প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, অদৃশ্য করোনাভাইরাস নিতান্তই দুর্ভাগ্যজনক কোনো পরিস্থিতিতে না নিয়ে গেলে বাংলাদেশ অতিদ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জরিপের তথ্য তুলে ধরে এ কথা বলেন তিনি।
ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘আমরা নিজেকে গর্বিত জাতি হিসেবে বিবেচনা করতে পারি। কারণ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে হিসাব করে দেখেছি আমরা দ্রুত আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার পরিস্থিতিতে আছি। শতভাগ এখনো হয়নি, তবে আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার পরিস্থিতি বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যে কাজগুলো চলমান রয়েছে তার ফলে আমরা যে পর্যায়ে আছি আল্লাহর রহমতে অদৃশ্য সেই ভাইরাস যদি নিতান্ত দুর্ভাগ্যজনক কোনো পরিস্থিতিতে না নিয়ে যায়, এভাবে থাকলে ইনশা আল্লাহ আমরা অতিদ্রুত আবার আমাদের উন্নয়নের যে স্রোতধারা, যে গতিবেগ সৃষ্টি হয়েছে তার ভিতরে চলে আসতে পারব।’
করোনাকালে বাংলাদেশের পরিস্থিতি জানতে ‘জীবিকার ওপর ধারণা জরিপ ২০২০’ পরিচালনা করে বিবিএস। জরিপের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে সরকার যে টার্গেট করেছিল নিম্ন আয়ের মানুষ যেন পায়, সেটা সাকসেসফুল হয়েছে। ৯৫ শতাংশ মানুষ বলেছে তাদের আয় ২০ হাজারের নিচে। অর্থাৎ কম আয়ের মানুষ সহায়তাটা পেয়েছে। দৈবচয়নের মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৪০টি মোবাইল ফোন নম্বর নির্বাচন করে এ জরিপ চালায় বিবিএস। বিবিএসের ইতিহাসে এটিই প্রথম টেলিফোন ধারণা জরিপ।
করোনার মধ্যেও বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন ত্রাণ সহায়তা, প্রধানমন্ত্রীর ৩১টি নির্দেশনা ও প্রধানমন্ত্রী-ঘোষিত ২১টি প্রণোদনার গুরুত্ব তুলে ধরেন মুখ্য সচিব।
২১টি প্যাকেজে প্রধানমন্ত্রী-ঘোষিত প্রণোদনা বাস্তবায়নের সর্বশেষ তথ্য তুলে ধরে ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ২১ ধরনের প্রণোদনা পৃথিবীর কোনো দেশ দেয়নি। প্রধানমন্ত্রীর নীতি ছিল জীবন ও জীবিকা- দুটো একসঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে সরকারের কর্মকান্ড পরিচালনা করা।
তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারীর কারণে সারা বিশ্বের মতো আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে, আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বেশ কিছুদিন স্থবির হয়ে ছিল।’ করোনার মধ্যেও বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে মুখ্য সচিব বলেন, ‘পরিসংখ্যান ব্যুরো একটা জরিপ চালিয়েছে। জরিপ চালানোর ফলে আমরা ইন্টারেস্টিং কিছু কাজ দেখেছি। সেটা জাতি হিসেবে আমাদের গর্বিত হওয়ার মতো। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশ যথেষ্ট ভালো আছে। এটা কিন্তু গর্ব করার বিষয়।’
করোনা সেকেন্ড ওয়েব মোকাবিলায় সরকারের পূর্বপ্রস্তুতি প্রসঙ্গে ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, ‘সেকেন্ড ওয়েব বা থার্ড ওয়েব বলে এখন পর্যন্ত আমরা কেউই জানি না। এটা আসবে কি আসবে না। যদি আসে তার প্রস্তুতির জন্য প্রধানমন্ত্রী বহু আগে আমাদের বলেছেন। বিশেষ করে শীতের সময় আসার সম্ভাবনা আছে বলে সেই নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে ড. আহমদ কায়কাউস বলেন, যখনই অনিয়মের খবর পাওয়া গেছে তখনই সরকারের তরফ থেকে অ্যাকশন নিতে কোনো দ্বিধা করা হয়নি। কোনো গাফিলতি করা হয়নি।
একুশে সংবাদ/জা/এআরএম



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

