খেতাবপ্রাপ্ত ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ এবং মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত “বাংলাদেশের আর্থসামাজিক মান উন্নয়নে কল্যাণ ট্রাস্টের ভূমিকা” শীর্ষক ছয় দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণ, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ এবং জাতীয় উন্নয়নে মুক্তিযোদ্ধাদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
কর্মশালায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সার্বিক উন্নয়ন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সংরক্ষণে ৭ দফা প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়।
প্রস্তাবনাগুলো উপস্থাপন করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. সোলাইমান মিয়া, মহাসচিব শফিকুল ইসলাম (বাবু), কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি চৌধুরী আ. জ. ম. খায়রুল বাশার (রনি), উপ-প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম, গাজীপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক মো. আলমগীর হোসেন জাকির এবং উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে রাষ্ট্র গঠনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁরা শুধু ইতিহাসের অংশ নন, বরং জাতির নৈতিক শক্তি ও প্রেরণার উৎস। তাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং তাঁদের পরিবারের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের মহাসচিব শফিকুল ইসলাম (বাবু) বলেন, “প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে। ইতিহাস বিকৃতি রোধ করে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক চেতনা পৌঁছে দেওয়া সময়ের দাবি। উপস্থাপিত ৭ দফা প্রস্তাবনা দ্রুত বাস্তবায়িত হবে বলে আমরা আশা করি।”
কর্মশালায় বক্তারা আরও বলেন, দেশ বর্তমানে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি অপশক্তির ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও চেতনা সংরক্ষণে গবেষণা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা ও স্মৃতিচিহ্ন অবহেলা ও ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে। এসব স্থাপনার পুনঃস্থাপন, সংরক্ষণ এবং নিয়মিত তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
কর্মশালায় মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের গবেষণা কার্যক্রম জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া, বেদখল ও অচল সম্পত্তি পুনরুদ্ধার এবং জীবিত মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের সমন্বয়ে কল্যাণমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের চেয়ারম্যান মো. সোলাইমান মিয়া বলেন, “উপস্থাপিত প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়িত হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাস সংরক্ষণের পাশাপাশি জাতীয় অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হবে।”
সংগঠনের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মহিষখলায় ২০১২ সালে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধটি এখনো পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার বাইরে রয়েছে। সেখানে প্রতিরক্ষা দেয়াল ও স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী নিয়োগের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।”
কর্মশালায় বক্তারা মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণে সামাজিক দায়িত্ববোধ, আত্মসচেতনতা এবং সমন্বিত উদ্যোগ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থে দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উপস্থাপিত প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

