ঢাকা শনিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২১, ১ কার্তিক ১৪২৮

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

মদনে সার সংকটে দিশেহারা কৃষক


Ekushey Sangbad
একুশে সংবাদ ডেস্ক
০৬:৩২ পিএম, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
মদনে সার সংকটে দিশেহারা কৃষক

আমন চাষের শুরুতেই নেত্রকোনার মদনে সারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত দামেও সার না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। কিছু সংখ্যক ডিলাদের কাছ থেকে উচ্চ মূল্যে সার ক্রয় করেও বলতে নারাজ কৃষকরা। সারের এই তীব্র সংকটে আমন চাষের ক্ষতির সম্ভাবণা দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে চাহিদা অনুযায়ী সারের বরাদ্দ না পাওয়া ও লক্ষমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে আমন ধান রোপণ করায় এ সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর পৌরসভাসহ উপজেলার আট ইউনিয়নে ৯ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিধারন করা হয়। কিন্তু বর্ষার পানি দ্রæত সরে যাওয়ায় ইতি মধ্যে লক্ষমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে আমন ধান রোপণ করা হয়েছে। কৃষি অফিস আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিধারণ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ১ হাজার ৪০০ মেট্রিকটন সারের জন্য চাহিদা পত্র প্রেরণ করেন। কিন্তু মদন উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে সার বরাদ্দ দেওয়া হয় ৫শ ৬৩ মেট্রিকটন। পরে বিশেষ বিবেচনায় ১২০ মেট্রিকটন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যা ডিলারদের নিকট আসার পক্রিয়াধীন রয়েছে। চাহিদা অনুয়ায়ী সারের বরাদ্দ কম দেওয়ায় এ সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে পৌরসভাসহ উপজেলায় বিসিআইসির ৯ জন ডিলার ও ৮০ জন খুচরা সার বিক্রেতা রয়েছেন। সংকটের কারণে ডিলাররা কোন রকম রশিদ ছাড়াই কৃষকদের কাছে বেশী দামে টিএসপি, ডিএপি, ইউরিয়া, বাংলা ডিএপিসহ বিভিন্ন সার বিক্রি করছেন। উৎসাহ নিয়ে অন্যবছরের তুলনায় আমন চাষে কৃষকরা অধিক মনোযোগী হয়ে পড়েছে। কিন্তু ধানের চারা চড়াদামে কিনে এমনিতেই কৃষক দিশেহারা। এর মধ্যে ন্যয্যমূল্যে সার কিনতে না পারায় তারা হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। এভাবে চড়ামূল্যে সার কিনতে হলে লাভের তুলনায় লোকসানে পড়তে হবে কৃষকদের। সোমবার উপজেলার সর্ববৃহৎ সাপ্তাহিক হাট দেওয়ান বাজারসহ অন্যান্য বাজারে ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা বেশি দামে সার ক্রয় করলেও কোনো রসিদ দিচ্ছেন না ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে রাখার নিয়ম থাকলেও কোন ডিলার, খুচরা ব্যবাসীয়ারা এমন নিয়ম মানতে দেখা যাচ্ছে না। ডিলারের দোকানে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ইউরিয়া সার বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা, ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) ৮০০ টাকার মধ্যে নিচ্ছে ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা, ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) ১১শ টাকার মধ্যে নিচ্ছে ১২ শত থেকে ১৩শ, মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) ৯০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা, বাংলা ডিএপি ৮০০ টাকার মধ্যে নিচ্ছে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সার কিনতে আসা বাগজান গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান, গোবিন্দশ্রী গ্রামের কৃষক আলম, রুবেল জানান, অধিক দামে ধারে চারা কিনে জমি রোপণ করছি। বাজারে সার নেই। কয়েক বস্তা সার পেয়েছি তাও অতিরিক্ত দাম দিয়ে কিনতে হয়েছে। সারের জন্য কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত দামে সার কিনতে হলে লাভের তুলনায় লোকসানই বেশী হবে। ডিলার শামছুল আলম ভূইয়া জানান, আমরা চাহিদা অনুযায়ী সার পাইনি। কৃষকদের জন্য অন্য জায়গা থেকে অতিরিক্ত দামে সার এনে বিক্রি করতে হচ্ছে।সার সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে আমন ধান রোপণ করা হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী সারের বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। সার সংকটের বিষয়ে উর্ধ্বতণ কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি যাতে কোন ডিলার অধিক মূল্য সার বিক্রি করতে না পারে। সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ জানান, সার সংকটের বিষয়টি নিয়ে ডিলারদের সাথে কথা বলব। সু-নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

একুশে সংবাদ/মোঃ সাকের খান/আশিক