AB Bank
ঢাকা বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী
৫ সিটি নির্বাচন

দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থানকারী নেতা-কর্মীরা কঠোর নজরদারিতে, ‘ছাড়’ দিবে না আ.লীগ


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২:৩৪ পিএম, ৯ মে, ২০২৩
দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থানকারী নেতা-কর্মীরা কঠোর নজরদারিতে, ‘ছাড়’ দিবে না আ.লীগ

দেশের ৫ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে হার্ডলাইনে অবস্থান নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এসব নির্বাচনে দল মনোনীত কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নেতা-কর্মীদের ক্ষমা করা হবে না। বিশেষ করে মেয়র প্রার্থীদের সামান্যতম বিরোধিতা করা হলেও ক্ষমা পাবেন না কেউ। এছাড়া দল সংশ্লিষ্ট কোনো কাউন্সিলর প্রার্থী যদি মেয়র প্রার্থী বা নৌকার ভোট না চেয়ে শুধুমাত্র নিজের ভোট চান, তাকেও ক্ষমা করা হবে না। ভবিষ্যতে দলীয় পদ-পদবি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। সর্বোপরি এসব নির্বাচনে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় কোনো নেতার প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ যোগাযোগ থাকলে-তারাও রেহাই পাবেন না।

 

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ৫ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সেই লক্ষ্যে পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে দলটি। প্রতিটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রক্রিয়া দলের পক্ষ থেকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট নেতাদের গতিবিধি নজরদারি ও পর্যালোচনা চলছে। তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এরপর বিশেষভাবে নজর রাখা হচ্ছে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর। গাজীপুরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মকান্ড এবং বরিশালে নতুন প্রার্থী ঘোষণার রেশ ধরে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে নিবিড় পর্যালোচনা চলছে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী মহলে। গাজীপুরে ২৫ মে, আর বরিশাল ও খুলনায় ১২ জুন এবং রাজশাহী ও সিলেটে ২১ জুন সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

 

সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সূত্র ধরে রাজনৈতিক মহলে এখন গাজীপুর সিটি করপোরেশনে বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তার কর্মকান্ড নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা যেমন বিরক্ত, তেমনি কর্মীরা বিব্রত। আর প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তার ও তার মায়ের মনোনয়নপত্র জমা এবং পরবর্তী কর্মকান্ড ভালোভাবে নেননি আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারকরা। তারা মনে করছেন, দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থা নিয়ে জাহাঙ্গীর আলম পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে যেমন বিতর্কিত করছেন, তেমনি বিরোধী দলের হাতে আন্দোলনের নতুন অস্ত্র তুলে দিচ্ছেন। যা জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের জন্য বিতর্ক তৈরি করবে। ফলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর তার বিরুদ্ধে চিরস্থায়ী বহিষ্কারের মতো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হতে পারে।

 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শীর্ষ এক নেতা  নাম প্রকাশ না করে  বলেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যদি কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন, তবে দল তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে। এদের দলের কোনো কমিটিতে রাখা হবে না। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এদের ক্ষমা করা হয়েছিল। কিন্তু এদের অনেকেই নিজেকে শোধরাননি। তাই এবার স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে। নির্বাচনের আগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের মতো কোনো অপরাধ মেনে নেয়া হবে না। নির্বাচনকে জমজমাট করতেও বিদ্রোহীদের ছাড় দেয়া হবে না। আগামী কোনো নির্বাচনে বিদ্রোহীদের মনোনয়ন দেয়া হবে না।

 

আওয়ামী লীগের  ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে আবার ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

 

তিনি বলেন, জাহাঙ্গীর আলম দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার পরও শেখ হাসিনা তাকে একবার সাধারণ ক্ষমা করেছেন। ক্ষমা চেয়ে আবেদনে উল্লেখ করেছিলেন, বাকি জীবনে আওয়ামী লীগের শৃঙ্খলা পরিপন্থি কোনো কাজ করবেন না। সেটির ব্যত্যয় ঘটিয়ে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। ফের দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন, এ অপরাধ জাহাঙ্গীর আলমকে শাস্তি পেতেই হবে।  জাহাঙ্গীরের বিষয়ে গত মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও গাজীপুরের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সবাই একমত,নেত্রী দেশে এলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে অথবা প্রধানমন্ত্রী জানাবেন, তিনি কখন কী করবেন। কারা মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লা খানের পক্ষে কারা কাজ করছেন না, সেটিও নজরদারিতে রাখার হচ্ছে বলে জানান তিনি।

 

এদিকে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নতুন প্রার্থী ঘোষণার পর সেখানে বর্তমান মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ বিরোধীরা মহানগরীতে যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, সেটিও ভালোভাবে নেয়নি আওয়ামী লীগের শীর্ষমহল। দলটির নেতারা মনে করছেন, সেখানে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ ছাড়াও যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো দলের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না। এরই মধ্যে ঘটে যাওয়া ওইসব বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে কেন্দ্র থেকে সংশ্লিষ্ট নেতাদের ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নবঘোষিত মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুলস্নাহ (খোকন সেরনিয়াবাত) ও বর্তমান মেয়রের অনুসারীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সংযত আচরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, বিএনপি মুখে বলছে নির্বাচনে আসবে না। কিন্তু তাদের অনেক প্রার্থী আছে, সেটা আমরা টের পাই। আওয়ামী লীগের বিপক্ষে দাঁড় করানোর জন্য বিএনপি একজনকে জোগাড় করবে। সে যে দলই করে না কেন, সেটা চিন্তা করবে না। এরকম প্রক্রিয়া তারা চালাবে। বিএনপি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের মাঠে থাকার ব্যাপারে মদদ দিচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপি এ ধরনের চেষ্টা চালাতে পারে। কিন্তু তারা সফল হবে না।

 

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সিটি নির্বাচনকে তাঁরা বেশ গুরুত্ব দিচ্ছেন। সে জন্য তাঁরা এই নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ও গ্রহণযোগ্য করার চেষ্টা করবেন। নির্বাচন যারা পরিচালনা করবে, সেই নির্বাচন কমিশনের প্রতিই আস্থার সংকট এখন বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি সরকারের প্রভাবের বাইরে থেকে নির্বাচন কমিশন কতটা স্বাধীন ভূমিকা রাখতে পারছে, তা সিটি নির্বাচনে অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে। গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ পাঁচ সিটিতে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থীহওয়া এবং আওয়ামী লীগের  প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করা সকল নেতা কর্মীদের তালিকা করা হচ্ছে। তালিকা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন,  নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে দেশের জন্য ক্ষতি, গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতি এবং আমাদের জন্যও ক্ষতি। তাই আমরা সব সময় চেষ্টা করি, কোনো নির্বাচন নিয়ে যেন বিতর্ক সৃষ্টি না হয়।  ভোট সুষ্ঠু হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনও ব্যবস্থা নেবে ।

 

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক  বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী, আসন্ন পাঁচ সিটি করপোরেশনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন, দেশের জনগণ দেশে শান্তি, উন্নয়ন, অগ্রগতি ও আধুনিক স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন। সবকিছু যাচাই-বাছাই ও বিবেচনা করেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড পাঁচ সিটিতে দলের পোড় খাওয়া ত্যাগী, জনপ্রিয় ও স্বচ্ছ নেতাদের মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থী বা ছোটখাটো যে সমস্যাগুলো রয়েছে আমরা আশাবাদী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগেই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।

 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মুখে বিএনপি সিটি নির্বাচন বর্জনের কথা বললেও দলীয় পরিচয় গোপন করে প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা ঘোমটা পরে নির্বাচনে থেকে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার নানা চক্রান্ত করতে পারেন। এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতার ক্ষেত্রে দলের মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মেনে চলতে হবে। ঐক্যবদ্ধ আওয়ামী লীগকে কেউ কোনোদিন পরাজিত করতে পারেনি, পারবেও না। তবে দলের মন্ত্রী-এমপিসহ সংশ্লিষ্টদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে হবে, যাতে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে না পারে।

 

একুশে সংবাদ/র.ত.প্র/জাহাঙ্গীর

Link copied!