ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১, ১০ আষাঢ় ১৪২৮

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

গোলাম রসুল এখন সফল আম ব্যবসায়ী 


Ekushey Sangbad
নোবিপ্রবি প্রতিনিধি 
০৫:১১ পিএম, ২৭ মে, ২০২১
গোলাম রসুল এখন সফল আম ব্যবসায়ী 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছেলে গোলাম রসুল। চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাজারামপুর হামিদুল্লাহ হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে এখন পড়ছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে(নোবিপ্রবি)। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি এখন সফল একজন উদ্যোক্তা। কাজ করছেন ফলের রাজা আম নিয়ে। চাঁপাই – রাজশাহীর আম অফিসিয়াল গ্রুপ এর কর্ণধারও তিনি।


শুরুটা যেভাবেঃ 
গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু-বান্ধবদের কাছে সবসময় আলাদা একটা চাহিদা ছিল গোলাম রসুলের। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে থাকাকালীন সময়ে ছুটিতে বাড়িতে এসে আবার ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার সময় বন্ধুদের জন্য আম নিয়ে যেতেন তিনি। ধীরে ধীরে এই আম নিয়ে কিছু একটা করার চিন্তা তার মাথায় আসে। তিনি জানতেন এটি দেশের একটি সম্ভাবনাময় সেক্টরগুলোর একটি। এলাকায় অনেকের সাথে আম নিয়ে কথা বলার পর হাতেগোনা ২-১ জন ছাড়া অনেকেই তা হেসে উড়িয়ে দেন। কিন্তু তিনি থেমে যাননি। সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছা আর মনোবল নিয়ে তিনি এই সেক্টরে প্রবেশ করেন। শুরুতে আমের মৌসুম আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু, সিনিয়র-জুনিয়র প্রায় সবারই আমের চাহিদা মেটাতে থাকেন তিনি। বিশ্বস্ত হয়ে ওঠায় ধীরে ধীরে ক্যাম্পাসে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। সেখান থেকেই যাত্রা শুরু তার। ২০১৬ সালে এসে তিনি ই-কমার্সকে বেছে নেন ব্যবসা বৃদ্ধির জন্য। ফেসবুকে প্রতিষ্ঠা করেন চাঁপাই- রাজশাহীর আম অফিসিয়াল গ্রুপ। এ ছাড়াও বর্তমানের জনপ্রিয় ই কমার্স গ্রুপ উই থেকেও অনেক ক্রেতা পাচ্ছেন তিনি।

লাভ- ক্ষতিঃ 
গোলাম রসুল জানান, শুরুর দিকে খুব একটা লাভ না হলেও ধীরে ধীরে পরিচিতি বাড়ার সাথে সাথে লাভের গ্রাফও ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। গত বছর আমের মৌসুমে ১০ টন আম তিনি সারা বাংলাদেশের সরবরাহ করেন এবং তার বর্তমান মৌসুমের লক্ষ্যমাত্রা পাইকারি ও খুচরা মিলিয়ে  ১০০ টন আম সরবরাহ করা। এছাড়াও তার এই সেক্টরে কাজ করছেন অনেক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বেকার যুবক যারা সারাবছরই আমের বাগান দেখাশুনা ও পরিচর্যা করেন। তিনি জানান, জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও তার এই কাজের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। এই সেক্টরে কাজ শুরু করার সময় তেমন কারো অনুপ্রেরণা তিনি পাননি। তিনি জানান, যখন আম নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন তখন এই কাজ দিয়ে কিছু একটা যে হবে এগুলো মানুষ চিন্তাও করতে পারতো না। তিনি আরোও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে যেহেতু আমি একটি অপরচুনিটি পেয়েছিলাম তাই এটিকে আমি সর্বোচ্চ ভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি’।

গোলাম রসুলের স্বপ্ন:
দেশের প্রটিটি জেলায় নিজের প্রতিষ্ঠানের আম পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখেন গোলাম রসূল। তিনি বলেন, ‘দেশের প্রতিটি জেলায় একদিন আমার আম সরবরাহ হবে। সরাসরি বাগান থেকে যেকোন ধরনের মেডিসিন মুক্ত নিরাপদ স্বাস্থসম্মত আম সারা দেশের স্বাস্থ্যসচেতনদের নিকট পৌঁছে দিতে চাই । সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। কাজ নিয়ে আরো বেশি জ্ঞান আহরণ করে দক্ষ হতে চাই যাতে করে সকল ধরণের বাধা মোকাবেলা করে নিজের একটি অবস্থান তৈরি করতে পারি।

নতুনদের জন্য রসুলের কিছু কথা:
গোলাম রসুল বলেন, এই সেক্টরটি খুব ঝুঁকিপূর্ণ। সচেতন থাকতে হবে যথেষ্ট পরিমাণে। আম সম্পর্কে যথেচ্ছ জ্ঞান ছাড়া এই সেক্টরে আসা অনুচিত। সবসময় ক্রেতার স্যাটিসফেকশনের চিন্তা মাথায় রাখতে হবে। পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়া এই সম্ভাবনাময় সেক্টরে আসলে হোঁচট খাওয়ার শঙ্কাই বেশি বলে মনে করেন তিনি।


 

 

একুশে সংবাদ/নার্গিস/ব