ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১, ১০ আষাঢ় ১৪২৮

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

পলাশের ফুটবল জাদুকর দোলনের শেষ আশা পূরণ হলোনা


Ekushey Sangbad
পলাশ (নরসিংদী) প্রতিনিধি :
১১:৪৪ এএম, ১৮ মে, ২০২১
পলাশের ফুটবল জাদুকর দোলনের শেষ আশা পূরণ হলোনা

দেশের বিস্ময়কর ফুটবল জাদুকর ফখরুজ্জামান দোলন নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্ধুর গ্রামের এক অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কৈশোরের চমক দোলন স্কুল জীবনে থাকাকালীন সময়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং ফুটবলে সবসময় ১ম স্থান অধিকারী হতেন।

যেখানেই দৌড় প্রতিযোগিতা যেতো সেখানেই প্রথম স্থান আর ফুটবল মাঠে সিনিয়র জুনিয়র কোন খেলোয়াড়ই তার পা থেকে সহজেই বল কেড়ে নিতে পারতনা। বিস্ময়কর জাদু ছিলো তার পায়ে। দোলন যখন ষষ্ঠ শ্রেনীতে পড়ে তখন ১৯৭৪ সাল। 

তৎকালীন গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার আন্তর্জাতিক বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ২৫০টি স্কুলের মধ্যে চ্যালেঞ্জ করে ১০০ মিটার, ২০০মিটার, দৌড় প্রতিযোগিতা ও দীর্ঘলাফে প্রথম স্থান অধিকার করে ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত চরসিন্দুর স্কুলের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনেন তিনি। 

স্কুলের শিক্ষক মহোদয়, এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ফুটবল পন্ডিতরা তার সম্পর্কে জরিপ করে মনে করেছিল স্কুলে পড়ুয়া এই বয়সে পৃথিবীর কোন দেশ, কোন ব্যক্তি দৌড়ে এবং ফুটবলে তাকে পিছনে ফেলতে পারবেনা।দোলনের বাড়িতে বৃটিশ আমল থেকেই ফুটবল খেলার মাঠ ছিল। এই মাঠের এক পাশে বসে প্রতিদিন তার বাবা চাচা ফুটবল খেলা উপভোগ করতেন। 

তার জন্য উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা করতেন। সোনার চামচ মুখে দিয়েই খাওয়াতেন। উৎসব আদর সোহাগ দিয়ে তার মন ভরে দিতেন। স্কুলের শিক্ষক মহোদয়েরা দোলনকে অনেক আদর করতেন। সেই সাথে কড়া নজর রাখতেন। স্কুলের শিক্ষক সাবেক ফুটবলার যারা ছিল তারা সবাই দোলনের বাবা চাচার সাথে উচ্চ স্বরে তার এই বিরল প্রতিভা ও বিভিন্ন দিক দিয়ে আলাপ করতেন।

দোলনের বাবা চাচার সাথে আলাপ করে ওয়াদা করলেন যদি বেঁচে থাকি এসএসসি পাশ করার পর দোলনকে ইউরোপ ফুটবলের সবচেয়ে নামি দামি ক্লাবে পাঠাবে উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য। যত টাকাই ব্যয় হোক ছেলের পিছনে খরচ করবো। কিন্তু ভাগ্যোর নির্মম পরিহাস ৯ম শ্রেনীতে পড়ার সময়েই দোলনের বাবা হঠাৎ মারা গেলেন। 

তার ৬ মাস পর তার চাচা ও মারা গেলেন। আর এই সময়েই ঢাকা আবাহনী মাঠে সারা বাংলাদেশের ক্ষুদে ফটবলারদের বাছাই পর্ব চলছিল। সেখানে হাজার হাজার ক্ষুদে ফুটবলারদের মধ্যে দোলন অংশগ্রহণ করে প্রথম স্থান অধিকার করে। দূরপাল্লার রানিং শটে ৩টি গোল করাসহ মাঠে অসাধারণ ফুটবল খেলা দেখানোর পর আবাহনীর দর্শকরা তাকে দেখার জন্য উপচে পড়া ভিড় জমিয়ে ছিল। 

ঐসময়টায় তার কোন প্রশিক্ষক ছিলনা এমনকি প্রশিক্ষণ ও ছিলনা। আবাহনী যুব ফুটবলের বাছাইয়ের পর একটা ফাইনাল খেলায় আমন্ত্রিত হয়ে যাবার পর দূরপাল্লার তীব্র রানিং শটে গোল করার সময় বে-কায়দায় শট মারার পর তার ডান পায়ে কুচকি আলাদা হয়ে যায়। তিনবারই একই জায়গায় আঘাত পাওয়ায় জীবনের জন্য তার আশা আকাঙ্ক্ষা ধূলিসাৎ হয়ে যায়। তার বাবার আশা ও পূরণ হলো না।

স্কুল জীবন পার হয়ে গ্রামেগঞ্জে ঢাকাতে বেশ কয়েকবার ক্লাবে খেলেছে এই ইনজুরি নিয়েই। পূর্ণ শক্তি মাঠে প্রয়োগ করতে পারে নাই। ঢাকা মনসুর স্পোটিং ক্লাবের সিনিয়র দলের হয়ে ১২টি জেলাতে অংশগ্রহণ করেছে সে। ফুটবল দোলনকে সবসময় কাঁদায়। শেষ পর্যন্ত ফুটবলে সুবিধা করতে না পারায় অন্য পথ বেছে নিয়েছেন দোলন।