AB Bank
  • ঢাকা
  • রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র শিল্প প্রতিষ্ঠান-স্থাপনা



নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র শিল্প প্রতিষ্ঠান-স্থাপনা

মৌলভীবাজারে গত কয়েক বছর ধরে কৃষিজমিগুলো গিলে খাচ্ছে আবাসন, ইটভাটা, কলকারখানা, সড়ক, দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা।

জেলাজুড়েই ফসলি জমি ভরাট করে বানানো হচ্ছে শিল্প প্রতিষ্ঠান, ইটভাটাসহ অন্যান্য স্থাপনা। আবার কৃষিজমি নিধন করে চলছে পুকুর খননের মহাযজ্ঞ। কৃষিজমি রক্ষায় আইন ও সরকারি বিধিবিধান থাকলেও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই যত্রতত্র নির্মাণ হচ্ছে শিল্প প্রতিষ্ঠান ও পুকুর-ফিশারি।

এতে কমছে আবাদযোগ্য কৃষি জমি ও ফসল উৎপাদন। এ জেলার অধিকাংশ জমি দুই এবং তিন ফসলি। কৃষি অর্থনীতির বড় অংশজুড়েই জেলার প্রভাব রয়েছে। কৃষি জমি রক্ষায় আইন থাকলেও নেই যথাযত প্রয়োগ। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, কয়েক বছর ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষি জমি খনন করে পুকুর, ফিশারির পাশাপাশি ভিটাবাড়ি, ইটভাটা, দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে গত ছয় বছরে জেলায় ৭০০ একর কৃষি জমি কমেছে।

২০১৯ সালে জেলায় কৃষি জমির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩১ একর। ২০২৪ সালে তা কমে হয় ৪ লাখ ২২ হাজার ৮ একর।

ভূমি ব্যবহার ও সেচ পরিসংখ্যান জরিপ সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারে ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ৭০০ একর কৃষিজমি কমেছে। জেলার শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, সদর উপজেলাসহ বড়লেখার হাকালুকি, হাইল, কেওলার হাওরসহ বিভিন্ন এলাকায় জমি ভরাটের মহোৎসব দেখা গেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, শহর থেকে শুরু করে গ্রামীণ সড়কের পাশে জমি ভরাট করে গড়ে তোলা হচ্ছে বসতঘর ও  দোকানপাট।

এমনকি হাওরের জমিও ভরাট করা হচ্ছে। মানা হচ্ছে না কোনো নিয়ম বা ভূমি সুরক্ষা আইন। কয়েক বছর আগেও যেসব জমিতে তিন ফসল হতো, সেসব এখন ভরাট হয়ে গেছে। এসব জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে বসতঘর, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

এতে একদিকে কমছে ফসলি জমি, অন্যদিকে ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের। এছাড়া অনেক জমির মালিক অল্প কিছু টাকার জন্য জমির ওপরের স্তরের মাটি কেটে বিক্রি করছেন বিভিন্ন ইটভাটার মালিকদের কাছে।

আইন অনুসারে ব্যক্তিমালিকানাধীন বা যেকোনো জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট পৌরসভা, উপজেলা প্রশাসন বা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অনুমতি নিতে হবে। সড়কের পাশে বাড়িঘর নির্মাণ করা হলে অবশ্যই জায়গা রেখে স্থাপনা তৈরি করতে হবে।

কৃষিজমিতে নানা স্থাপনা গড়ে তোলা ব্যক্তিদের মতে, এখন জমিতে কৃষি চাষ করে লাভ হয় না। এর চেয়ে জমি ভরাট করেদোকান বা বাসাবাড়ি নির্মাণ করলে একদিকে জমির দাম বাড়ে, অন্যদিকে ভাড়া পাওয়া যায়। এছাড়া অনেকের আগে পরিবারের সদস্যসংখ্যা কম ছিল, যা এখন বেড়েছে। এজন্য অনেকে নতুন বাড়িঘর নির্মাণ করছেন।

মৌলভীবাজার জেলা পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নূরুল মুহাইমিন মিল্টন বলেন, কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইন থাকলেও এর কোনো কার্যকর প্রয়োগ নেই আমাদের দেশে। এই আইন অল্প পরিসরে বাস্তবায়িত হলেও কিছুটা কৃষিজমি রক্ষা করা যেত।  

যেভাবে জমি ভরাট করা হচ্ছে, তাতে করে একসময় খাদ্যের অভাব দেখা দিতে পারে। সময় যত যাচ্ছে, কৃষিজমি ভরাটের প্রবণতা বাড়ছে। যে যার ইচ্ছেমতো এই কাজ করছে।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, দিন যত যাচ্ছে জেলায় বিভিন্ন স্থাপনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কমছে কৃষি জমি। এভাবে জমি কমলে হুমকিতে পড়বে ফসল উৎপাদন। দেশে কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইনটি যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হলে কৃষি জমি রক্ষা করা যেত।

তিনি আরো বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে কৃষিজমি ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে। অনেকের পরিবার বড় হয়েছে, এ জন্য নতুন করে ঘরবাড়ি নির্মাণের প্রয়োজন হচ্ছে। আমাদের সবাইর্কে মিলে কৃষিজমি রক্ষা করে স্থাপনা তৈরি করতে হবে।

আমাদের দেশে কৃষিজমি ভরাটের বিষয়ে আইন হলো, স্থাপনা নির্মাণের আগে অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে। তবে এই আইন কেউ মানতে চান না।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাবাংলা

Link copied!