যশোরের অভয়নগর উপজেলার খাদিজা খানম এখন সফল একজন নারী উদ্যোক্তা। তাকে দেখে উৎসাহিত হচ্ছেন অনেক নারী।
সংসারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজ চেষ্টায় গড়ে তুলেছেন হোম মেড কেক বিক্রি ও কেক তৈরির সামগ্রী বিক্রির একটি দোকান, সাথে নতুন নারী উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে হোম মেড কেক তৈরির প্রশিক্ষণ ও দিচ্ছেন।
জানা যায়, খাদিজার ব্যবসার সুনাম রয়েছে উপজেলা ব্যাপি । সংসারের কাজের ফাঁকে নিজ প্রচেষ্টায় গড়ে তুলেছেন "বিসমিল্লাহ বেকিং কর্নার " নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান ও হোম মেড কেক বিক্রি করে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন স্বাবলম্বী নারী হিসেবে। কিন্তু তার এই ব্যাবসা শুরুর পথ মসৃণ ছিলো না। সল্প পুজি, সামাজিক বাধা, ব্যাবসায়িক অনভিজ্ঞতাকে প্রচন্ড মানষিক শক্তি ও পরিশ্রম দিয়ে জয় করতে হয়েছে তাকে।
খুলনা বি,এল কলেজ থেকে মাস্টার্স পাশ করা খাদিজার স্বামী মাহবুবুর রহমান বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মরত। তাদের দাম্পত্য জীবনে ৮ম শ্রেণী পড়ুয়া এক কন্যা সন্তান রয়েছে।
সোমবার (২৯শে ডিসেম্বর) সকালে নওয়াপাড়া মডেল স্কুল রোডে অবস্থিত খাদিজার প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ বেকিং কর্নারে যেয়ে দেখা যায় কেক তৈরির সামগ্রী বিক্রি করছেন তিনি।
এসময় তিনি বলেন, একসময় পড়া লেখা করে সংসারের দায়িত্ব পালন করে চাকরি করার সুযোগ কম ছিল।সেই জন্য নিজ উদ্যোগে আমি কেক বানানো শিখি। প্রথমে সল্প পরিসরে শুরু করেছিলাম। তারপর পারিবারিক ভাবে আলোচনা করে স্বামীর উৎসাহে হোম মেড কেকের ব্যাবসা শুরু করি। এখন কেক তৈরির পাশাপাশি এই উপজেলায় অনান্য মহিলা উদ্যোক্তাদের কাছে বেকিং সামগ্রী সহজলভ্য করার জন্য এই দোকানটি দিয়েছি। পাশাপাশি নতুন নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে তাদের কেক তৈরির প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।
এক প্রশ্নের জবাবে, খাদিজা বলেন, কেক সাধারণত শিশু-কিশোররা মজা করে খেতে পছন্দ করে। সেই দিকটা বিবেচনা করে তিনি কেক তৈরি করি। কেকের মূল উপাদান ক্রিম, রঙ ও চকলেট যাতে শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য কোন প্রকার ঝুকিপূর্ণ না হয়, সে জন্য উন্নত মানের উপাদান ব্যবহার করে থাকি ও আমার দোকানেও উন্নত মানের কেক তৈরির সামগ্রী বিক্রি করি।
তিনি আরও বলেন, স্বামীর পাশাপাশি অর্থনৈতিক ভাবে পরিবারে অবদান রাখতে পেরে নিজের কাছে অনেক ভালো লাগে। নিজের ও পরিবারের অনেক ইচ্ছে নিজেই পুরন করতে পারি। ইচ্ছে আছে ব্যবসার পরিসর আরও বড় করার। সে জন্য সরকারি সহায়তা পেলে আমার জন্য সহজ হতো।
তার দোকানে বেকিং সামগ্রী কিনতে আসা অন্য এক নারী উদ্যোক্তা লিলি
বলেন, এমন উপজেলা শহরে নারীদের দোকান পরিচালনা করা খুব একটা সহজ না। তিনি সাহস করে একটি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন, সেটা আমাদের অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।
অভয়নগর উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা রাজ কুমার পাল বলেন, সামাজিক অনেক বাধাবিপত্তি জয় করে খাদিজা নারী উদ্যোক্তা হয়েছেন। অদম্য সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে এখন তিনি অনান্য নারীদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সমাজে এমন উদ্যোক্তা আরও গড়ে উঠুক এবং তাদের সার্বিক সহযোগিতা করতে আমরা সচেষ্ট আছি।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

