ঢাকা শুক্রবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. পডকাস্ট

নিজের নামের অভিযোগ ঠেকাতে চেয়ারম্যানের পাল্টা অভিযোগ


Ekushey Sangbad
জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোণা
০৩:৪৩ পিএম, ৮ আগস্ট, ২০২২
নিজের নামের অভিযোগ ঠেকাতে চেয়ারম্যানের পাল্টা অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান নিজের নামে কর্মসৃজন কর্মসূচির(ইজিপিপি) মুজুরির টাকা আত্মসাতের অভিযোগকে ঠেকাতে শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করিয়েছেন ।  প্রকল্পের ২৭ জন শ্রমিকদের নিয়ে মুজুরির টাকা আত্মসাতের বিষয়ে (৭ আগষ্ট) রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর একটি পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন কদমশ্রী মণিকা প্রকল্পের সর্দার শাহজাহান মিয়ার নামে । 

এদিকে শাহজাহান বলছেন, চেয়ারম্যান নিজের পকেট শ্রমিকদের দিয়ে, ভয়ভীতি দেখিয়ে অভিযোগে স্বাক্ষর করিয়েছেন। 

এর আগে ৩ আগষ্ট  কদমশ্রী মণিকা প্রকল্পের সর্দার শাহজাহান মিয়া শ্রমিকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে ২৩ জন শ্রমিকের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ গোবিন্দশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান মাঈদুল ইসলাম খান মামুনের বিরুদ্ধে উপজেলা   প্রকল্প বাস্তাবাযন কর্মকর্তার বরাবর দায়ের করেছিলেন। 

জানা যায়, কর্মসৃজন কর্মসূচির প্রকল্পের ২য় পর্যায়ে  গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নে ২০২১/২০২২ অর্থ বছরে গোবিন্দশ্রী মাঝি পাড়া পাকা রোড হতে শান্তি পাড়া হয়ে বাড্ডা পাকা রোড পর্যন্ত রাস্তা মেরামত ও মণিকা পাকা রোড হতে যতীন্দ্র্রঞ্জ বাজার পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের দুইটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। ১৭ লাখ টাকা বরাদ্ধে  দুইটি প্রকল্পে পর্যায়ক্রমে ৫৮ জন ও ৪৮ জন   মোট ১০৬ জন শ্রমিক ৪০ দিন কাজ করার কথা ছিল।  কিন্তু ১০৬ জন শ্রমিক ১৯ দিন কাজ করে এবং তাদের সম্পূর্ন বিল অনুমোদিত হয়। 

সর্দার শাহজাহান মিয়া চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তোলা  অভিযোগে উল্লেখ করেন, শ্রমিকদের মজুরি টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিজ নিজ একাউন্টে পরিষোধ করা হয়। কিন্তু চেয়ারম্যান শ্রমিকদের মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্টের সিম নিজের কাছে রেখে দেন।  পরে প্রত্যকের  একাউন্টে মুজুরির ৭৬৫৩ টাকা আসে। চেয়ারম্যান গোবিন্দ্রশ্রী  প্রকল্পের ৫৮ জন শ্রমিকের সম্পূণ টাকা একাউন্ট থেকে উঠিয়ে নিয়ে সিম গুলো ফেরত দিয়ে দেয়। পরে প্রত্যেক শ্রমিককে দৈনিক ৪০০ টাকা করে ৫ দিনের মুজুরি ২০০০ টাকা আবার তাদের একাউন্টে ফেরত পাঠান। বাকি টাকা তিনি নিজের কাছে রেখে দেন। কদমশ্রী মণিকা প্রকল্পে ৪৮ জন শ্রমিকের একাউন্ট থেকে ২৯০০ টাকা উঠিয়ে বাকি ৪৭১০ টাকা রেখে সিম ফেরত দিয়ে দেন। 

এদিকে রোববার ২৭ জন শ্রমিক সর্দার শাহজানের বিরুদ্ধে তাদের টাকা আত্মসাতের কথা লিখে উল্টো অভিযোগ দায়ের করেন। তারা অভিযোগে বলেন সর্দার শাহজাহান তাদের বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে সবার  একাউন্টের সিম নিজের কাছে রেখে টাকা উঠিয়ে নেয়। পরে ঈদের আগে তাদের ২০০০ টাকা ফেরত দেয়।

শাহজান মিয়া জানান, চেয়ারম্যান কর্মসৃজনের শ্রমিকদের টাকা আত্মসাৎ করেন। আমি তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। কিন্তু চেয়ারম্যান আমার অভিযোগ ঠেকাতে নিজে শ্রমিকদের নাম করে আমার নামে উল্টো অভিযোগ দেন।  

শাহজাহানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগে স্বাক্ষরিত কয়েকজন শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার সত্বে জানান, চেয়ারম্যান  রোববারে আমাদেরকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। এখন  শুনতেছি সর্দারের বিরুদ্ধে অভিযোগের কাগজ ছিল। 

সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান মাঈনুল ইসলাম খান মামুন জানান, কয়েকজন শ্রমিক মিলে শাহজানের নামে আমার কাছে নালিশ জানালে আমি তাদের লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বলি। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ কে এম লুৎফর রহমান জানান, দুইটি অভিযোগ একই ধরনের হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ৩ দিনের মধ্য তদন্ত প্রতিবেদন রিপোর্ট তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছি।  প্রতিবেদন রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

 

একুশে সংবাদ/সা.খা/এস.আই