AB Bank
  • ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

অলি-গলিতে চায়ের দোকানগুলোও ভোট ক্যাম্প



অলি-গলিতে চায়ের দোকানগুলোও ভোট ক্যাম্প

সকাল কিংবা সন্ধ্যা। জেলা ও উপজেলা শহরের অলি-গলিতে পা রাখলে দেখা মেলে একই চিত্র। চায়ের দোকানগুলোতে চলছে নির্বাচনী আলোচনা।

নির্বাচনের আগে থেকেই ভোটাররা অঙ্ক কষছেন কে কাকে ভোট দিবেন। তবে বিপদে আপদে যারা পাশে থাকবেন তাদেরকেই এবার নির্বাচিত করবেন ভোটাররা। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে চলছে মিছিল-মিটিং। ক্যালেন্ডারের পাতায় উল্টোভাবে চলছে দিনক্ষণ গণনা। আর মাত্র ১৪ দিন পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার নির্বাচনী উৎসবের আমেজে ভাসছে চুয়াডাঙ্গা জেলা। ভোটের তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে উৎসবের মাত্রা ও উত্তেজনা।

জেলা-উপজেলা শহরের অলি-গলিতে গড়ে ওঠা চায়ের দোকানগুলো যেন হয়ে উঠেছে এক একটি ভোট ক্যাম্প। গভীর রাত পর্যন্ত জেলা-উপজেলার অলি-গলিতে পা রাখলে দেখা মেলে ভোট উৎসবের চিত্র। জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে গ্রামের চায়ের দোকানগুলোতে বাড়তে শুরু করেছে ভিড়। দোকানিরাও বাড়াচ্ছে কেটলি-কাপের সংখ্যা। নির্বাচনী প্রচারণার মধ্য দিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা হচ্ছে বলে জানালেন স্থানীয় দোকানিরা। কিছুদিন আগে থেকেই দোকানে দোকানে শুরু হয়েছে নির্বাচনী আড্ডা ও তর্ক-বিতর্ক। সারাদিন চলছে কে কোন দলের প্রার্থীর সমর্থক, কোন প্রার্থী কেমন, কার জনপ্রিয়তা বেশি এসব আলোচনা। এমনকি অতীতে কার ভূমিকা কেমন ছিল তা নিয়েও চলে বিশ্লেষণ। নির্বাচনের আগে থেকেই ভোটাররা অঙ্ক কষছেন কে কাকে ভোট দিবেন। তবে বিপদে আপদে যারা পাশে থাকবেন তাদেরকেই এবার নির্বাচিত করবেন ভোটাররা। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে চলছে মিছিল-মিটিং। তবে এবারের নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট।

নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব। যে কোনো নির্বাচন এলেই বাংলাদেশের মানুষ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা এমনকি গ্রামগঞ্জে নির্বাচনী উৎসবের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। নির্বাচনের উন্মাদনার স্রোতে গোটা জাতি ভাসছে। দীর্ঘ দেড় যুগ পর নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে সেই উন্মাদনা চলছে। জেলা শহর থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের হাটবাজার, চায়ের দোকান, সড়কের মোড়সহ যেখানে মানুষের আগাগোনা সেখানেই চলছে ভোটের আলোচনা। কোন দল নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় যাবে, কোন আসনে কোন প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেন; কোন কোন প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে সেগুলো নিয়ে চলছে ভোটারদের মধ্যে হিসেব নিকেষ ও চুলচেরা বিশ্লেষণ। এবারের নির্বাচনে বড় আকর্ষণ মুক্ত পরিবেশে নির্বাচন।

প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই পরের দিন সকাল থেকে প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকরা প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর প্রার্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন, ঘরে ঘরে যাচ্ছেন, উঠোন বৈঠক করছেন। এবারের নির্বাচনে কোন প্রকার বাধাহীনভাবে সর্বস্তরের ভোটার ভোট দিতে পারবেন এমন ভাবনা থেকে সাধারণ মানুষ আনন্দে উদ্বেলিত।

চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, এমন কোন চা দোকান নেই যেখানে ৮-১০ জন লোকের উপস্থিতি নেই। প্রতিটি দোকানেই একই আলোচনা জাতীয় নির্বাচন। শীতের আমেজে চায়ের চুমুকে চুমুকে চলছে ভোটের আলাপ। গরম চায়ে চুমুকের সাথে আলোচনা-সমালোচনায় সরগরম হয়ে উঠছে প্রতিটি চা দোকান। কেউ বা বিকাল থেকে এক বসাতেই পার করছেন রাত ১০ টা। আবার কেউবা এক দোকান থেকে অন্য দোকান। তবে সকল ভোটারদের একটাই প্রত্যাশা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোট গ্রহণ।

বুধবার জীবননগর উপজেলার রায়পুর বাজারের বিভিন্ন চা দোকানে গিয়ে দেখা যায় চা সেবীদের আড্ডা। বাজারের দক্ষিণ পাশের একটি চা দোকানে অন্তত ১০-১২ জন মধ্য বয়সী ভোটার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করছেন। দোকানি একের পর এক চা তৈরি করে তাদের মাঝে সরবরাহ করছেন। এর আগে হাসাদাহ বাজারের একটি চায়ের দোকানে দেখা যায় ভোটাররা নির্বাচনী আলোচনায় ব্যস্ত। গ্রামের এমন কোন চা দোকান নেই যেখানে মানুষের ভীড় নেই।

মাধবপুর বাজারে একটি চায়ের দোকানে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে ভোটের হালচাল নিয়ে আলোচনা করছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার আলোচানায় যুক্ত হয়েছেন স্থানীয় আরও কয়েকজন। চা খেতে খেতে কথা হয় তরিকুল ইসলামের সঙ্গে।

তিনি বলেন, পুরো দেশেই এখন ভোট আর রাজনৈতিক আলোচনা। আামদের দেশের মানুষ রাজনৈতিক বিষয়ে খুবই আগ্রহী।

চায়ের দোকানি মিজানুর রহমান বলেন, নির্বাচনী হাওয়া শুরুর পর থেকেই চা বিক্রি বেড়ে গেছে। কারণ সবাই এসে স্টলে বসে নির্বাচন, রাজনীতি নিয়ে আলোচনা আর একের পর এক চা খাচ্ছে। প্রত্যাশা শুধু একটাই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের পরিবেশ চান ভোটররা। আর এসব আলোচনার ঝড় বইছে এখন সকল চা দোকানে।

পিয়ারাতলার চা দোকানি হাসেম আলী বলেন, শুধু নির্বাচন নিয়েই আমার দোকানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আলোচনা হয়। বর্তমানে এখানে আর কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। এই ফাঁকে চা বিক্রিও বেড়েছে। আগে সারা দিনে ২ ক্যাটলি চা বিক্রি হতো। এখন অন্তত ১০ ক্যাটলি চা বিক্রি হয়।

সীমান্তবর্তী বেনীপুর বাজারের চা দোকানি মাজেদুর বলেন, কয়েকদিন আগে ৪ টি নতুন কেটলি ও ১০০ পিস চায়ের কাপ কিনেছি।

আবিদ আলী নামের এক যুবক বলেন, ভোটের মাঠে এবার খেলা জমবে। আগের মতো কেউ ফাঁকা মাঠে গোল দিতে পারবে না। লড়াই হবে এবার সেয়ানে-সেয়ানে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের মধ্য দিয়ে সৎ ও আদর্শবান প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চায় সাধারণ ভোটাররা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন করার উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে নির্বাচন পাগল মানুষ নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে মেতে উঠেছেন।

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে স্থায়ী ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৭৪টি, মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৬ হাজার ৭১৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৩৬ জন  এবং হিজড়া ভোটার ৪ জন রয়েছে।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!