চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার চরাঞ্চলে মেঘনা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের ঈশানবালা এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনে ঈশানবালা লঞ্চঘাটের সংযোগ সড়কের প্রায় ৬০ ফুট অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। একই সঙ্গে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফসলি জমি, গাছপালা ও বসতভিটা একের পর এক নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে।
ভাঙনের কারণে আব্বাছ সরদার, শাহাজান গোলদারসহ অনেক পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ আবাদি জমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, অবশিষ্ট জমি ও ঈশানবালা বাজার রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে নদীতীরে জিওব্যাগ ডাম্পিং এবং স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিবছরই ভাঙনের আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে।
এদিকে ভাঙন তীব্র হওয়ায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের চলাচলও হুমকির মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে নীলকমল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনির শিকদার বলেন, “সরকার নদীভাঙন রোধে আন্তরিক। কিন্তু এবার মেঘনার ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বর্ষার আগেই ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে নীলকমল ইউনিয়ন ও ঈশানবালা এলাকার বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ভাঙন রোধে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

