হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংসদে ওয়াকআউট করা বিরোধী দলের অধিকার হলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিন তা না করলেই ভালো হতো। তিনি একটি ঐক্যবদ্ধ সংসদের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
শুক্রবার সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
স্পিকার বলেন, সংসদে ওয়াকআউট করা বিরোধী দলের একটি স্বীকৃত অধিকার এবং এটি সংসদের প্রচলিত কার্যক্রমের অংশ। তারা তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি করেছে। তবে বিশেষ করে প্রথম দিন ওয়াকআউট না করলেই ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বক্তব্যে স্পিকার বলেন, তিনি ও ডেপুটি স্পিকার স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হতে পেরে নিজেদের অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রণাঙ্গনে শহীদ হওয়া সকল বীর শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন তিনি।
এ সময় তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর রুহের মাগফেরাত কামনাও করেন।
স্পিকার বলেন, তিনি নিজেও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন এবং রণাঙ্গনে আহত হয়েছিলেন। অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যরা এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্পিকার বলেন, “১৭ বছরের ত্যাগ, তিতিক্ষা ও সংগ্রামের পর ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসান ঘটেছে।” এ জন্য দেশের মানুষ, রাজনৈতিক দলের কর্মী, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হবে। জাতির অর্থনৈতিক মুক্তি এবং মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সহযোগিতা ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংসদ তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্পিকার। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করবে বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।
একই সঙ্গে দেশে যেন ফ্যাসিস্ট শক্তির পুনরুত্থান না ঘটে, সে বিষয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিরোধী দলকে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে স্পিকার বলেন, নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে তিনি তার ৩৪ বছরের পুরোনো দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে পদত্যাগ করেছেন, যাতে বিরোধী দল তার ওপর আস্থা রাখতে পারে।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলের অবস্থান প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে স্পিকার বলেন, অধিবেশন চলাকালে কিছু স্লোগান তিনি দেখেছেন। তবে বিরোধী দলের কাজই হলো বিরোধিতা করা। তিনি আশা করেন, বিরোধিতা হবে গঠনমূলক এবং এমন কোনো কর্মকাণ্ড তারা করবে না, যাতে রাষ্ট্রের ক্ষতি হয় বা জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হয়।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

