আমীরে হিযবুল্লাহ ও ছারছীনা দরবার শরীফের পীর সাহেব আলহাজ হযরত মাওলানা শাহ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা.জি.আ.) বলেছেন, “আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। অন্যের ছত্রছায়ায় নয়, স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা দ্বীন ইসলাম নিয়ে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে চাই।”
শনিবার (২৭ জুন) ছারছীনা দরবার শরীফে মরহুম পীর সাহেব বাহরে শরীয়ত হযরত মাওলানা শাহ মোহাম্মদ মোহেব্বুল্লাহ (রহ.)-এর দ্বিতীয় ইন্তেকালবার্ষিকী, তিন দিনব্যাপী বিশেষ তা’লীমি জলসা এবং বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সাংগঠনিক প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে আখেরি মোনাজাত-পূর্ব আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
পীর সাহেব বলেন, ইয়াওমে আশুরা ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। তিনি বলেন, অনেকেই কারবালার ঘটনার কারণে এ দিনের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন। তবে আশুরার ফজিলত ঐতিহাসিকভাবে পূর্ব থেকেই প্রতিষ্ঠিত। তিনি আরও বলেন, “যে অপরাধ করেছে, তার দায় তাকেই বহন করতে হবে। ইয়াজিদের অপরাধের জন্য কোনো সাহাবির সম্মানহানি করা উচিত নয়। হযরত মুয়াবিয়া (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একজন জালিলুল কদর সাহাবি ও কাতিবে ওহি ছিলেন। তাঁর সমালোচনা হক আকিদার পরিপন্থী।”
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্বার্থান্বেষী একটি মহল বিভিন্নভাবে দেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা না নিয়ে একই ভুলের পুনরাবৃত্তি হলে জনগণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এ দেশ পীর-মাশায়েখদের দেশ। যাঁদের মাধ্যমে এ দেশে ইসলামের প্রসার ঘটেছে, তাঁদের পরিবর্তে ভ্রান্ত আকিদার নামধারী আলেমদের প্রচার-প্রচারণা বাড়ছে। এদের থেকে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুর বলেন, “দ্বীন ইসলামের খেদমতে ছারছীনা দরবার শরীফের অবদান অনস্বীকার্য। যুগ যুগ ধরে এ দরবার ইসলামের সঠিক শিক্ষা প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। দেশনেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা ধর্মীয় সহনশীলতাভিত্তিক একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই।”
পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এ.বি.এম. মোশাররফ হোসেন বলেন, “ছারছীনা দরবার শরীফ ও বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহ আকিদার প্রশ্নে সব সময় দৃঢ় অবস্থানে থেকেছে। দেশের বর্তমান সরকার গঠনে দরবারের অনুসারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।”
ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, “বর্তমান সময়ে ইসলামের সঠিক শিক্ষা ও আকিদা বিষয়ে ছারছীনা দরবার শরীফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দ্বীন ইসলামের খেদমতে এ দরবারের অবদান সর্বজনস্বীকৃত।”
পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলাল বলেন, “ছারছীনা দরবার শরীফ আধ্যাত্মিক শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও ইসলামের খেদমতে এ দরবারের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সিনিয়র নায়েবে আমির আলহাজ হযরত মাওলানা হাফেজ শাহ আবু বকর মোহাম্মদ ছালেহ নেছারুল্লাহ, নায়েবে আমির মাওলানা মির্জা নূরুর রহমান বেগ, অধ্যক্ষ আ.খ.ম. আবু বকর সিদ্দিক, নাজেমে আ’লা ড. সৈয়দ মুহাম্মদ শরাফত আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মো. হেমায়েত বিন তৈয়্যেব, ঝালকাঠি জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. হাফেজ মো. রুহুল আমিন, ছারছীনা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. রুহুল আমিন আফসারী, ছারছীনা দারুসসুন্নাত জামেয়া-এ-নেছারিয়া দীনিয়ার মুদির মাওলানা মাহমুদুম মুনীর হামীম, মির্জা শোয়াইবুর রহমান বেগসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আলেম ও অতিথিরা।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

