হওয়া সত্ত্বেও চামড়া শিল্প পোশাক শিল্পের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ায় এই খাত থেকে কাঙ্ক্ষিত রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না।

সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার উপায়

চামড়া খাতের সমস্যা সমাধানে প্রতিবেদনে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-

>> সাভারের হেমায়েতপুরে স্থাপিত বিসিক ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ককে বিসিকের অধীনে না রেখে এটিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নিবিড় অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা এবং একটি পৃথক কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালনা করা।

>> চামড়ার মান রক্ষা করতে চামড়া ছাড়ানো, সংগ্রহ ও সংরক্ষণের উপর নির্মিত তথ্যবহুল বিজ্ঞাপন/টিভিসি গণমাধ্যমে প্রচার করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

>> ঈদুল আজহার সময় যথাযথভাবে চামড়া সংরক্ষণের জন্য উপজেলা পর্যায়ে চামড়া সংরক্ষণাগারের ব্যবস্থা করা।

>> চামড়া জাতীয় পণ্যের বিকল্প পণ্যগুলোর আমদানি সীমিত করতে বাড়তি শুল্ক আরোপ করা।

>> চামড়া শিল্পে ব্যবহৃত কেমিক্যালের (ক্রোমিয়াম, লেড ইত্যাদি) ব্যবহার হ্রাস করার জন্য বিকল্প পরিবেশবান্ধব উপায় বের করা এবং এই শিল্পে ব্যবহৃত কেমিক্যাল আমদানি না করে দেশীয় কারখানায় উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করা।

>> রফতানিমুখী চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী কারখানাগুলোকে প্রক্রিয়াজাতকৃত চামড়া সংগ্রহের ক্ষেত্রে দেশীয় ট্যানারি থেকে সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা।

>> বিদেশি ক্রেতাদের ফিরিয়ে আনতে বাড়তি সুবিধা ঘোষণা করা এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা।

>> হাজারীবাগের মতো সাভারে ট্যানারির সলিড ওয়েস্ট ব্যবহার করে উপজাত পণ্য উপযোগী ছোট ছোট শিল্প স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি করা।

>> হাজারীবাগ ট্যানারির জমি/প্লটগুলোকে রেড জোনের আওতামুক্ত করে ট্যানারি মালিক কর্তৃক ভূমি উন্নয়নের সুযোগ প্রদান করা এবং পাশাপাশি সাভারে অবস্থিত ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের প্লটগুলো ট্যানারি মালিকদের কাছে দ্রুত হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা।

>> ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চামড়া ব্যবসায়ীদের ঋণ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন ও তাদেরকে নতুনভাবে ঋণ সুবিধা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা।

>> বহির্বিশ্বে চামড়ার নতুন নতুন বাজার সৃষ্টিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

>> আসন্ন ঈদুল আজহার চামড়া পাচার, সংগ্রহ ও পরিবহনে বিশৃঙ্খলা বা বাধা এবং চামড়া নিয়ে যাতে কোনো গুজব সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা।

সার্বিক বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আফতাব খান বলেন, ‘দেশের চামড়া খাত বর্তমানে সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে। মহামারি করোনা এই সঙ্কট আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যে চামড়া সংগ্রহ করি তার বড় অংশই আসে কোরবানির পশু থেকে। করোনা মহামারির মধ্যে এবারের কোরবানি হবে। কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। সরকার থেকে চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। আমরা এই দামকে যুক্তিসংগত মনে করছি।’

এছাড়া  চামড়া খাতকে সঙ্কটে ফেলে দেয়ার জন্য অন্যতম আরো একটি কারণ ট্যানারি মালিকরা শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করা।

একুশে সংবাদ/জা/তাশা