AB Bank
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
ekusheysangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

১৮ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি দুর্নীতির ৪১৭ মামলা


Ekushey Sangbad
মুহাম্মদ আসাদ
০৯:১৬ পিএম, ১১ মে, ২০২৩
১৮ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি দুর্নীতির ৪১৭ মামলা

অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ১৮ বছর কিংবা তারও আগে দায়ের হওয়া ৪১৭টি মামলার বিচার প্রক্রিয়া এখনো শেষ করতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব মামলার মধ্যে ১১৭টি ঢাকার বিচারিক আদালতে এবং ৩০০টি দেশের অন্যান্য আদালতে বিচারাধীন। তবে আদালতের আদেশে ১৮৬টি মামলার কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

 

জানা গেছে, দুর্নীতি দমন আইন হয় ১৯৫৭ সালে। এরপর এই আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠা করা হয় দুর্নীতি দমন ব্যুরো। একজন চেয়ারম্যান ও দুজন কমিশনারসহ কিছু কর্মকর্তাকে প্রেষণে নিয়োগ দিয়ে ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দুর্নীতি দমন ব্যুরোকে শক্তিশালী করে। এরপর অভিযোগ ওঠে সরকারবিরোধীদের দমন করতেই এ প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিতর্ক অবসানে ২০০৪ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন করা হলে দুর্নীতি দমন ব্যুরো বিলুপ্ত করে একই বছরের ২১ নভেম্বর গঠন করা হয় স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন। গত ২১ নভেম্বর কমিশনের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে দুদক। কিন্তু সেই দুর্নীতি দমন ব্যুরোর সময়ে হওয়া ৪১৭টি মামলা বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। ব্যুরো বিলুপ্তির পর সেই আমলের রেখে যাওয়া ৯ হাজার ৭০টি অভিযোগ এবং ৪ হাজার ৬৯৪টি মামলার দায়িত্ব পড়ে দুদকের হাতে। অভিযোগগুলো থেকে মাত্র ৭ শতাংশ মামলা হয়। পরবর্তী সময়ে অধিকাংশ মামলা নিষ্পত্তি হলেও বেশ কিছু মামলা অনিষ্পন্ন থেকে যায়।

 

দুদক জানায়, ব্যুরোর আমলে দায়ের হওয়া মামলার মধ্যে অধিকাংশ মামলা নিষ্পত্তি শেষে ২০২০ সালে মোট অনিষ্পন্ন মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৫১টি। এ ছাড়া ওই বছর বিচারাধীর মামলার সংখ্যা ছিল ২৪৯টি। স্থগিত মামলা ছিল ২০২টি। এগুলোর মধ্যে ২০২০ সালে ২১টি মামলা নিষ্পত্তি হয়। এর মধ্যে ১০টি মামলায় সাজা হলেও বাকি ১১ মামলার আসামিরা খালাস পান।

 

এরপর গত বছর ব্যুরোর আমলের পুরনো মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৩৬টি। তার মধ্যে ওই বছর বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ২৪৩টি এবং স্থগিত মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ১৯৩টি। একই বছর মাত্র ১০টি মামলা নিষ্পত্তি হলেও তার মধ্যে ৩টি মামলায় সাজা হয়, বাকি ৭টি মামলা থেকে আসামিরা খালাস পান।

 

এসব পুরনো মামলা নিষ্পত্তি করতে দুদক কেন পদক্ষেপ নিচ্ছে না, এমন প্রশ্ন তুলেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি  বলেন, এর জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো মাপকাঠি নির্ধারণ করে তারা যদি সেসব মামলা নিষ্পত্তি করত, তা হলে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা যেত। সেটা না করলে বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যায়।

 

দুদকের পুরনো মামলার বিষয়ে ঢাকা দায়রা জজ আদালতে দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর  বলেন, এসব পুরনো মামলায় অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষী পাওয়া যায় না। যখন মামলাগুলো দায়ের হয়েছিল, তখনই আসামিপক্ষ কোনো আবেদন দিয়ে হাইকোর্টে স্থগিত করে রেখেছে। এখন হাইকোর্ট নিষ্পত্তি করে বিচারিক আদালতে মামলাগুলো পাঠাচ্ছে, কিন্তু সাক্ষী তো থাকতে হবে।

 

যে মামলার সাক্ষী পাওয়া যায় না সেগুলোর ভবিষৎ কী, এমন প্রশ্নে এই আইনজীবী বলেন, ‘সেগুলো তারিখের পর তারিখ পড়তে থাকে। এরপর এক পর্যায়ে কোর্টের বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর হয়তো আসামি বেঁচে থাকলে খালাস পায়, বেঁচে না থাকলে মামলা ক্লোজ করে দেওয়া হয়।’

 

এ বিষয়ে দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন,  কোনো মামলাই পড়ে থাকবে না, আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি মামলাগুলোর তদন্ত শেষ করতে। আর যেসব মামলা স্থগিত আছে, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সেগুলো নিষ্পত্তি করা হবে।

 

একুশে সংবাদ/আ.জ.প্র/জাহাঙ্গীর

Link copied!