ভুয়া স্বাক্ষর ও জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে ট্রান্সকম গ্রুপের বিপুল পরিমাণ শেয়ার আত্মসাতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির সিইও সিমিন রহমানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিকৃত অন্য দুই আসামি হলেন ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা লতিফুর রহমানের স্ত্রী শাহনাজ রহমান এবং পরিচালক সামসুজ্জামান পাটোয়ারী।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার মোট ছয় আসামির মধ্যে তিনজন— ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক মো. কামরুল হাসান, মো. মোসাদ্দেক ও আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক আদালতে হাজির হন। পরে তাদের আইনজীবীরা স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। তবে সিমিন রহমানসহ অপর তিন আসামি অনুপস্থিত থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এ বিষয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন বলেন, আদালতের আদেশের ফলে সিমিন রহমানসহ তিনজন এখন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। আইন অনুযায়ী পুলিশ যে কোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করতে পারবে।
এর আগে গত ১১ জানুয়ারি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই)-এর পরিদর্শক সৈয়দ সাজেদুর রহমান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে সিমিন রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ট্রান্সকম গ্রুপের ১৪ হাজার ১৬০টি শেয়ার আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।
চার্জশিট অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১৩ জুন ঢাকায় ট্রান্সকম লিমিটেডের একটি বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হওয়ার দাবি করা হয়, যেখানে লতিফুর রহমানের শেয়ার হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে তদন্তে উঠে আসে, ওই তারিখে আদৌ কোনো বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। হাজিরা শিটে লতিফুর রহমানকে ছুটিতে দেখানো হলেও তার স্বাক্ষর সংক্রান্ত নানা অসংগতি পাওয়া যায়। একইভাবে বোর্ড সদস্য আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের স্বাক্ষর থাকলেও তিনি সে সময় কুমিল্লায় অবস্থান করছিলেন বলে তদন্তে জানা যায়।
তদন্তে আরও বলা হয়, ওই তথাকথিত বোর্ড সভার মাধ্যমে লতিফুর রহমানের মালিকানাধীন ২৩ হাজার ৬০০ শেয়ারের মধ্যে সিমিন রহমানের নামে ১৪ হাজার ১৬০টি এবং বাকি শেয়ার ভাই ও বোনের নামে হস্তান্তরের নথি তৈরি করা হয়। বাদীপক্ষের দাবি অনুযায়ী, এই সভা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সম্পূর্ণভাবে জাল।
এছাড়া যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি)-তে শেয়ার হস্তান্তরের সময় আইনগত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শেয়ার দাতা ও গ্রহীতা কেউই উপস্থিত না থেকেও শেয়ার হস্তান্তর সম্পন্ন করা হয়, যা ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ৩৮ ধারার পরিপন্থি।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, ভুয়া স্ট্যাম্প ও স্ক্যান করা স্বাক্ষর ব্যবহার করে পারিবারিক ডিড অব সেটেলমেন্ট ও শেয়ার ট্রান্সফারের দলিল তৈরি করা হয়েছে। তদন্তে দেখা যায়, ব্যবহৃত দুটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ২০২৩ সালে তৈরি, যদিও সেগুলোকে ২০২০ সালের বলে দেখানো হয়েছে। ঢাকা জেলা প্রশাসকের দপ্তরের প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভাই-বোনদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি লতিফুর রহমানের কন্যা শাযরেহ হক গুলশান থানায় এ মামলা দায়ের করেন।
একুশে সংবাদ/ এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

