বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের পদত্যাগ এবং দক্ষিণ লেবাননে চলমান হামলা বন্ধের দাবিতে তেল আবিবের রাজপথে নেমেছেন কয়েকশ বিক্ষোভকারী।
শনিবার (৯ মে) দিবাগত রাতভর চলা এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা সরকারের যুদ্ধনীতি ও অভ্যন্তরীণ বিভাজনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
চলতি বছরের শেষ দিকে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও, ইরান ও লেবানন ইস্যু এবং কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বিক্ষোভ চলাকালীন বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে ৮৩ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত ডেভিড আলকান বর্তমান সরকারকে একটি ‘বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই সরকার জনগণকে প্রতিনিয়ত মিথ্যা এবং বানোয়াট তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে।
আলকান আরও উল্লেখ করেন, বহিরাগত শত্রু ইরানের চেয়েও তিনি ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে দেশের জন্য বড় বিপদ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে কট্টর অর্থোডক্স গোষ্ঠীগুলোর সামরিক সেবা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বিভিন্ন বিতর্কিত প্ল্যাকার্ড বহন করছেন। অনেক প্ল্যাকার্ডে ‘গণহত্যা বন্ধ করো’ এবং ‘৭ অক্টোবর ভুলে যাও’-এর মতো স্লোগান দেখা যায়।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ডাকনাম ‘বিবি’-র সঙ্গে কুখ্যাত কলম্বিয়ান ড্রাগ লর্ড পাবলো এসকোবারের নাম জুড়ে দিয়ে তাকে ‘বিবি এসকোবার’ বলে ব্যঙ্গাত্মক সম্বোধন করতে দেখা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন ও ইরানের সঙ্গে চলমান বহুমুখী সংঘাত এবং দেশের ভেতরে বাধ্যতামূলক সামরিক সার্ভিস নিয়ে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য নেতানিয়াহু প্রশাসনকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
একদিকে আন্তর্জাতিক চাপ এবং অন্যদিকে নিজ দেশের জনগণের এই ধারাবাহিক অসন্তোষ আসন্ন নির্বাচনে বর্তমান ক্ষমতাসীন জোটের জন্য বড় ধরনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

