মঙ্গলবার ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা থাকলেও সম্ভাব্য একটি চুক্তির আশায় সেই সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় আরব মিত্রদের অনুরোধে ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর আগে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করলে তাদের আরব মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হবে।
ট্রাম্প এরইমধ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির সময় বাড়িয়েছেন এবং রাজনৈতিকভাবে জটিল হয়ে ওঠা এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতারা তাকে মঙ্গলবারের নির্ধারিত হামলা স্থগিত রাখতে অনুরোধ করেছেন, কারণ বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো গ্রহণযোগ্য চুক্তি না হলে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ‘যেকোনো মুহূর্তে ইরানের ওপর পূর্ণমাত্রার বড় হামলার জন্য প্রস্তুত’ থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরে হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতিতে ‘খুবই ইতিবাচক অগ্রগতি’ দেখা যাচ্ছে। তার দাবি, আরব দেশগুলো এমন একটি চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছে, যা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ থেকে বিরত রাখবে।
যদিও ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ট্রাম্প বলেন, “বড় ধরনের বোমাবর্ষণ ছাড়াই যদি কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়, তাহলে আমি খুব খুশি হব।”
এদিকে ইরান ট্রাম্পের প্রস্তাবিত চুক্তির রূপরেখা আগেই প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে কৌশলগত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং তেহরান নিজেদের উদ্বেগ স্পষ্টভাবে ওয়াশিংটনকে জানিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর কয়েক সপ্তাহ ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা চলে। বর্তমানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি।
সোমবার ইরান ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ নামে নতুন একটি সংস্থা গঠন করেছে, যা হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা দেখবে। একই সঙ্গে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, প্রণালির মধ্য দিয়ে যাওয়া ফাইবার অপটিক ক্যাবলও এখন থেকে ইরানি অনুমতির আওতায় আনা হতে পারে।
অন্যদিকে, কুর্দিস্তান অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। তাদের অভিযোগ, এসব গোষ্ঠী ইরাক সীমান্ত দিয়ে মার্কিন অস্ত্র পাচারের চেষ্টা করছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান একদিকে যেমন উত্তেজনা কমানোর বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে তা তাকে আগের কঠোর অবস্থান থেকে কৌশলগতভাবে সরে আসার সুযোগও করে দিচ্ছে।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

