AB Bank
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ, ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

পাবনা-৩ নৌকার-স্বতন্ত্র হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের


Ekushey Sangbad
জেলা প্রতিনিধি, পাবনা
০৬:৫৪ পিএম, ১ জানুয়ারি, ২০২৪
পাবনা-৩ নৌকার-স্বতন্ত্র হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনার ৫টি আসনের মধ্যে সংসদীয়-৩ আসনে ভোট উৎসবে মেতে উঠেছে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকেরা। ভোটারদের নিজেদের পক্ষে আনতে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছে প্রার্থীরা। 

এক দিকে সরকারের নানামুখী উন্নয়নের বার্তাসহ নতুন প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজেদের পক্ষে ভোট চাইছেন নৌকার সমর্থকেরা। অন্যদিকে বর্তমান সংসদের অনিয়ম আর আঞ্চলিক ইমেজকে কাজে লাগিয়ে পরিবর্তনের পক্ষে ভোট চাইছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকেরা। তবে এই আসনটিতে দলীয় নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ভোট করছেন আওয়ামী লীগ নেতা। তবে বিল, কৃষি ও দুগ্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্ভর এই অঞ্চলের মানুষ ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ পেলে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চান।

নির্বাচনী এই আসনটিতে নৌকার মাঝি হয়েছেন তিন বারের সংসদ সদস্য প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মো. মকবুল হোসেন। দীর্ঘ সময় সংসদ সদস্য ও ক্ষমতায় থাকাতে আসনের প্রতিটি স্থানে রয়েছে তার নিজস্ব ভোট ব্যাংক।

অন্যদিকে বর্তমান সংসদের নানা অনিয়ম ও আঞ্চলিক ইমেজ তৈরি করে ট্রাক প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ভোট করছেন আওয়ামী লীগ নেতা উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ মাষ্টার। তবে এই আসেন অন্যান্য দলের যে সকল প্রার্থী নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছেন ভোটের মাঠে তাদের আলোচনা নেই বললেই চলে। তাই বলা যায় এই আসনটির সাধারণ ভোটার ও দলের নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। দলের একাংশ নৌকার পক্ষে আর একটি অংশ স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোটের মাঠে কাজ করছেন। এই আসনের মোট ভোটের অর্ধেক ভোটার রয়েছেন চাটমোহর উপজেলাতে। আর অর্ধেক ভোট রয়েছে ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর দুটি উপজেলাতে।

বর্তমান সংসদের বসতবাড়ি ভাঙ্গুড়া উপজেলায় হওয়াতে স্বতন্ত্র প্রার্থী চাটমোহর অঞ্চলের মানুষের কাছে আঞ্চলিকতা তৈরি করে ভোট প্রার্থনা করছেন। তাইতো ভোটের মাঠে বেশ হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে সাধারণ ভোটারেরা। তবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা নিয়ে নৌকার সমর্থকেরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের নানা ভাবে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে নির্বাচনকে উৎসবমুখর করতে মাঠে কাজ করছে নৌকার প্রার্থী। অন্যদিকে আঞ্চলিক ইমেজে পরিবর্তনের পক্ষে ভোট চাইছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

এলাকার সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুইজন একই দলের প্রার্থী তাই ভোট ভাগাভাগি হয়ে যাবে। তবে সৎ যোগ্য ভালো মানুষকে ভোট দিতে চান সাধারণ ভোটাররা। ভোটের পরিবেশ যদি সুষ্ঠু থাকে তবে ভোট দিতে যাবেন তারা।

নৌকা পক্ষে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা জানান, এই এলাকায় বর্তমান সরকারের সময় ব্যাপক উন্নয়ন করেছে বর্তমান সংসদ সদস্য। সড়ক থেকে শুরু করে সকল স্থানে তিন এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য তিনি কাজ করেছেন। এবারের নির্বাচন ফ্রি ফেয়ার নির্বাচন হবে এবং এই আসনে নৌকার বিজয় হবে। সাধারণ ভোটাররা নৌকার বিপক্ষে যাবে না। বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী সাধারণ ভোটারদের ভুল তথ্য দিয়ে নিজের পক্ষে ভোট চাইছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকেরা বলেন, বর্তমান সংসদ তিনি তার পরিবারে উন্নয়ন করেছেন। তিনি শুধু তার নিজ এলাকার উন্নয়ন করেছেন। কিন্তু যেখানে ভোটাররা বেশি সেই চাটমোহরের কোন উন্নয়ন তিনি করেনি। তাই দল করার পরেও আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছি তাকে আমরা জয়ী করবো।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হামিদ মাষ্টার বলেন, দলের সাধারণ নেতাকর্মীদের চাওয়া পাওয়ার আলোকে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। বর্তমান সংসদ সদস্যের কারণে প্রকৃত দলের নেতাকর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এলাকার মানুষ পরিবর্তন চায়। সাধারণ মানুষের দিকে তাকিয়ে এবারের নির্বাচনে আসা। তারা আমাদের কর্মীদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। তবে প্রশাসন আরো কঠোর হলে নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু থাকলে জয় হবে আমার।

নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. মোকবুল হোসেন বলেন, নির্বাচনের আচরণবিধি মেনে আমি নির্বাচনে কাজ করছি। আমার নেতাকর্মীদের সকলকে বলা আছে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করার জন্য। কারো বিরুদ্ধে আমার কোন অভিযোগ নেই। যারা দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় তারা কেমন মানুষ সেটা দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারেরা খুব ভালো করে জানেন। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে তিনি আমার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে যাচ্ছেন। দলের কোন নেতাকর্মী ও তার সাথে নেই। তিনি পাবনা শহর থেকে লোক এনে নির্বাচনের মাঠে কাজ করছেন। নির্বাচনের পরাজয় বুঝতে পেরে অভিযোগ করে নিজের পক্ষে ইমেজ তৈরি করার চেষ্টা করছেন।

স্বাধীনতার পর থেকে একাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত এ আসনে ৬ বার আওয়ামী লীগ, ৪ বার বিএনপি এবং একবার জাতীয় পার্টির প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯১ সালে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাইফুল আজম সুজা নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ওয়াজি উদ্দিন খান বিজয়ী হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির কে এম আনোয়ারুল ইসলাম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান সাংসদ মো. মকবুল হোসেন আওয়ামী লীগর প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

উল্লেখ্য, জেলার চাটমোহর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা, ভাঙ্গুড়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা এবং ফরিদপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা নিয়ে পাবনা-৩ আসন গঠিত। এই আসেন ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৭৭১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৮ হাজার ৬৪৯ জন আর মহিলা ভোটার ২ লাখ ২৮ হাজার ১১৮। চারজন হিজরা ভোটার রয়েছে এখানে। পৌর সভা রয়েছে মোট ৩টি। ইউনিয়ন রয়েছে ১৫টি। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১০৮১টি। নতুন ভোটার ৫৩ হাজার ৯৩৫ জন।

 

একুশে সংবাদ/বিএইচ

Link copied!