ঢাকা রবিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২১, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

আজ তিন প্রান পুরুষের জম্মদিন


Ekushey Sangbad
একুশে সংবাদ ডেস্ক
০১:১১ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
আজ তিন প্রান পুরুষের জম্মদিন

আজকের এই দিনে ধারাকে নতুন প্রানের সঞ্চারিত ও প্রসারিত করে বাঙালি বাংলার তিন প্রান পুরুষের জম্ম লাভ করে।তারা হলেন, বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়, জন্ম ১৮৯৪;বাঙালি কথাসাহিত্যিক। অরুণাচল বসু, বাঙালি কবি ও অনুবাদক। ১৯৩১- নিমাইসাধন বসু, বাঙালি ইতিহাসবিদ।

জনপ্রিয় ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক হলেও বাংলাদেশ তার ভক্ত অনুরাগী অনেক বেশি।  মূলত উপন্যাস ও ছোটগল্প লিখে খ্যাতি অর্জন করেন। পরিচিত উপন্যাস পথের পাঁচালী ও অপরাজিত। অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে আরণ্যক, আদর্শ হিন্দু হোটেল, ইছামতী ও অশনি সংকেত বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর উপন্যাস পথের পাঁচালী অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় সিনেমা বানান। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার রবীন্দ্র পুরস্কার (মরণোত্তর) লাভ করেন ১৯৫১ সালে, ইছামতী উপন্যাসের জন্য ।এছাড়া তার উল্লেখেযাগ্য উপন্যাসগুলো হল: (বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়) (151)অপরাজিত (26)আদর্শ হিন্দু-হোটেল (11)আরণ্যক (19)ইছামতী (7)চাঁদের পাহাড় (14)দম্পতি (5)দৃষ্টি প্রদীপ (4)দেবযান (17)পথের পাঁচালী (35)মরণের ডঙ্কা বাজে(4)মিসমিদের কবচ (3)সুন্দরবনে সাত বৎসর (3)হীরামানিক জ্বলে (3)গল্প (বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়) (64)
ইত্যাদি।
মৃত্যু ১লা নভেম্বর, ১৯৫০সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

অরুণাচল বসু ( ১২ সেপ্টেম্বর ১৯২৩ - ২৪ জুলাই ১৯৭৫) একজন কবি এবং অনুবাদক। তিনি বর্তমান বাংলাদেশের যশোরের ডোঙ্গাঘাটায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম অশ্বিনীকুমার বসু এবং মাতা লেখিকা সরলা বসু।

অরুণাচল ছোটো থেকেই আঁকা এবং লেখালেখি করতেন। মাত্র ছয়-বছর বয়েসেই কবিতা লেখায় হাতেখড়ি। বেলেঘাটার দেশবন্ধু হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময়ে সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাথে বন্ধুত্ব হয়েছিল। অল্পবয়সেই তিনি কমিউনিস্ট আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন; প্রত্যক্ষ রাজনীতি থেকে সরে আসেন পার্টির বিভাজনের কিছু পরে। তিনি কিছুকাল ‘সোভিয়েত দেশ’ পত্রিকা ফেরি, ‘স্বাধীনতা’ পত্রিকায় প্রুফ রিডারের চাকরি করেছেন, একসময় লন্ড্রি ব্যবসাও চালিয়েছেন।

কবির জীবদ্দশায় মাত্র দুটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল— ‘পলাশের কাল’ ও ‘দূরান্ত রাধা’; এ ছাড়া ‘কবি কিশোর সুকান্ত’ (সরলা বসুর সাথে), ‘সুকান্ত : জীবন ও কাব্য’ প্রভৃতি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। অনুবাদক হিসাবেও তিনি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। মূলত রাশিয়ান কবিতার অনুবাদ করলেও অন্যান্য দেশের কবিতাও অনুবাদ করেছিলেন। প্রায় সাঁইত্রিশ বছর তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এবং পাণ্ডুলিপিতে লেখালেখি করেছেন। এ ছাড়াও তার আঁকা বিভিন্ন পত্রপত্রিকার প্রচ্ছদ আকারে প্রকাশ হয়েছিল। মৃত্যুর প্রায় সাতাশ বছর পরে ‘অরুণাচল বসুর সংকলিত কবিতা’ নামে তার রচিত কবিতা, গান ও অনুবাদ নিয়ে একটি সংকলন প্রকাশিত হয়েছে।

যে সমস্ত পত্রিকায় তার কবিতা প্রকাশ পেয়েছে, তাদের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হ’ল: কিশোর সভা, কিশোর, নতুন দিন, কবিতা, পরিচয়, সৃজনী, কবিকণ্ঠ, সবুজ পত্র, কেতন, দিগন্ত, অগ্রণী, ডাক, প্রান্তিক, নান্দীমুখ, উত্তরসুরি, একক, নতুন সাহিত্য, সীমান্ত, রংমশাল, সঙ্কেত, পদাবলী, স্বাক্ষর, অভিমত, ইস্পাত, বাঙলা দেশ, কালান্তর, রুশভারতী, প্রতীতি, অভিজ্ঞান, সোভিয়েত দেশ, প্রভৃতি।

তার আর একটি পরিচয়— তিনি ছিলেন সংগ্রাহক। বেশ কয়েকটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও দেশ-বিদেশের বেশ কিছু আঁকা ছবির কপি তিনি সংগ্রহ করেছিলেন। তার জীবনের অন্যতম কৃতিত্ব— ‘নতুন সংস্কৃতি’ (সাহিত্য ও সঙ্গীত বিভাগ) নামক সংগঠনটির প্রতিষ্ঠা। সচেতন এক মানবিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার জন্যই তিনি এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলেন। বাংলার সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে ‘নতুন সংস্কৃতি’ এক ঝলক টাটকা বাতাস বয়ে নিয়ে এসেছিল ‘আধুনিক বাংলা কবিতার সঙ্গীতরূপ’ অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে। আধুনিক বাংলা কবিতার সঙ্গীতরূপ দেওয়ার ব্যাপারে তিনিই ছিলেন পথিকৃৎ। শেষজীবনে কবি থেকে তার রূপান্তর ঘটেছিল সংগঠক হিসাবে।

সংকলিত কবিতাসমগ্র
সংকলিত কবিতাসমগ্রগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।:

হাজার বছরের প্রেমের কবিতা (১৯৬১) — সম্পাদনা : অবন্তী সান্যাল (তিনটি জাপানী কবিতার অনুবাদ)
একালের কবিতা (১৯৬৩) — সম্পাদনা : বিষ্ণু দে (কবিতা: তুমি তো আকাশ আজ)
প্রেমের কবিতা (১৯৬৩) — সম্পাদনা : সুকুমার ঘোষ (কবিতা: কত নীল রাত হাওয়ায় হারালো)
মৌন মিছিল (১৯৬৬) — সম্পাদনা : সুবোধ রায়, খাদ্য আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিবেদিত (কবিতা: এত জলে)
সেরা রংমশাল (২০০৩) — সম্পাদনা : পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (কবিতা: গান ও তীর)
প্রকাশনা
তার রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:

পলাশের কাল
দূরান্ত রাধা
কবি কিশোর সুকান্ত
সুকান্ত জীবন ও কাব্য
সংকলিত কবিতা (কবিতা, গান ও অনুবাদ কবিতার সংকলন)সেরিব্রাল থ্রম্বোসিসে আক্রান্ত হয়ে অরুণাচল বসু ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দের ২৪ জুলাই (বাংলা ৭ শ্রাবণ ১৩৮২) তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

নিমাইসাধন বসু জম্ম ১৯৩১ সালে আজকের এইদিনে ।তিনি বিশিষ্ট বাঙালি ইতিহাসবিদ এবং শিক্ষাবিদ।অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। মূলত ইতিহাস, স্বাধীনতা সংগ্রাম, ধর্ম ইত্যাদির উপর লেখা বই নিয়ে তার গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় ৪৩ টি।বিশ্বভারতী নিয়ে তার লেখা গ্রন্থ 'ভঙ্গনীড় বিশ্বভারতী'। 'দ্য ইন্ডিয়ান অ্যাওয়েকেনিং অ্যান্ড বেঙ্গল' গ্রন্থটি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা লাভ করে। তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ গুলি হল-

'ঊনিশ শতক ও বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলন'
'রেসিজিম ইন বেঙ্গল'
'স্বামী বিবেকানন্দ'
'রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের জীবনী'
'মা সারদা'
'দেশনায়ক সুভাষচন্দ্র'
'ইন্ডিয়ান অ্যাওয়েকেনিং অ্যান্ড বেঙ্গল'
'স্ট্রাগল ফর ইকুয়ালিটি অ্যান্ড ইন্ডিয়ান ন্যাশনালিজম'
'শাশ্বত বিবেকানন্দ'
'দেশ কাল মানুষ'
'আমি: ইন্দিরা গান্ধী'
জীবনাবসান
নিমাইসাধন বসু প্রোস্টট সমস্যা নিয়ে কলকাতার এক নার্সিংহোমে ভর্তি হন ২০০৪ খ্রিস্টাব্দের ৮ ই আগস্ট। পরের দিন তার আপাত সফল শল্যচিকিৎসা হয়। কিছু ১৫ আগস্ট থেকে অবস্থা অবনতি হতে শুরু করে এবং শেষে ১৭ ই আগস্ট তার জীবনাবসান ঘটে।

একুশে সংবাদ/মু