পাবনার ফরিদপুর উপজেলার প্রত্যন্ত জন্তিহার গ্রামে অবস্থিত ১৩৯ বছরের পুরোনো জন্তিহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান ও ফলাফলের সুনাম থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে থাকা একটি পানিপূর্ণ খাল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১৮৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির মোট জমির একটি উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে রয়েছে একটি খাল। সারা বছর পানিপূর্ণ না থাকলেও বর্ষা মৌসুমে খালটি কানায় কানায় ভরে যায়। বিদ্যালয়ের ভবন ও খেলার মাঠের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই খালের কারণে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীকে ঝুঁকির মধ্যেই পাঠদান কার্যক্রমে অংশ নিতে হচ্ছে।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে দুইটি প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিসহ প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৩২৩ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। তাদের অধিকাংশই সাঁতার জানে না। ফলে টিফিনের সময় বা খেলাধুলার ফাঁকে অসাবধানতাবশত খালে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান ভবনের পাশেই রয়েছে খালটি। এর চারপাশে কোনো নিরাপত্তাবেষ্টনী নেই। বিদ্যালয়ের প্রবেশপথে শিশুদের জন্য স্থাপন করা একটি স্লাইডও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। স্লাইডটির নিচের অংশ থেকে অল্প দূরত্বেই খাল থাকায় শিশুদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
স্থানীয় অভিভাবক মিলন সরদার বলেন, “বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মান ভালো হওয়ায় সন্তানদের এখানে ভর্তি করেছি। কিন্তু খালটির কারণে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। অনেক সময় ক্লাস চলাকালেও এসে খোঁজ নিতে হয়।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. আসমা বেগম বলেন, “আমাদের ছোট শিশুদের নিয়ে কাজ করতে হয়। সব সময়ই আশঙ্কায় থাকি, কোনো শিশু পা পিছলে বা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে যায় কি না। তাই পাঠদানের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক তাদের ওপর নজর রাখতে হয়।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও বি.এল. বাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস. এম. আবু যুবাইর হেলাল বলেন, “খালটির চারপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা অথবা খালটি ভরাট করে খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করার মতো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা আরও নিরাপদ পরিবেশে পাঠ গ্রহণ করতে পারবে।”
স্থানীয়দের দাবি, একটি ঐতিহ্যবাহী ও সফল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

