সবার আগে বাংলাদেশ - এই মন্ত্রে বিশ্বাসী মানবিক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও সামগ্রিক অর্থনীতির সুদূরপ্রসারী উন্নয়ন ও আঞ্চলিক বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ইতিমধ্যেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর মালয়েশিয়া সফর শেষ করে চীন দেশে বহুমাত্রিক বিনিয়োগ প্রস্তাব ও উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য কাজ শুরু করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচন-উত্তর এই প্রথম সফর, তাঁর প্রতি দেশের জনগণের মাঝে বহু শ্রদ্ধার অবতারণা করেছে। কোনও বিশেষ বিমান নয়, সাধারণ যাত্রীর সঙ্গে ভ্রমণ, সীমিত সংখ্যক সহকর্মীর সঙ্গ ও অতি সাধারণ আচরণ প্রশংসার দাবি রাখে। তাঁর এই আচরণ মনে করিয়ে দেয় প্রয়াত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বীর উত্তমের আচরণ ও মূল্যবোধ। বিবিধ পত্রিকা ও খবর প্রকাশে দেখা যায়, মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে তাঁর আগমন, অবস্থান ও তাঁদের দেশের অনুষ্ঠানসমূহ নির্ধারণ করেছিলেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর সফরকালে ব্যক্তিত্ব, দেশপ্রেম ও মানবিক স্বচ্ছতা প্রকাশ করেছেন যা বাংলাদেশের ও জনমানুষের সম্মান বৃদ্ধি করেছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী- আমরা গর্বিত।
শ্রমবাজার অতিদ্রুত উন্মোচন ও পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে কার্যক্রম বাংলাদেশে রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ব্যালান্স অব পেমেন্ট নিরসনে এই কার্যক্রম ও সরকারের বাজেট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই কার্যক্রম এক বাস্তবমুখী পদক্ষেপ। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে দেশের জিডিপির উন্নয়ন ও ধারাবাহিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাবে।
দ্বিদেশীয় বাণিজ্য সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন যা আঞ্চলিক অর্থনীতির উপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করবে বলে আমি মনে করি।
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান দেশের এক বিশাল অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মালয়েশিয়ার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই মর্মে জনাব তারেক রহমানের সাথে একমত হয়েছেন ও একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক আলোচনা নয় বরং বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।
আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে চীন সফর বাংলাদেশের সার্বিক ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
একই মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর চীনে তাঁর সম্মানে আয়োজিত সকল অনুষ্ঠান বাংলাদেশের জন্য একটি অনন্য সম্মান। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সফর যেন তারেক রহমানের জন্য অপেক্ষা করছিল। তাঁর আগমন যেন চীনে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক আনন্দের অনুভূতি হয়ে থাকবে। তাঁর এই উদ্যোগ বাংলাদেশের বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা বহুমুখী প্রকল্প, উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করছে। নদীভাঙন রোধ, নদীশাসন ও উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও সমঝোতা চুক্তি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
প্রস্তাবিত ১৬/১৭টি চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাঁর এই সফর বাংলাদেশের উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
সামরিক/বেসামরিক স্বার্থ উন্নয়ন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা ও এই সফরের গুরুত্ব অপরিসীম।
বাংলাদেশের জনগণের বন্ধু ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই দুই বন্ধু রাষ্ট্র বরাবর পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি এক শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে বহু নেতা ও প্রাণ অবদান রেখেছেন এবং বহু মুক্তিযোদ্ধা ও মানুষ সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বহু সাধনার মধ্য দিয়েই বাঙালি অর্জন করেছে এই দেশ ও পতাকা। আমার বিশ্বাস জনাব তারেক রহমান এই গর্ব বুকে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। দেশ তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে। নির্বাচন-উত্তর তাঁর পদক্ষেপ প্রশংসা অর্জন করেছে, তাঁর সুচিন্তিত সফর তাঁর উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে আরও জোরদার করেছে বলে আমি মনে করি।
তাঁর এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক ও সফল হোক তবেই বাংলা পাবে তার যোগ্য মর্যাদা ও পূর্ণ হবে স্বাধীনতা।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

